Hi

০৭:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্যাকেটের মোড়কে নীরব বিষ: অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা

জনস্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘ দুই দশকের পেশাগত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন উন্নয়নকর্মী মাহবুবা রহমানের ব্যক্তিগত উপলব্ধি এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের আলোকে প্যাকেটজাত খাবারের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক জনসচেতনতা। আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবন এবং বিজ্ঞাপনের প্রভাবে অজান্তেই আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় স্থান করে নিয়েছে চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, কোমল পানীয়, বিস্কুট এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার। আকর্ষণীয় মোড়ক ও নামী ব্র্যান্ডের এসব পণ্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট—যা মানবদেহে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদ্‌রোগের মতো মরণব্যাধি অসংক্রামক রোগ ডেকে আনছে।

গবেষণা বলছে, এক প্যাকেট চিপসে প্রায় দুই দিনের সমপরিমাণ লবণ এবং ২৫০ মিলিলিটারের একটি কোমল পানীয়ের বোতলে প্রায় ১০ চামচ চিনি থাকে। অথচ তথ্যগত বৈষম্যের কারণে সাধারণ ভোক্তারা দোকান থেকে এসব খাবার কেনার সময় এর প্রকৃত উপাদান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকেন। উৎপাদকেরা পণ্যের উপাদান জানলেও ক্রেতার জন্য সেই তথ্য সহজে দৃশ্যমান নয়। এর ফলে বাংলাদেশে দিন দিন অসংক্রামক রোগের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করছে এবং আক্রান্তদের বয়সসীমাও আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে। তরুণ ও শিশুরা পর্যন্ত এই নীরব মহামারির শিকার হচ্ছে।

এই সংকট মোকাবিলায় খাদ্যের মোড়কের সামনে স্পষ্ট সতর্কতামূলক পুষ্টি লেবেল বা ‘ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং’ (এফওপিএল) চালুর দাবি জোরালো হচ্ছে। এটি কোনো বিলাসী নীতি নয়, বরং ভোক্তার মৌলিক জানার অধিকার। প্যাকেটের গায়ে বড় ও স্পষ্টভাবে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা চর্বির উপস্থিতি উল্লেখ থাকলে একজন ক্রেতা খুব সহজেই সচেতন ও স্বাস্থ্যসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। একই সঙ্গে এটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর স্বাস্থ্যকর উপাদান ব্যবহারে নৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। বিশ্বের বহু দেশে এই ব্যবস্থা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলেও বাংলাদেশে এখনো তা বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনেক বেশি সাশ্রয়ী এবং মানবিক। তাই শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা নয়, বরং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় এখনই। প্যাকেটজাত খাদ্যে বাধ্যতামূলক এফওপিএল চালু করার পাশাপাশি শিশুদের লক্ষ্য করে অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এসব খাবারের সহজলভ্যতা কমাতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করে একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো মায়েরকেই অজ্ঞতার কারণে সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে অনুশোচনায় ভুগতে না হয়।

জনপ্রিয়

গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার ও ট্রাম্পের চাপ: রাজনৈতিক সংকটে নেতানিয়াহু

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

প্যাকেটের মোড়কে নীরব বিষ: অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা

আপডেট : ০৬:২২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

জনস্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘ দুই দশকের পেশাগত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন উন্নয়নকর্মী মাহবুবা রহমানের ব্যক্তিগত উপলব্ধি এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের আলোকে প্যাকেটজাত খাবারের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক জনসচেতনতা। আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবন এবং বিজ্ঞাপনের প্রভাবে অজান্তেই আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় স্থান করে নিয়েছে চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, কোমল পানীয়, বিস্কুট এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার। আকর্ষণীয় মোড়ক ও নামী ব্র্যান্ডের এসব পণ্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট—যা মানবদেহে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদ্‌রোগের মতো মরণব্যাধি অসংক্রামক রোগ ডেকে আনছে।

গবেষণা বলছে, এক প্যাকেট চিপসে প্রায় দুই দিনের সমপরিমাণ লবণ এবং ২৫০ মিলিলিটারের একটি কোমল পানীয়ের বোতলে প্রায় ১০ চামচ চিনি থাকে। অথচ তথ্যগত বৈষম্যের কারণে সাধারণ ভোক্তারা দোকান থেকে এসব খাবার কেনার সময় এর প্রকৃত উপাদান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকেন। উৎপাদকেরা পণ্যের উপাদান জানলেও ক্রেতার জন্য সেই তথ্য সহজে দৃশ্যমান নয়। এর ফলে বাংলাদেশে দিন দিন অসংক্রামক রোগের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করছে এবং আক্রান্তদের বয়সসীমাও আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে। তরুণ ও শিশুরা পর্যন্ত এই নীরব মহামারির শিকার হচ্ছে।

এই সংকট মোকাবিলায় খাদ্যের মোড়কের সামনে স্পষ্ট সতর্কতামূলক পুষ্টি লেবেল বা ‘ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং’ (এফওপিএল) চালুর দাবি জোরালো হচ্ছে। এটি কোনো বিলাসী নীতি নয়, বরং ভোক্তার মৌলিক জানার অধিকার। প্যাকেটের গায়ে বড় ও স্পষ্টভাবে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা চর্বির উপস্থিতি উল্লেখ থাকলে একজন ক্রেতা খুব সহজেই সচেতন ও স্বাস্থ্যসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। একই সঙ্গে এটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর স্বাস্থ্যকর উপাদান ব্যবহারে নৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। বিশ্বের বহু দেশে এই ব্যবস্থা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলেও বাংলাদেশে এখনো তা বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনেক বেশি সাশ্রয়ী এবং মানবিক। তাই শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা নয়, বরং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় এখনই। প্যাকেটজাত খাদ্যে বাধ্যতামূলক এফওপিএল চালু করার পাশাপাশি শিশুদের লক্ষ্য করে অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এসব খাবারের সহজলভ্যতা কমাতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করে একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো মায়েরকেই অজ্ঞতার কারণে সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে অনুশোচনায় ভুগতে না হয়।