Hi

০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিডিউল না মেলায় চিত্রনায়ক শরীফুল রাজকে আইনি নোটিশ

চিত্রনায়ক শরীফুল রাজের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশন। বারবার শিডিউল চেয়েও না পাওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটি এই পদক্ষেপ নিয়েছে। শনিবার পাঠানো এই নোটিশে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিনেতার কাছ থেকে শুটিংয়ের শিডিউল দাবি করা হয়েছে। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘নোটিশের তারিখ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শিডিউল দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। আর যদি শিডিউল চায়, সেটা তো অবশ্যই দিব।

‘ঠিকানা’ নামের একটি সিনেমা নির্মাণের জন্য শরীফুল রাজের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন প্রযোজক শাহরিন আক্তার। সিনেমাটি পরিচালনার দায়িত্বে আছেন জুবায়ের ইবনে বকর। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সিনেমাটি ঈদুল আজহায় মুক্তির লক্ষ্য ছিল। তবে সম্প্রতি অন্য দুটি সিনেমায় শরীফুল রাজের কাজ করার বিষয়টি সামনে আসায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রযোজক শাহরিনের দাবি, চুক্তিতে উল্লেখ ছিল যে ঈদে শুধু তাদের সিনেমাই মুক্তি পাবে এবং অভিনেতা অন্য কোনো নতুন কাজ নেবেন না। অথচ রাজ এখন অন্যান্য সিনেমার শিডিউল দিচ্ছেন কিন্তু তাদের শিডিউল দিচ্ছেন মার্চ মাসে। এমন পরিস্থিতিতে ঈদে সিনেমা মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান প্রযোজক। সিনেমার প্রযোজক শাহরিন বলেন,‘আমরা সিনেমা বানাব—এটা নিয়ে বেশ আগে থেকে বলা হয়েছে। সেগুলোতে শিডিউল দিয়েছে, অথচ আমাদের শিডিউল দিচ্ছে না।’। চুক্তির ভিন্নতা নিয়ে অনেক কিছুই বলতে পারি।

সিনেমার পরিচালক জুবায়ের ইবনে বকর বলেন, তারা বিষয়টি নিয়ে আইনি পথে হাঁটছেন। প্রযোজক শাহরিন স্পষ্ট করেছেন, তাদের মূল দাবি শিডিউল, অর্থ সংক্রান্ত কোনো বিবাদ এখানে নেই। মার্চের শিডিউল নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন এবং সেই কারণেই এই আইনি নোটিশের প্রয়োজন হয়েছে। তিনিই এ বিষয়ে কথা বলার সঠিক মানুষ।’।

অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে শরীফুল রাজ জানান, তিনি ব্যক্তিগত বা পেশাগত ক্যারিয়ারে কখনো শিডিউল নিয়ে এমন জটিলতা তৈরি করেননি। টাকা দেওয়া বা শিডিউল না দেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। রাজ বলেন, ‘আমি সিনেমা করতেই এসেছি এবং সব সময়ই শিডিউল মেনে কাজ করি। আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এমন কোনো অভিযোগ কেউ করতে পারবে না।’ তিনি বললেন, ‘প্রযোজকের বক্তব্যই নিন। যাই হোক পেশাগত জায়গায় আমি এসব বিষয়ের চেয়ে কাজ নিয়েই বেশি ভাবতে চাই।

চুক্তির ৪.১১ নম্বর ধারাটি উল্লেখ করে শরীফুল রাজ জানান, সেখানে সিনেমা মুক্তির সময় বা শিডিউল নিয়ে যেভাবে শর্ত দেওয়া হয়েছে, নোটিশে তার প্রতিফলন নেই। তার ভাষ্যমতে, কোনো সিনেমার কাজ করা যাবে না—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা চুক্তিতে ছিল না। তিনি বলেন, সিনেমাটি ঈদেই মুক্তি পাবে, কিন্তু ঈদের পরে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টিও তো নোটিশে উল্লেখ রয়েছে। পেশাগত ক্ষেত্রে শিডিউল নিয়ে এমন আইনি নোটিশ তাকে অবাক করেছে বলেও জানান তিনি। এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ–৫, তাঁর নাটকের ভিউ সবচেয়ে বেশি।

তিনি আরও বলেন, এখন বিষয়টি যেহেতু আইনি পর্যায়ে গড়িয়েছে, তাই তিনিও আইন মেনেই এর জবাব দেবেন। আপাতত প্রযোজক ও পরিচালকের প্রতি সম্মান বজায় রেখে কাজ নিয়েই মনোযোগ দিতে চান বলে জানান অভিনেতা। তবে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সিনেমার শুটিং নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

শিডিউল না মেলায় চিত্রনায়ক শরীফুল রাজকে আইনি নোটিশ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শিডিউল না মেলায় চিত্রনায়ক শরীফুল রাজকে আইনি নোটিশ

আপডেট : ১২:৫৪:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

চিত্রনায়ক শরীফুল রাজের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশন। বারবার শিডিউল চেয়েও না পাওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটি এই পদক্ষেপ নিয়েছে। শনিবার পাঠানো এই নোটিশে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিনেতার কাছ থেকে শুটিংয়ের শিডিউল দাবি করা হয়েছে। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘নোটিশের তারিখ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শিডিউল দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। আর যদি শিডিউল চায়, সেটা তো অবশ্যই দিব।

‘ঠিকানা’ নামের একটি সিনেমা নির্মাণের জন্য শরীফুল রাজের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন প্রযোজক শাহরিন আক্তার। সিনেমাটি পরিচালনার দায়িত্বে আছেন জুবায়ের ইবনে বকর। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সিনেমাটি ঈদুল আজহায় মুক্তির লক্ষ্য ছিল। তবে সম্প্রতি অন্য দুটি সিনেমায় শরীফুল রাজের কাজ করার বিষয়টি সামনে আসায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রযোজক শাহরিনের দাবি, চুক্তিতে উল্লেখ ছিল যে ঈদে শুধু তাদের সিনেমাই মুক্তি পাবে এবং অভিনেতা অন্য কোনো নতুন কাজ নেবেন না। অথচ রাজ এখন অন্যান্য সিনেমার শিডিউল দিচ্ছেন কিন্তু তাদের শিডিউল দিচ্ছেন মার্চ মাসে। এমন পরিস্থিতিতে ঈদে সিনেমা মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান প্রযোজক। সিনেমার প্রযোজক শাহরিন বলেন,‘আমরা সিনেমা বানাব—এটা নিয়ে বেশ আগে থেকে বলা হয়েছে। সেগুলোতে শিডিউল দিয়েছে, অথচ আমাদের শিডিউল দিচ্ছে না।’। চুক্তির ভিন্নতা নিয়ে অনেক কিছুই বলতে পারি।

সিনেমার পরিচালক জুবায়ের ইবনে বকর বলেন, তারা বিষয়টি নিয়ে আইনি পথে হাঁটছেন। প্রযোজক শাহরিন স্পষ্ট করেছেন, তাদের মূল দাবি শিডিউল, অর্থ সংক্রান্ত কোনো বিবাদ এখানে নেই। মার্চের শিডিউল নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন এবং সেই কারণেই এই আইনি নোটিশের প্রয়োজন হয়েছে। তিনিই এ বিষয়ে কথা বলার সঠিক মানুষ।’।

অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে শরীফুল রাজ জানান, তিনি ব্যক্তিগত বা পেশাগত ক্যারিয়ারে কখনো শিডিউল নিয়ে এমন জটিলতা তৈরি করেননি। টাকা দেওয়া বা শিডিউল না দেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। রাজ বলেন, ‘আমি সিনেমা করতেই এসেছি এবং সব সময়ই শিডিউল মেনে কাজ করি। আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এমন কোনো অভিযোগ কেউ করতে পারবে না।’ তিনি বললেন, ‘প্রযোজকের বক্তব্যই নিন। যাই হোক পেশাগত জায়গায় আমি এসব বিষয়ের চেয়ে কাজ নিয়েই বেশি ভাবতে চাই।

চুক্তির ৪.১১ নম্বর ধারাটি উল্লেখ করে শরীফুল রাজ জানান, সেখানে সিনেমা মুক্তির সময় বা শিডিউল নিয়ে যেভাবে শর্ত দেওয়া হয়েছে, নোটিশে তার প্রতিফলন নেই। তার ভাষ্যমতে, কোনো সিনেমার কাজ করা যাবে না—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা চুক্তিতে ছিল না। তিনি বলেন, সিনেমাটি ঈদেই মুক্তি পাবে, কিন্তু ঈদের পরে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টিও তো নোটিশে উল্লেখ রয়েছে। পেশাগত ক্ষেত্রে শিডিউল নিয়ে এমন আইনি নোটিশ তাকে অবাক করেছে বলেও জানান তিনি। এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ–৫, তাঁর নাটকের ভিউ সবচেয়ে বেশি।

তিনি আরও বলেন, এখন বিষয়টি যেহেতু আইনি পর্যায়ে গড়িয়েছে, তাই তিনিও আইন মেনেই এর জবাব দেবেন। আপাতত প্রযোজক ও পরিচালকের প্রতি সম্মান বজায় রেখে কাজ নিয়েই মনোযোগ দিতে চান বলে জানান অভিনেতা। তবে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সিনেমার শুটিং নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।