ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দীর্ঘ নয় মাসের নির্বাসন জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো। গত ডিসেম্বরে ছদ্মবেশে দেশ ছাড়ার পর থেকে তিনি বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে এক বন্ধুর অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থান করছেন। ভোর ছয়টায় দিন শুরু করা মাচাদোর মূল লক্ষ্য এখন ভেনেজুয়েলায় ফিরে নতুন নির্বাচনের দাবি তোলা। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের বাইরে থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সফলভাবে পরিচালনা করা অসম্ভব।
মাচাদোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশে ফেরার পর প্রথম কয়েক মাস তিনি ভেনেজুয়েলার ২৩টি রাজ্যে সফর করবেন। এই সফরের উদ্দেশ্য হলো মাদুরোর মিত্রদের কাছ থেকে ক্ষমতা পরিবর্তনের দাবিতে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় নেটওয়ার্ক আবার সক্রিয় করা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাদুরোর পরাজয়কে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছে তার দল। মাচাদোর ভাষায়, একেবারে ছোট জনপদ থেকে শুরু করে সারা দেশে নিজেকে ঘুরে বেড়াতে দেখছেন তিনি। জুনে তার সংগঠনের কর্মীরা ‘ইলেকসিওনেস ইয়া’ বা ‘এখনই নির্বাচন’ স্লোগানে সমাবেশ শুরু করেছে, যা তার ঘুরে দাঁড়ানোর সংকেত দিচ্ছে।
তার রাজনৈতিক কৌশলের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো
মাচাদোর রাজনৈতিক কৌশল ও পরিকল্পনা
- জনসংযোগ: দেশের ২৩টি রাজ্যে তৃণমূল নেটওয়ার্ক ও জনসমাবেশ পুনর্গঠন।
- নির্বাচনী লক্ষ্য: দ্রুত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভিত্তি তৈরি করা এবং নির্বাচনে নিজেই অংশগ্রহণ করা।
- আন্তর্জাতিক যোগাযোগ: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও কোস্টগার্ডের সাথে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রস্তাব।
- অর্থনীতি: ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগে আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সাথে যোগাযোগ ও তাদের উৎসাহিত করা।
তবে মাচাদোর দেশে ফেরা ও তার পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে মতভেদ রয়েছে। কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, তার উপস্থিতি সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে এবং বর্তমান ক্ষমতা পরিবর্তন পরিকল্পনাকে ব্যাহত করতে পারে। অন্যদিকে, নিকোলাস মাদুরোর মিত্র ও সরকারের পক্ষ থেকে তাকে নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, তারা তার অপেক্ষায় আছেন। এছাড়া ট্রাম্পের প্রশাসন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর ফলে মাচাদোর রাজনৈতিক অবস্থান আরও জটিল হয়েছে।
মাচাদো ট্রাম্পের তেল চুক্তিসহ বর্তমান সরকারের অনেক সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচক। তিনি দেলসি রদ্রিগেজকে অযোগ্য দাবি করে বলেছেন, তাদের অধীনে সবকিছু জবরদস্তির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এদিকে, পোপসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ বাড়ালেও, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে বর্তমানে দেশে ফেরার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেশটিতে গত ২৪ জুনের দুটি ভূমিকম্পে ৬ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু এবং মানবিক বিপর্যয় মাচাদোর রাজনৈতিক দাবির গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক অভিযান বা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে চলা না চলা নিয়ে তিনি বেশ সতর্ক। ওয়াশিংটনের সাথে তার যোগাযোগ থাকলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তার উপস্থিতি কোনো চ্যালেঞ্জ নয় বরং গণতান্ত্রিক উত্তরণের অংশ। তবে কবে নাগাদ তিনি দেশে ফিরবেন, সেই সিদ্ধান্ত দশ মিনিট বা দশ দিন—যেকোনো সময়ের মধ্যেই হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কুমিল্লায় কিশোর অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক ১। চাকরির আরও তথ্য: নতুন পে-স্কেলের বকেয়া মিলবে চলতি মাসের বেতনের সঙ্গে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ময়মনসিংহে স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে ১। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৯ নতুন মুখ, ইতালি দল পুনর্গঠনে মানচিনির বড় পরিকল্পনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলের কাছে এক বন্ধুর থেকে ধার করা অ্যাপার্টমেন্টে থাকছেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘুম থেকে উঠে এক কাপ কড়া কফি পান করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর ভেনেজুয়েলায় ফিরে গিয়ে নতুন নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলার পরিকল্পনার কাজ শুরু করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাচাদো বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে থেকে এই প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিতে পারি না।
রিপোর্টার নাম: 























