Hi

০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশক্তির তীব্র বিক্ষোভ

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৫:২২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ০ জন দেখেছে

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বনির্ধারিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলা, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি। এই ঘটনার প্রতিবাদে গত বুধবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় একটি তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

রাত সাড়ে আটটার দিকে টিএসসির পায়রা চত্বর থেকে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে ভিসি চত্বর ঘুরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা হবিগঞ্জের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যে ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে, তার সঙ্গে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা সরাসরি জড়িত। ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে এই হামলায় অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জোর দাবি জানানো হয়। রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে এবং ভিন্নমত দমনের অপচেষ্টা হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ছাত্রনেতারা।

জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জনগণের ভোটাধিকার এবং বাক্‌স্বাধীনতা হরণের পুরোনো পথেই হাঁটছে। রাজনৈতিক ময়দানে এনসিপির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে সমাবেশ পণ্ড করার জন্য নানা কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উদ্দেশে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের নামে চলা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ না হলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরীও সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভিন্নমত ও বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শ দমনের ক্ষেত্রে অতীতের ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। জনগণের মৌলিক অধিকার ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন ধরনের লোক দেখানো কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সংঘাতময় পরিস্থিতি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে বাধা এবং সংঘাত এড়াতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর আরও সহনশীল ও গণতান্ত্রিক আচরণ করা জরুরি। অন্যথায় তা বৃহত্তর ছাত্র ও জনঅসন্তোষে রূপ নিতে পারে। ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হবিগঞ্জে হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে তাদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি সারা দেশে আরও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

কম্বোডিয়ায় মানবপাচার চক্রের প্রধান হোতা শাহাদাত ঢাকায় গ্রেফতার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশক্তির তীব্র বিক্ষোভ

আপডেট : ০৫:২২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বনির্ধারিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলা, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি। এই ঘটনার প্রতিবাদে গত বুধবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় একটি তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

রাত সাড়ে আটটার দিকে টিএসসির পায়রা চত্বর থেকে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে ভিসি চত্বর ঘুরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা হবিগঞ্জের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যে ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে, তার সঙ্গে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা সরাসরি জড়িত। ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে এই হামলায় অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জোর দাবি জানানো হয়। রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে এবং ভিন্নমত দমনের অপচেষ্টা হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ছাত্রনেতারা।

জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জনগণের ভোটাধিকার এবং বাক্‌স্বাধীনতা হরণের পুরোনো পথেই হাঁটছে। রাজনৈতিক ময়দানে এনসিপির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে সমাবেশ পণ্ড করার জন্য নানা কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উদ্দেশে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের নামে চলা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ না হলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরীও সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভিন্নমত ও বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শ দমনের ক্ষেত্রে অতীতের ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। জনগণের মৌলিক অধিকার ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন ধরনের লোক দেখানো কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সংঘাতময় পরিস্থিতি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে বাধা এবং সংঘাত এড়াতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর আরও সহনশীল ও গণতান্ত্রিক আচরণ করা জরুরি। অন্যথায় তা বৃহত্তর ছাত্র ও জনঅসন্তোষে রূপ নিতে পারে। ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হবিগঞ্জে হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে তাদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি সারা দেশে আরও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।