ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ইউসুফ আলী শেখ (৫৫) নামের এক কৃষককে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর জোরপূর্বক কীটনাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। সোমবার ভোরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কৃষকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
নিহত ইউসুফ আলী শেখ চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চরঅমরাপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় এক যুবক কৌশলে তাঁকে পদ্মার চরের একটি নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে ওত পেতে থাকা ৭ থেকে ৮ জন দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে নির্যাতনকারীরা তাঁর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক বিষাক্ত কীটনাশক ঢেলে দেয়। পরে তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির বাড়ির পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং প্রথমে তাঁকে স্থানীয় একজন পল্লিচিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকায় রাতেই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ প্রায় দুই দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার ভোরে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিষক্রিয়া এবং শারীরিক নির্যাতনের কারণে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ অকার্যকর হয়ে পড়েছিল।
এদিকে মৃত্যুর পূর্বে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইউসুফ আলী শেখ নিজ মুখে একটি ভিডিও জবানবন্দী দিয়ে গেছেন। ওই ভিডিওতে তিনি তাঁর ওপর চালানো বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক কীটনাশক খাওয়ানোর সম্পূর্ণ বিবরণ দিয়েছেন। পাশাপাশি এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত ৭ থেকে ৮ জন হামলাকারীর নামও তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওটি এখন মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সফর আলী জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি দল দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি 



















