Hi

০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ার বার্তা ভারতীয় সংসদীয় কমিটির

বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠন ও নতুন ধারায় এগিয়ে নেওয়ার জন্য ভারত সরকারকে বিশেষ সুপারিশ করেছে লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি বাংলাদেশের নতুন নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার ওপর জোর দিয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সংসদীয় প্রতিনিধিদলের নিয়মিত বিনিময় ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের দেড় বছর পার করে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের ঘটনাকে ভারত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন সরকারের সঙ্গে স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং পারস্পরিক সংবেদনশীলতাকে ভিত্তি করে দুই দেশের সম্পর্কের যে ঐতিহাসিক কাঠামো, তা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকারের অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বের পর্যায়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঘটনাকে এই নতুন সম্পর্কের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে ভারত সরকার জানিয়েছে যে, প্রচলিত আইন ও আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে। তবে দিল্লি স্পষ্ট করেছে যে, ভারতের মাটি ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ কাউকে দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া, বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে তাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি নিয়েও ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগের কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সরকারকে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভিসা জটিলতা নিরসনের প্রশ্নে সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক অটুট রাখতে কনস্যুলার সহযোগিতা বৃদ্ধি ও দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করা জরুরি। বর্তমানে নিরাপত্তা জনিত কারণে ভিসা সীমিত থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে এটি বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একইসাথে সীমান্ত সুরক্ষায় কাঁটাতারের বেড়ার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, যেমন—স্মার্ট সেন্সর এবং লেজার নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ছড়ানো ভুল তথ্য ও ভারতবিরোধী অপপ্রচার মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে কমিটি বলেছে, গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশই ভারত ও এই অঞ্চলের শান্তির জন্য সহায়ক।

বরিশালের জয়ন্তী নদীতে ইয়াবা চালান আটক, ট্রলারসহ গ্রেপ্তার ১

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ার বার্তা ভারতীয় সংসদীয় কমিটির

আপডেট : ০৩:২২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠন ও নতুন ধারায় এগিয়ে নেওয়ার জন্য ভারত সরকারকে বিশেষ সুপারিশ করেছে লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি বাংলাদেশের নতুন নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার ওপর জোর দিয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সংসদীয় প্রতিনিধিদলের নিয়মিত বিনিময় ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের দেড় বছর পার করে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের ঘটনাকে ভারত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন সরকারের সঙ্গে স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং পারস্পরিক সংবেদনশীলতাকে ভিত্তি করে দুই দেশের সম্পর্কের যে ঐতিহাসিক কাঠামো, তা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকারের অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বের পর্যায়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঘটনাকে এই নতুন সম্পর্কের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে ভারত সরকার জানিয়েছে যে, প্রচলিত আইন ও আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে। তবে দিল্লি স্পষ্ট করেছে যে, ভারতের মাটি ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ কাউকে দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া, বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে তাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি নিয়েও ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগের কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সরকারকে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভিসা জটিলতা নিরসনের প্রশ্নে সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক অটুট রাখতে কনস্যুলার সহযোগিতা বৃদ্ধি ও দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করা জরুরি। বর্তমানে নিরাপত্তা জনিত কারণে ভিসা সীমিত থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে এটি বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একইসাথে সীমান্ত সুরক্ষায় কাঁটাতারের বেড়ার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, যেমন—স্মার্ট সেন্সর এবং লেজার নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ছড়ানো ভুল তথ্য ও ভারতবিরোধী অপপ্রচার মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে কমিটি বলেছে, গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশই ভারত ও এই অঞ্চলের শান্তির জন্য সহায়ক।