Hi

০২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছেলের বসানো সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ল মায়ের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য, নাতি গ্রেপ্তার

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় এক ৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তাঁর নাতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ওই নারীর নাম মাহবুব আরা বেগম। আর গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম আবু তালহা, যিনি সম্পর্কে ওই নারীর দেবরের নাতি। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুরো দৃশ্যটি ফ্ল্যাটে আগে থেকেই স্থাপন করা একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে, যা পরবর্তীতে অপরাধীকে শনাক্ত করতে মূল ভূমিকা পালন করে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (ঘটনার দিন) ব্যবসায়ী পুত্র মোহাম্মদ মাহবুব হাসান কাজের ব্যস্ততার কারণে সারাদিন মায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে পারেননি। পরবর্তীতে গভীর রাতে আনুমানিক রাত তিনটার দিকে তিনি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিজ ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে এক রোমহর্ষক ঘটনার মুখোমুখি হন। ফুটেজে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটে আবু তালহা আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির সহযোগিতায় ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। এরপর শোবার ঘরে গিয়ে বৃদ্ধাকে প্রথমে বালিশ ও কাপড়চোপড় দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা চালানো হয়। মাহবুব আরা বেগম জীবন বাঁচাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলে তাঁকে খাট থেকে টেনে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয় এবং পরিধেয় ওড়না গলায় পেঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা নিশ্চিত করা হয়। হত্যাকাণ্ড শেষে অভিযুক্তরা বৃদ্ধার কানের সোনার দুল খুলে নিয়ে ভেতর থেকে দরজা লক করে পালিয়ে যায়।

জানা গেছে, নিহত মাহবুব আরা বেগমের স্বামী প্রায় নয় মাস আগে মারা যান। এরপর থেকেই তিনি দক্ষিণখানের দক্ষিণ গাওয়াইর এলাকার নিজ চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে একাকী জীবনযাপন করছিলেন। অন্যদিকে তাঁর ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান সন্তানদের পড়াশোনার সুবাদে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করতেন। মায়ের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি কিছুদিন আগে ফ্ল্যাটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে, বিশেষ করে শোবার ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা ইনস্টল করেছিলেন। ঘটনার পরদিন শুক্রবার নিহতের ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ প্রযুক্তিগত সহায়তায় ও স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ গাওয়াইর এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত আবু তালহাকে গ্রেপ্তার করে।

শনিবার আসামিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক হাসান শাহাদাতের সামনে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ-আল-মামুন আদালতের কাছে রিমান্ড ও জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর সিদ্দিক এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এমন পৈশাচিক ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান সাংবাদিকদের জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় সিসিটিভি ক্যামেরায় অপরাধের দৃশ্য ধারণ না হলে হয়তো এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের রহস্য অন্ধের মতো থেকে যেত এবং প্রকৃত খুনিরা পার পেয়ে যেত। তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামির দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয়

আধুনিক বিজ্ঞান ও গণিতের ভিত্তি ইউক্লিডের ‘এলিমেন্টস’, মৌলিক গবেষণায় জোর দেওয়ার আহ্বান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ছেলের বসানো সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ল মায়ের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য, নাতি গ্রেপ্তার

আপডেট : ১২:২২:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় এক ৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তাঁর নাতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ওই নারীর নাম মাহবুব আরা বেগম। আর গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম আবু তালহা, যিনি সম্পর্কে ওই নারীর দেবরের নাতি। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুরো দৃশ্যটি ফ্ল্যাটে আগে থেকেই স্থাপন করা একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে, যা পরবর্তীতে অপরাধীকে শনাক্ত করতে মূল ভূমিকা পালন করে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (ঘটনার দিন) ব্যবসায়ী পুত্র মোহাম্মদ মাহবুব হাসান কাজের ব্যস্ততার কারণে সারাদিন মায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে পারেননি। পরবর্তীতে গভীর রাতে আনুমানিক রাত তিনটার দিকে তিনি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিজ ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে এক রোমহর্ষক ঘটনার মুখোমুখি হন। ফুটেজে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটে আবু তালহা আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির সহযোগিতায় ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। এরপর শোবার ঘরে গিয়ে বৃদ্ধাকে প্রথমে বালিশ ও কাপড়চোপড় দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা চালানো হয়। মাহবুব আরা বেগম জীবন বাঁচাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলে তাঁকে খাট থেকে টেনে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয় এবং পরিধেয় ওড়না গলায় পেঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা নিশ্চিত করা হয়। হত্যাকাণ্ড শেষে অভিযুক্তরা বৃদ্ধার কানের সোনার দুল খুলে নিয়ে ভেতর থেকে দরজা লক করে পালিয়ে যায়।

জানা গেছে, নিহত মাহবুব আরা বেগমের স্বামী প্রায় নয় মাস আগে মারা যান। এরপর থেকেই তিনি দক্ষিণখানের দক্ষিণ গাওয়াইর এলাকার নিজ চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে একাকী জীবনযাপন করছিলেন। অন্যদিকে তাঁর ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান সন্তানদের পড়াশোনার সুবাদে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করতেন। মায়ের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি কিছুদিন আগে ফ্ল্যাটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে, বিশেষ করে শোবার ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা ইনস্টল করেছিলেন। ঘটনার পরদিন শুক্রবার নিহতের ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ প্রযুক্তিগত সহায়তায় ও স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ গাওয়াইর এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত আবু তালহাকে গ্রেপ্তার করে।

শনিবার আসামিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক হাসান শাহাদাতের সামনে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ-আল-মামুন আদালতের কাছে রিমান্ড ও জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর সিদ্দিক এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এমন পৈশাচিক ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান সাংবাদিকদের জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় সিসিটিভি ক্যামেরায় অপরাধের দৃশ্য ধারণ না হলে হয়তো এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের রহস্য অন্ধের মতো থেকে যেত এবং প্রকৃত খুনিরা পার পেয়ে যেত। তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামির দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।