দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন জগতের ঝলমলে আলোর নিচে যে কত গভীর অন্ধকার লুকিয়ে থাকতে পারে, তার এক মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী কিম সে-ইন। সম্প্রতি এমবিএনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘স্পেশাল ওয়ার্ল্ড’-এ এসে তিনি তাঁর জীবনের এমন কিছু অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন, যা সাধারণ দর্শককে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। গ্ল্যামারের চাকচিক্য আর খ্যাতির আড়ালে পরিবারের আর্থিক দায়িত্বের চাপে পড়ে তাঁকে এমন সব সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল, যা তাঁর শিল্পীসত্তাকে গভীরভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছে।
কিম সে-ইন জানিয়েছেন, পরিবারের চরম অর্থকষ্ট এবং বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে তিনি এক সময় নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করতে বাধ্য হন। এটি কেবল অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা ছিল না, এর পেছনে ছিল তৎকালীন প্রভাবশালী সংস্থার প্রধানের মানসিক নির্যাতন এবং ভয়ংকর চাপ। এমন অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হয়ে তিনি ধীরে ধীরে নিজের মানসিক ভারসাম্য হারাতে বসেন এবং সবশেষে ২০১৩ সালে বিনোদন জগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেন। ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থাকা সত্ত্বেও কেবল সম্মান বাঁচাতে এবং আত্মপরিচয় টিকিয়ে রাখতে তিনি অভিনয় ছেড়ে সাধারণ মানুষের মতো জীবন বেছে নেন।
বর্তমানে কিম সে-ইনের জীবনযাত্রা বিনোদন জগতের চকমকানি থেকে বহুদূরে। তিনি এখন আর কোনো তারকাসুলভ জীবনযাপন করেন না। বরং ১৫টি পরিত্যক্ত প্রাণীকে আশ্রয় দিয়ে তাদের দেখাশোনা করাই এখন তাঁর জীবনের প্রধান ব্রত। সংসার চালানোর জন্য তিনি খাবার সরবরাহের (ফুড ডেলিভারি) মতো সাধারণ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অভিনয় জগৎ তাকে অর্থ বা যশ দিতে পারলেও শান্তি দিতে পারেনি, তবে আজকের এই অনাড়ম্বর জীবনে তিনি সেই শান্তি খুঁজে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
কিম সে-ইনের এই স্বীকারোক্তি দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন শিল্পে বিদ্যমান অন্ধকার দিকগুলোর ওপর নতুন করে আলোকপাত করেছে। বিশেষ করে তরুণ শিল্পীদের ওপর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের খবরদারি এবং চুক্তির নামে শোষণের বিষয়টি আবারো আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। তাঁর এই জীবনযুদ্ধ কেবল একটি ব্যক্তিগত গল্প নয়, বরং এটি গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রির নিষ্ঠুর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদের দলিল। অনেক ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে পশুসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
রিপোর্টার নাম: 













