মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যেই একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক চুক্তির রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা অর্জিত হওয়ায় ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক ডামাডোলের পোস্টে তিনি জানান, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য আঞ্চলিক অংশীদারদের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই চুক্তির মূল ভিত্তির মধ্যে রয়েছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করা এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদী হুমকি চিরতরে অবসান করা।
এর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল যে, যেকোনো মুহূর্তে ইরানে বড় ধরনের বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন। এমনকি শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে অঞ্চলটি ত্যাগ করার বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার কঠোর সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দেয় এবং তেলের দাম আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সজ্জিত ছিল, তবে একটি ফলপ্রসূ ও দ্রুত চুক্তির পথ উন্মুক্ত রাখতেই এই সাময়িক নমনীয়তা প্রদর্শন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত জুন মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত কূটনৈতিক বিরতি এলেও জুলাইয়ের শুরুতে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায় এবং দুই দেশ পুনরায় বৈরী অবস্থানে চলে আসে। এই সংঘাতে মার্কিন ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই রয়েছে বলে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন। তবে তেহরানের পক্ষ থেকেও চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম নূরনিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের আগ্রাসন চালায় বা জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাত হানে, তবে এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মিত্রদের—বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক সমঝোতা শেষ পর্যন্ত স্থায়ী শান্তি আনবে নাকি নতুন কোনো সংঘাতের সূচনা করবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর সংশয় ও আলোচনা চলছে।
রিপোর্টার নাম: 





















