টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গ্রামীণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৯০ দশমিক শূন্য ৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া এই কাজের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা পূর্ণ হয়নি। বর্তমানে প্রকল্পটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কাজটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ।
মঙ্গলবার এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি দাপ্তরিক আদেশে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত রোববার রাতে স্থানীয়রা সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ের সময় রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং কাজে বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সরকারি নির্মাণকাজে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, একজন প্রকৌশলীকে ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং অন্যদের ভূমিকাও তদন্ত করা হচ্ছে। শুধু ঠিকাদার নয়, তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। তদন্তে যাদের অনিয়ম প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রতিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্য একটি চিঠিতে সেতুটিতে কোনো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়।
রিপোর্টার নাম: 
























