মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। প্রস্তাবিত এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে উল্লিখিত দেশগুলোর নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনকারীদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা ভিসার অনুমোদন পাওয়ার পূর্বে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত আর্থিক বন্ড বা জামানত জমা দিতে হতে পারে। কূটনৈতিক ও অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, মূলত যেসব দেশ থেকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত সময় বা ওভারস্টের হার বেশি, সেসব দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ওপর কড়াকড়ি আরোপের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় কনস্যুলার অফিসারের কাছে আবেদনকারীকে প্রমাণের পাশাপাশি এই বন্ড নিশ্চিত করতে হবে যে, তারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্দিষ্ট শর্ত মেনে নিজ দেশে ফিরে যাবেন। যদি কোনো পর্যটক বা ভিজিটর নির্ধারিত সময়ের বেশি সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন, তবে ওই জামানতের অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজোপ্ত করা হতে পারে। বাংলাদেশ ছাড়াও এ তালিকায় এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার বেশ কিছু উন্নয়নশীল দেশ রয়েছে, যেখানকার নাগরিকরা সাধারণত ট্যুরিস্ট বা বিজনেস ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই কঠোর শর্তের কারণে সাধারণ এবং মধ্যবিত্ত আয়ের ভ্রমণপিপাসু, শিক্ষার্থী কিংবা ব্যবসায়ীদের জন্য মার্কিন ভিসা প্রাপ্তি অত্যন্ত দুরূহ ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে যারা পরিবার পরিজন দেখতে কিংবা ব্যবসায়িক কাজে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করতে চান, তাদের জন্য এই ২০ হাজার ডলারের বন্ড একটি বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। তা ছাড়া, এই নীতির ফলে বৈধ উপায়ে ভ্রমণকারীদের মধ্যেও একধরনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন অবশ্য দাবি করছে যে, অভিবাসন আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং ভিসার অপব্যবহার রোধেই এই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এর তীব্র সমালোচনা করে বলছে, এই ধরনের আর্থিক শর্ত বৈষম্যমূলক এবং এটি নিম্ন আয়ের দেশের নাগরিকদের ভ্রমণ অধিকারকে সংকুচিত করবে। আগামী দিনে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক রূপরেখা প্রকাশ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টার নাম: 



















