Hi

০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে রপ্তানি আয় দেশে আনা ও অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর বিশেষজ্ঞদের

স্বাধীনতার দীর্ঘ পাঁচ দশক পার করার পর বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানামুখী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাহ্যিক অর্থায়ন এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা হ্রাস করে দেশের অর্থনীতিকে নিজস্ব শক্তিতে দাঁড় করানোর ওপর জোর দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে টেকসই রাখতে হলে সবচেয়ে জরুরি হলো রপ্তানি পণ্যের অর্জিত অর্থ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা। বিইউবিটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হলে ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট–পরবর্তী বিশ্লেষণ ও বাংলাদেশ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় সম্পদ বন্টন, আয়ের সামঞ্জস্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ অভ্যন্তরীণ মূল্য সংযোজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, তৈরি পোশাক খাতসহ সার্বিক রপ্তানি শিল্পকে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী করতে না পারলে অভ্যন্তরীণ মূলধন গঠন বাধাগ্রস্ত হবে। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত আশঙ্কাজনকভাবে কম থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাঠামোগত দুর্বলতা ও সুশাসনের অভাবই এর প্রধান কারণ। এছাড়া মেগা প্রকল্পগুলোর অতিরিক্ত ব্যয় ও অতীতের আর্থিক অব্যবস্থাপনা দেশের বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দিয়েছে। জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশ কেবল অর্জিত ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হয়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সেমিনারে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বিশ্লেষণ সংক্রান্ত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ মাহবুব আলী। তিনি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি ব্যয়ের প্রকৃত সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত প্রসঙ্গে অধ্যাপক মাহবুব আলী অভিমত দেন যে, বিদ্যুৎ বিতরণের মতো স্পর্শকাতর সেবা খাতকে সম্পূর্ণরূপে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। বরং সরকারি কাঠামোর অধীনে রেখে এটিকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করা জরুরি।

আলোচনা সভায় বিশদ বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে বিইউবিটির ব্যবসায় ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, বাজেট-পরবর্তী নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতি ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সভাপতির বক্তব্যে অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ধরনের একাডেমিক আলোচনা তরুণ সমাজকে সামষ্টিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বুঝতে উৎসাহিত করে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক মুন্সী মাহবুবুর রহমান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ। সামগ্রিকভাবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধি, বিদেশে বকেয়া রপ্তানি মূল্য দেশে আনা এবং মেগা প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর মতো জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ সময়ের দাবি।

খুলনার দিঘলিয়ায় ট্রাকচাপায় ঝরল মা-মেয়েসহ তিন প্রাণ, শোকের ছায়া

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে রপ্তানি আয় দেশে আনা ও অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর বিশেষজ্ঞদের

আপডেট : ১২:২২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

স্বাধীনতার দীর্ঘ পাঁচ দশক পার করার পর বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানামুখী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাহ্যিক অর্থায়ন এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা হ্রাস করে দেশের অর্থনীতিকে নিজস্ব শক্তিতে দাঁড় করানোর ওপর জোর দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে টেকসই রাখতে হলে সবচেয়ে জরুরি হলো রপ্তানি পণ্যের অর্জিত অর্থ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা। বিইউবিটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হলে ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট–পরবর্তী বিশ্লেষণ ও বাংলাদেশ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় সম্পদ বন্টন, আয়ের সামঞ্জস্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ অভ্যন্তরীণ মূল্য সংযোজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, তৈরি পোশাক খাতসহ সার্বিক রপ্তানি শিল্পকে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী করতে না পারলে অভ্যন্তরীণ মূলধন গঠন বাধাগ্রস্ত হবে। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত আশঙ্কাজনকভাবে কম থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাঠামোগত দুর্বলতা ও সুশাসনের অভাবই এর প্রধান কারণ। এছাড়া মেগা প্রকল্পগুলোর অতিরিক্ত ব্যয় ও অতীতের আর্থিক অব্যবস্থাপনা দেশের বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দিয়েছে। জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশ কেবল অর্জিত ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হয়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সেমিনারে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বিশ্লেষণ সংক্রান্ত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ মাহবুব আলী। তিনি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি ব্যয়ের প্রকৃত সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত প্রসঙ্গে অধ্যাপক মাহবুব আলী অভিমত দেন যে, বিদ্যুৎ বিতরণের মতো স্পর্শকাতর সেবা খাতকে সম্পূর্ণরূপে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। বরং সরকারি কাঠামোর অধীনে রেখে এটিকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করা জরুরি।

আলোচনা সভায় বিশদ বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে বিইউবিটির ব্যবসায় ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, বাজেট-পরবর্তী নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতি ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সভাপতির বক্তব্যে অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ধরনের একাডেমিক আলোচনা তরুণ সমাজকে সামষ্টিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বুঝতে উৎসাহিত করে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক মুন্সী মাহবুবুর রহমান এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ। সামগ্রিকভাবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধি, বিদেশে বকেয়া রপ্তানি মূল্য দেশে আনা এবং মেগা প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর মতো জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ সময়ের দাবি।