Hi

০৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার ও ট্রাম্পের চাপ: রাজনৈতিক সংকটে নেতানিয়াহু

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের অস্ত্র সমর্পণের চুক্তির পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিকে স্বাগত জানালেও, এর শর্ত অনুযায়ী গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কাছে প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি ইসরায়েলি রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। চুক্তিটি নিয়ে তেল আবিবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা না হলেও, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট যে, হামাসের পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেনা সরানোর কোনো পরিকল্পনা ইসরায়েলের নেই।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এক চ্যালেঞ্জ। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলা সামরিক অভিযানের পর দেশটির উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো এবং সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে রয়েছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, ইসরায়েলের সিংহভাগ ইহুদি নাগরিক গাজা ও ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের মতো কট্টর সিদ্ধান্তগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। ফলে, মার্কিন প্রশাসনের প্রত্যাশা অনুযায়ী গাজা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া কিংবা শান্তি চুক্তির শর্ত মেনে নেওয়া নেতানিয়াহুর উগ্র ডানপন্থী জোটের শরিকদের ক্ষুব্ধ করতে পারে, যা তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সন্তুষ্টি অর্জন করাও নেতানিয়াহুর জন্য সমানভাবে জরুরি। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইসরায়েল যদি এই নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি কার্যকর না করে, তবে ওয়াশিংটন অত্যন্ত হতাশ হবে। বিশেষ করে দুর্নীতির মামলা এবং আসন্ন রাজনৈতিক নির্বাচনে টিকে থাকার লড়াইয়ে নেতানিয়াহু মার্কিন সমর্থন ও প্রভাবের ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভূরাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু এমন একটি মধ্যপন্থা বেছে নিতে পারেন যেখানে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে বাহ্যিক অগ্রগতি দেখিয়ে সন্তুষ্ট রাখবেন, অথচ মাঠপর্যায়ে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবেন।

নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া এবং কট্টরপন্থী জোটের সমর্থন অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে নেতানিয়াহু সেনা প্রত্যাহারের দাবি থেকে সরে এসে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলোর মধ্যপন্থী নেতারাও এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, কারণ তাঁদের মতে হামাসের সামরিক শক্তি পুরোপুরি নির্মূল না হলে এ ধরনের সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না। সব মিলিয়ে, গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন চাপের মুখে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ এখন এক গভীর ও জটিল সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয়

নেতানিয়াহুর ‘ভিত্তিহীন’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করল কাতার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার ও ট্রাম্পের চাপ: রাজনৈতিক সংকটে নেতানিয়াহু

আপডেট : ০৭:২২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের অস্ত্র সমর্পণের চুক্তির পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিকে স্বাগত জানালেও, এর শর্ত অনুযায়ী গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কাছে প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি ইসরায়েলি রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। চুক্তিটি নিয়ে তেল আবিবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা না হলেও, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট যে, হামাসের পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেনা সরানোর কোনো পরিকল্পনা ইসরায়েলের নেই।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এক চ্যালেঞ্জ। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলা সামরিক অভিযানের পর দেশটির উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো এবং সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে রয়েছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, ইসরায়েলের সিংহভাগ ইহুদি নাগরিক গাজা ও ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের মতো কট্টর সিদ্ধান্তগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। ফলে, মার্কিন প্রশাসনের প্রত্যাশা অনুযায়ী গাজা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া কিংবা শান্তি চুক্তির শর্ত মেনে নেওয়া নেতানিয়াহুর উগ্র ডানপন্থী জোটের শরিকদের ক্ষুব্ধ করতে পারে, যা তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সন্তুষ্টি অর্জন করাও নেতানিয়াহুর জন্য সমানভাবে জরুরি। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইসরায়েল যদি এই নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি কার্যকর না করে, তবে ওয়াশিংটন অত্যন্ত হতাশ হবে। বিশেষ করে দুর্নীতির মামলা এবং আসন্ন রাজনৈতিক নির্বাচনে টিকে থাকার লড়াইয়ে নেতানিয়াহু মার্কিন সমর্থন ও প্রভাবের ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভূরাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু এমন একটি মধ্যপন্থা বেছে নিতে পারেন যেখানে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে বাহ্যিক অগ্রগতি দেখিয়ে সন্তুষ্ট রাখবেন, অথচ মাঠপর্যায়ে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবেন।

নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া এবং কট্টরপন্থী জোটের সমর্থন অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে নেতানিয়াহু সেনা প্রত্যাহারের দাবি থেকে সরে এসে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলোর মধ্যপন্থী নেতারাও এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, কারণ তাঁদের মতে হামাসের সামরিক শক্তি পুরোপুরি নির্মূল না হলে এ ধরনের সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না। সব মিলিয়ে, গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন চাপের মুখে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ এখন এক গভীর ও জটিল সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।