Hi

০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন পাহারারত ট্যাংকারে ইরানের হামলা: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য ও চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিড অবকাশযাপন কেন্দ্রে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী ইরান যুদ্ধ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনে জরুরি বৈঠকে ব্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর পাহারায় থাকা দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করে জানায় যে, নীতি অমান্যকারী জাহাজগুলোকে বাধা দিতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরও চারটি ট্যাংকার ইরানের সতর্কবার্তার পর তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।

দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে চলমান এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই জ্বালানিসংকটের প্রভাব সরাসরি মার্কিন বাজারে পড়েছে, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু-হু করে বাড়ছে। আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মুদ্রাস্ফীতির এই উল্লম্ফন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, চলমান এই যুদ্ধের প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে সর্বনিম্নে; মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক এই সংঘাতের পক্ষে মত দিয়েছেন।

এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই লড়াইয়ের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ছে কুয়েত ও লেবাননেও। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো একটি ইরানি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। পাশাপাশি লেবাননের প্রাচীন বিউফোর্ট দুর্গ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক সামরিক অভিযান ও টানেল ধ্বংসের ঘটনায় এলাকাটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, উত্তরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা এই অভিযান চালাচ্ছে, তবে লেবাননের পক্ষ থেকে একে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

ক্যাম্প ডেভিডের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যুদ্ধ থামানো এবং জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল করা। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন শক্তির জোরে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এদিকে, মার্কিন কংগ্রেসে যুদ্ধবিরতির পক্ষে আনা প্রস্তাব অল্পের জন্য হেরে যাওয়ায় রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা মুদ্রাস্ফীতিকে ইস্যু করে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের সুযোগে বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলো রেকর্ড মুনাফা অর্জন করলেও সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ, যা আগামী নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ার বার্তা ভারতীয় সংসদীয় কমিটির

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন পাহারারত ট্যাংকারে ইরানের হামলা: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য ও চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

আপডেট : ০২:২২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিড অবকাশযাপন কেন্দ্রে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী ইরান যুদ্ধ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনে জরুরি বৈঠকে ব্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর পাহারায় থাকা দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করে জানায় যে, নীতি অমান্যকারী জাহাজগুলোকে বাধা দিতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরও চারটি ট্যাংকার ইরানের সতর্কবার্তার পর তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।

দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে চলমান এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই জ্বালানিসংকটের প্রভাব সরাসরি মার্কিন বাজারে পড়েছে, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু-হু করে বাড়ছে। আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মুদ্রাস্ফীতির এই উল্লম্ফন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, চলমান এই যুদ্ধের প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে সর্বনিম্নে; মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক এই সংঘাতের পক্ষে মত দিয়েছেন।

এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই লড়াইয়ের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ছে কুয়েত ও লেবাননেও। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো একটি ইরানি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। পাশাপাশি লেবাননের প্রাচীন বিউফোর্ট দুর্গ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক সামরিক অভিযান ও টানেল ধ্বংসের ঘটনায় এলাকাটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, উত্তরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা এই অভিযান চালাচ্ছে, তবে লেবাননের পক্ষ থেকে একে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

ক্যাম্প ডেভিডের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যুদ্ধ থামানো এবং জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল করা। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন শক্তির জোরে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এদিকে, মার্কিন কংগ্রেসে যুদ্ধবিরতির পক্ষে আনা প্রস্তাব অল্পের জন্য হেরে যাওয়ায় রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা মুদ্রাস্ফীতিকে ইস্যু করে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের সুযোগে বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলো রেকর্ড মুনাফা অর্জন করলেও সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ, যা আগামী নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।