Hi

০৮:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম থেকে দাম্মাম সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে এবং হজযাত্রী পরিবহনের প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ ইবন ধাফের ইবন উবাইয়া। রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠকে পর্যটনমন্ত্রী দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিমান চলাচল খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে উভয় দেশের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সহযোগিতার অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের দাম্মামে সরাসরি ফ্লাইট চালুর একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে রাষ্ট্রদূতকে প্রস্তাব দেন মন্ত্রী।

আলোচনায় ২০২৭ সালের হজ ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে উঠে আসে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০২৭ সালের ২৮ মার্চ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে প্রতিদিন তিনটি করে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। এই সময়সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় স্লট চেয়েছে বিমান। হজ ফ্লাইটের শিডিউল সময়মতো চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে দ্রুত স্লট অনুমোদনের জন্য সৌদি রাষ্ট্রদূতের ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ওপর আরোপিত বিভিন্ন কর ও চার্জের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত আলোচনার সূত্র ধরে মন্ত্রী কর ও চার্জ সংক্রান্ত বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা চান। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যকার এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট (এএসএ) চুক্তিটি আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) বর্তমানে একটি খসড়া তৈরির কাজ করছে বলে জানান তিনি। এই খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। খসড়া চূড়ান্ত হলে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সৌদি আরবের বিমান সংস্থা ফ্লাইঅ্যাডিলের অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার আবেদনের বিষয়ে বিমানমন্ত্রী সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বর্তমান সক্ষমতা ও ফ্লাইটের স্লট সীমিত থাকার কারণে এই মুহূর্তে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে এর বিকল্প হিসেবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি দাম্মাম রুটে নতুন ফ্লাইট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

আগামী হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সামগ্রিক প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করতে একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সৌদি জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী মোহাম্মদ রাজাবের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলটির বাংলাদেশ সফর নিয়ে বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই দুই দেশের বিমান যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়নে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

চট্টগ্রাম থেকে দাম্মাম সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ

আপডেট : ০৭:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে এবং হজযাত্রী পরিবহনের প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ ইবন ধাফের ইবন উবাইয়া। রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠকে পর্যটনমন্ত্রী দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিমান চলাচল খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে উভয় দেশের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সহযোগিতার অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের দাম্মামে সরাসরি ফ্লাইট চালুর একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে রাষ্ট্রদূতকে প্রস্তাব দেন মন্ত্রী।

আলোচনায় ২০২৭ সালের হজ ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে উঠে আসে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০২৭ সালের ২৮ মার্চ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে প্রতিদিন তিনটি করে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। এই সময়সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় স্লট চেয়েছে বিমান। হজ ফ্লাইটের শিডিউল সময়মতো চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে দ্রুত স্লট অনুমোদনের জন্য সৌদি রাষ্ট্রদূতের ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ওপর আরোপিত বিভিন্ন কর ও চার্জের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত আলোচনার সূত্র ধরে মন্ত্রী কর ও চার্জ সংক্রান্ত বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা চান। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যকার এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট (এএসএ) চুক্তিটি আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) বর্তমানে একটি খসড়া তৈরির কাজ করছে বলে জানান তিনি। এই খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। খসড়া চূড়ান্ত হলে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সৌদি আরবের বিমান সংস্থা ফ্লাইঅ্যাডিলের অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার আবেদনের বিষয়ে বিমানমন্ত্রী সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বর্তমান সক্ষমতা ও ফ্লাইটের স্লট সীমিত থাকার কারণে এই মুহূর্তে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে এর বিকল্প হিসেবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি দাম্মাম রুটে নতুন ফ্লাইট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

আগামী হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সামগ্রিক প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করতে একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সৌদি জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী মোহাম্মদ রাজাবের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলটির বাংলাদেশ সফর নিয়ে বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই দুই দেশের বিমান যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়নে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।