Hi

১০:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানি না দিলে ভারতকে ট্রানজিট-করিডোর নয়: নাহিদ ইসলাম

দেশের নদ-নদীতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভারতকে কোনো ধরনের করিডোর বা ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করেছেন, নদীতে পানি না আসলে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে অযৌক্তিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রোববার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) আয়োজিত জাতীয় যুব সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশের নদীতে পানি না আসে, তবে কোনো ভারতীয় চ্যানেল এদেশে চলবে না। একই সঙ্গে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নিয়ে জাপানের সঙ্গে সরকারের চলমান আলোচনা ও চুক্তির বিষয়বস্তু জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে প্রকাশের জোর দাবি জানান। আমরা চাই, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় বাংলাদেশের রাজনীতি পরিচালিত হোক।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের জন্য তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সংস্কারের লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশন গঠন, গণভোট ও জুলাই সনদের মাধ্যমে পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি হলেও নির্বাচনের পরে সরকার তা অস্বীকার করছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজপথের আন্দোলন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির গণভোটে জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সংস্কারের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিল। তরুণদের জন্য ঋণ, প্রশিক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। অথচ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল চাকরিতে বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। যারা আপনার সমস্যা তৈরি করবে, তারা আপনার আশপাশেই রয়েছে।

সরকারের গঠিত নতুন কমিটিতে বিরোধী দলকে ডাকার সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সালাউদ্দিন সাহেবের কোনো কমিটিতে বিরোধী দল যাবে না এবং কোনো মতামত দেবে না। তিনি অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জনগণের রায়ের আলোকে সংবিধান সংশোধনের দাবি জানান। সংস্কার প্রশ্নে সরকারের টালবাহানাকে ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকটের সাথে তুলনা করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, এর পরিণতি সরকারকে ভোগ করতে হবে।

বিএনপি সরকারের আট মাসের কার্যক্রমে তরুণদের কর্মসংস্থান, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। সরকারি নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগে চাপ দেওয়া হচ্ছে, যা জুলাই আন্দোলনের বৈষম্যবিরোধী চেতনার পরিপন্থী। এছাড়া পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিতে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি আন্দোলন দমনে পুলিশ ব্যবহারের নিন্দা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে তিনি ওসমান হাদি হত্যাসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান। আগামী নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের লোক বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সম্মেলনে এনসিপি সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, সরকারপ্রধানের কাছে পর্যাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের মিছিল ও বিশৃঙ্খলা দমনে প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, সরকার যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ভিত্তি তাদের থাকবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগের মিছিল হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে, আগুন দেওয়া হচ্ছে।

দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আওয়ামী লীগ গোখরা সাপের মতো, তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মন্ত্রণালয়ের আশপাশে থাকা অনেকে আওয়ামী লীগের সাথে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন, যা গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। বাতির নিচে থাকা অন্ধকার শনাক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। এসব বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দূরের কথা, ঘটনা ঘটার পরও তাদের গ্রেপ্তার করার মতো সক্ষমতা সরকার দেখাতে পারছে না। আপনার গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যও আরেকবার যাচাই করুন। কারণ, আপনি বাতির নিচের অন্ধকার দেখতে পান না।

উল্লেখ্য যে, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল।

জনপ্রিয়

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের তফসিল ১০ ডিসেম্বর ঘোষণা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

পানি না দিলে ভারতকে ট্রানজিট-করিডোর নয়: নাহিদ ইসলাম

আপডেট : ০৯:৩৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

দেশের নদ-নদীতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভারতকে কোনো ধরনের করিডোর বা ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করেছেন, নদীতে পানি না আসলে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে অযৌক্তিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রোববার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) আয়োজিত জাতীয় যুব সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশের নদীতে পানি না আসে, তবে কোনো ভারতীয় চ্যানেল এদেশে চলবে না। একই সঙ্গে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নিয়ে জাপানের সঙ্গে সরকারের চলমান আলোচনা ও চুক্তির বিষয়বস্তু জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে প্রকাশের জোর দাবি জানান। আমরা চাই, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় বাংলাদেশের রাজনীতি পরিচালিত হোক।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের জন্য তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সংস্কারের লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশন গঠন, গণভোট ও জুলাই সনদের মাধ্যমে পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি হলেও নির্বাচনের পরে সরকার তা অস্বীকার করছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজপথের আন্দোলন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির গণভোটে জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সংস্কারের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিল। তরুণদের জন্য ঋণ, প্রশিক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। অথচ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল চাকরিতে বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। যারা আপনার সমস্যা তৈরি করবে, তারা আপনার আশপাশেই রয়েছে।

সরকারের গঠিত নতুন কমিটিতে বিরোধী দলকে ডাকার সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সালাউদ্দিন সাহেবের কোনো কমিটিতে বিরোধী দল যাবে না এবং কোনো মতামত দেবে না। তিনি অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জনগণের রায়ের আলোকে সংবিধান সংশোধনের দাবি জানান। সংস্কার প্রশ্নে সরকারের টালবাহানাকে ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকটের সাথে তুলনা করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, এর পরিণতি সরকারকে ভোগ করতে হবে।

বিএনপি সরকারের আট মাসের কার্যক্রমে তরুণদের কর্মসংস্থান, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। সরকারি নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগে চাপ দেওয়া হচ্ছে, যা জুলাই আন্দোলনের বৈষম্যবিরোধী চেতনার পরিপন্থী। এছাড়া পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিতে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি আন্দোলন দমনে পুলিশ ব্যবহারের নিন্দা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে তিনি ওসমান হাদি হত্যাসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান। আগামী নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের লোক বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সম্মেলনে এনসিপি সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, সরকারপ্রধানের কাছে পর্যাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের মিছিল ও বিশৃঙ্খলা দমনে প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, সরকার যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ভিত্তি তাদের থাকবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগের মিছিল হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে, আগুন দেওয়া হচ্ছে।

দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আওয়ামী লীগ গোখরা সাপের মতো, তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মন্ত্রণালয়ের আশপাশে থাকা অনেকে আওয়ামী লীগের সাথে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন, যা গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। বাতির নিচে থাকা অন্ধকার শনাক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। এসব বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দূরের কথা, ঘটনা ঘটার পরও তাদের গ্রেপ্তার করার মতো সক্ষমতা সরকার দেখাতে পারছে না। আপনার গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যও আরেকবার যাচাই করুন। কারণ, আপনি বাতির নিচের অন্ধকার দেখতে পান না।

উল্লেখ্য যে, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল।