বিশ্বজুড়ে ফুটবল কর্মকর্তাদের তীব্র আপত্তি ও কঠোর বিরোধিতার মুখে পড়ে অবশেষে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগ গ্রহণের বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে ফুটবলের বিশ্বনিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। গত মঙ্গলবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামক একটি বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠন করে এতে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাব তোলা হয়েছিল। তবে আজ শনিবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিকল্পনা বাতিলের কথা নিশ্চিত করেছেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক ভ্যালুয়েশন তৈরি করে ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল ফিফার। এর বিনিময়ে সংস্থাটি তাদের সদস্যদেশগুলোকে ২০২৭ সালের শুরুতে এককালীন ২ কোটি ডলারসহ অনুদানের পরিমাণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে এই উদ্যোগের ঘোষণা আসতেই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো একাট্টা হয়ে এর প্রতিবাদ জানায়। ইউরোপীয় ফুটবল কনফেডারেশন (উয়েফা) সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, এই প্রস্তাব কার্যকর থাকলে তাদের কোনো সদস্য দেশ ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। পরবর্তীতে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং কনক্যাকাফও এই বয়কট ইস্যুতে সংহতি জানায়।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় শুক্রবার, যখন ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে এই উদ্যোগকে ফুটবল এবং এর ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেন। এছাড়াও রাজনৈতিক মহলে, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামসহ বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকরা ফিফা সভাপতির নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। সব মিলিয়ে ইনফান্তিনো যে বড় ধরনের চাপে ছিলেন, তা তার সাম্প্রতিক বিবৃতিতেই স্পষ্ট হয়েছে।
ইনফান্তিনো জুরিখে দেওয়া তার সর্বশেষ বিবৃতিতে জানান, ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং সবার সম্মতির ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি স্বীকার করেন যে, এই বিতর্কিত পরিকল্পনাটি ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন মহলে বিভাজন তৈরি করেছিল, যা তাদের মূল লক্ষ্যের পরিপন্থী। তাই কোনো ধরনের বাণিজ্যিক অস্থিরতা না বাড়িয়ে এবং সদস্যদেশগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে এই প্রস্তাব চিরতরে স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের এই প্রচেষ্টা ফিফার বর্তমান কাঠামোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই ব্যর্থতা জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে। যদিও ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তিনি এখন থেকে সবাইকে এক টেবিলে আনার কাজে মনোনিবেশ করবেন, তবে ফুটবল বিশ্বের এই নজিরবিহীন বয়কটের হুমকি আগামী দিনে ফিফার নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্টার নাম: 












