Hi

১২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীতে সাপে কাটা যুবককে ঝাড়ফুঁকে জীবিত করার চেষ্টা, এলাকায় চাঞ্চল্য

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সাপের কামড়ে মৃত এক যুবককে তন্ত্রমন্ত্র ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে জীবিত করার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের জুরাবান্ধা মালিপাড়া গ্রামে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মৃত বিজয় রায় (২০) ওই গ্রামের বিপুল রায়ের ছেলে। সম্প্রতি মনসার গানের মঞ্চে সাপ নিয়ে খেলা দেখানোর সময় তিনি দংশনের শিকার হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শুক্রবার সকালে বিজয়ের মরদেহ বাড়িতে আনার পর স্থানীয়রা লাশের পাশে একটি সাপ দেখতে পান। এরপরই গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, শরীর থেকে বিষ তোলার জন্যই সাপটি এসেছে। এই বিশ্বাস থেকে দুই ঘণ্টাব্যাপী তান্ত্রিকের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক ও তন্ত্রমন্ত্র পড়ানো হয়। বিজয়ের বাবা বিপুল রায় জানান, চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করলেও স্বজনদের মনে আশা ছিল ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে হয়তো বিজয় প্রাণ ফিরে পাবে। তবে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও কোনো ফল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মরদেহ দাহ করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দূরদূরান্ত থেকে শত শত মানুষ ভিড় করেন। উপস্থিত উৎসুক জনতার অনেকে জানান, সিনেমা বা টেলিভিশনের পর্দায় সাপে কাটা মৃত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে জীবিত হতে দেখে তারা বিষয়টি নিজ চোখে দেখতে এসেছেন। তবে বাস্তবতার সঙ্গে পর্দার অভিনয়ের যে পার্থক্য রয়েছে, তা নিয়ে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।

একই দিনে কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল বৈদ্যপাড়া এলাকায় আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। আব্দুর রহিমের ১০ বছর বয়সী মেয়ে রোহানা আক্তার রুনা ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ের শিকার হয়। তীব্র যন্ত্রণায় শিশুটি চিৎকার দিলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব এ ধরনের কুসংস্কারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, সচেতনতার অভাবেই মৃত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁক দিয়ে বাঁচানোর মতো অবৈজ্ঞানিক চেষ্টা করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর গফুর পৃথক দুটি মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাপের কামড়ে দুই জনের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের কুসংস্কার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে একই দিনে বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল বৈদ্যপাড়া এলাকার আব্দুর রহিমের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে রোহানা আক্তার রুনাকে (১০) ঘুমন্ত অবস্থায় সাপে কামড় দেয়।

কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর গফুর জানান, সাপের কামড়ে পৃথক স্থানে ২ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি।

তাদের ধারণা, টিভির পর্দার মতো বাস্তবেও সর্প দংশনে মৃত্যু ব্যক্তি জীবিত হয়ে উঠবে।

খেলা প্রদর্শন শেষে সাপটি বাক্সে রাখার সময় ওই যুবককে সাপ কামড় দেয়।

শুক্রবার দুপুরে ঝাড়ফুঁকে কাজ না হওয়ায় পরে দাহ কার্য সম্পন্ন করা হয়।

পরিবারের সদস্যদের ধারণা ছিল, ওঝা দিয়ে তন্ত্রমন্ত্র পড়া ও ঝাড়ফুঁক করলে বিজয় আবার জীবিত হয়ে উঠবে।

টিভির পর্দার অভিনয় আর বাস্তব এক নয়।

এ ধারণাটি সর্ম্পকে সকলকে সচেতন করা উচিত।

জনপ্রিয়

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসে ৫০০ শয্যার নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নীলফামারীতে সাপে কাটা যুবককে ঝাড়ফুঁকে জীবিত করার চেষ্টা, এলাকায় চাঞ্চল্য

আপডেট : ১১:৩০:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সাপের কামড়ে মৃত এক যুবককে তন্ত্রমন্ত্র ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে জীবিত করার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের জুরাবান্ধা মালিপাড়া গ্রামে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মৃত বিজয় রায় (২০) ওই গ্রামের বিপুল রায়ের ছেলে। সম্প্রতি মনসার গানের মঞ্চে সাপ নিয়ে খেলা দেখানোর সময় তিনি দংশনের শিকার হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শুক্রবার সকালে বিজয়ের মরদেহ বাড়িতে আনার পর স্থানীয়রা লাশের পাশে একটি সাপ দেখতে পান। এরপরই গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, শরীর থেকে বিষ তোলার জন্যই সাপটি এসেছে। এই বিশ্বাস থেকে দুই ঘণ্টাব্যাপী তান্ত্রিকের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক ও তন্ত্রমন্ত্র পড়ানো হয়। বিজয়ের বাবা বিপুল রায় জানান, চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করলেও স্বজনদের মনে আশা ছিল ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে হয়তো বিজয় প্রাণ ফিরে পাবে। তবে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও কোনো ফল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মরদেহ দাহ করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দূরদূরান্ত থেকে শত শত মানুষ ভিড় করেন। উপস্থিত উৎসুক জনতার অনেকে জানান, সিনেমা বা টেলিভিশনের পর্দায় সাপে কাটা মৃত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে জীবিত হতে দেখে তারা বিষয়টি নিজ চোখে দেখতে এসেছেন। তবে বাস্তবতার সঙ্গে পর্দার অভিনয়ের যে পার্থক্য রয়েছে, তা নিয়ে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।

একই দিনে কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল বৈদ্যপাড়া এলাকায় আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। আব্দুর রহিমের ১০ বছর বয়সী মেয়ে রোহানা আক্তার রুনা ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ের শিকার হয়। তীব্র যন্ত্রণায় শিশুটি চিৎকার দিলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব এ ধরনের কুসংস্কারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, সচেতনতার অভাবেই মৃত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁক দিয়ে বাঁচানোর মতো অবৈজ্ঞানিক চেষ্টা করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর গফুর পৃথক দুটি মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাপের কামড়ে দুই জনের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের কুসংস্কার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে একই দিনে বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল বৈদ্যপাড়া এলাকার আব্দুর রহিমের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে রোহানা আক্তার রুনাকে (১০) ঘুমন্ত অবস্থায় সাপে কামড় দেয়।

কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর গফুর জানান, সাপের কামড়ে পৃথক স্থানে ২ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি।

তাদের ধারণা, টিভির পর্দার মতো বাস্তবেও সর্প দংশনে মৃত্যু ব্যক্তি জীবিত হয়ে উঠবে।

খেলা প্রদর্শন শেষে সাপটি বাক্সে রাখার সময় ওই যুবককে সাপ কামড় দেয়।

শুক্রবার দুপুরে ঝাড়ফুঁকে কাজ না হওয়ায় পরে দাহ কার্য সম্পন্ন করা হয়।

পরিবারের সদস্যদের ধারণা ছিল, ওঝা দিয়ে তন্ত্রমন্ত্র পড়া ও ঝাড়ফুঁক করলে বিজয় আবার জীবিত হয়ে উঠবে।

টিভির পর্দার অভিনয় আর বাস্তব এক নয়।

এ ধারণাটি সর্ম্পকে সকলকে সচেতন করা উচিত।