Hi

১২:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা: তাহসিফের মৃত্যু

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের মোড় ঘুরছে। টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় তার সঙ্গে থাকা বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারীরা এখন মূল রহস্যের উত্তর খুঁজছেন। মৃত্যুর আগে ওই এলাকায় কাদের ধাওয়ার মুখে পড়েছিলেন তাহসিফ—মাদক ব্যবসায়ী নাকি প্রকৃত পুলিশ সদস্য, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হেফাজতে থাকা দীপ তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে মাজার বস্তি এলাকায় অবস্থানকালে তারা পুলিশের পোশাক পরা দুই ব্যক্তিকে দেখতে পান।

তাদের দেখামাত্রই ভয়ে তারা দুজন দুই দিকে দৌড়ে পালিয়ে যান।

দীপের ভাষ্যমতে, একপর্যায়ে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন এবং দীপ সেখান থেকে সরে যান। তবে দীপের এই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান।

পিবিআই তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে রাজধানীর উত্তরায় তাহসিফ ও তার বান্ধবী একটি মোটরসাইকেলে নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর বন্ধু দীপ সেখানে আলাদা একটি মোটরসাইকেলে যোগ দেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বারের লিফটের সামনে তিনজন একসঙ্গে ছিলেন এবং পরে লিফটে করে উপরে ওঠেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে সময় কাটানোর পর তারা রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে প্রবেশ করেন তাহসিফ ও তার বান্ধবী।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পর তারা প্রথমে তাহসিফের বান্ধবীকে তার বাসায় পৌঁছে দেন। এরপর তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান। নিখোঁজ হওয়ার আগে ভবনের নিচে তাদের হাত মেলানোর ফুটেজও পাওয়া গেছে। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে বেরিয়ে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে তাহসিফ আর ফেরেননি। পরদিন বুধবার বিকেলে তুরাগ নদে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি সুজুকি জিক্সার এসএফ মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। এটি তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিআরটিএ-তে যাচাইয়ের পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। শুক্রবার দীপকে সাথে নিয়ে পিবিআইয়ের একটি দল ঘটনাস্থল ও রাজাবাড়ী ঘাট পরিদর্শন করেছে। মোটরসাইকেল পার্ক করে তিনজনই রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, মাদক কারবারিদের কোনো তৎপরতা কিংবা পুলিশের ধাওয়ার মুখে পড়ে জীবন বাঁচাতে তাহসিফ নদে ঝাঁপ দিয়ে থাকতে পারেন। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। দীপের বক্তব্যের বিভিন্ন অসঙ্গতিগুলোও খুঁটিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গত বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দীপকে হেফাজতে নেওয়া হয়। দীপের বক্তব্যেও কিছু অসংগতি রয়েছে, সেগুলো যাচাই করছেন তদন্তকারীরা।

এদিকে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম দাবি করেছেন, তার ছেলের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুরো ঘটনার রাতের গতিবিধি, যাতায়াত এবং তাহসিফের অবস্থানের প্রতিটি তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে পিবিআই। তবে তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখনো এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রদান করেননি।

জনপ্রিয়

কাতারের এমএইচএম স্কুলে এইচএসসিতে ৯২.৭৭ শতাংশ সাফল্য

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা: তাহসিফের মৃত্যু

আপডেট : ০৯:৪৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের মোড় ঘুরছে। টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় তার সঙ্গে থাকা বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারীরা এখন মূল রহস্যের উত্তর খুঁজছেন। মৃত্যুর আগে ওই এলাকায় কাদের ধাওয়ার মুখে পড়েছিলেন তাহসিফ—মাদক ব্যবসায়ী নাকি প্রকৃত পুলিশ সদস্য, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হেফাজতে থাকা দীপ তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে মাজার বস্তি এলাকায় অবস্থানকালে তারা পুলিশের পোশাক পরা দুই ব্যক্তিকে দেখতে পান।

তাদের দেখামাত্রই ভয়ে তারা দুজন দুই দিকে দৌড়ে পালিয়ে যান।

দীপের ভাষ্যমতে, একপর্যায়ে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন এবং দীপ সেখান থেকে সরে যান। তবে দীপের এই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান।

পিবিআই তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে রাজধানীর উত্তরায় তাহসিফ ও তার বান্ধবী একটি মোটরসাইকেলে নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর বন্ধু দীপ সেখানে আলাদা একটি মোটরসাইকেলে যোগ দেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বারের লিফটের সামনে তিনজন একসঙ্গে ছিলেন এবং পরে লিফটে করে উপরে ওঠেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে সময় কাটানোর পর তারা রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে প্রবেশ করেন তাহসিফ ও তার বান্ধবী।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পর তারা প্রথমে তাহসিফের বান্ধবীকে তার বাসায় পৌঁছে দেন। এরপর তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান। নিখোঁজ হওয়ার আগে ভবনের নিচে তাদের হাত মেলানোর ফুটেজও পাওয়া গেছে। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে বেরিয়ে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে তাহসিফ আর ফেরেননি। পরদিন বুধবার বিকেলে তুরাগ নদে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি সুজুকি জিক্সার এসএফ মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। এটি তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিআরটিএ-তে যাচাইয়ের পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। শুক্রবার দীপকে সাথে নিয়ে পিবিআইয়ের একটি দল ঘটনাস্থল ও রাজাবাড়ী ঘাট পরিদর্শন করেছে। মোটরসাইকেল পার্ক করে তিনজনই রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, মাদক কারবারিদের কোনো তৎপরতা কিংবা পুলিশের ধাওয়ার মুখে পড়ে জীবন বাঁচাতে তাহসিফ নদে ঝাঁপ দিয়ে থাকতে পারেন। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। দীপের বক্তব্যের বিভিন্ন অসঙ্গতিগুলোও খুঁটিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গত বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দীপকে হেফাজতে নেওয়া হয়। দীপের বক্তব্যেও কিছু অসংগতি রয়েছে, সেগুলো যাচাই করছেন তদন্তকারীরা।

এদিকে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম দাবি করেছেন, তার ছেলের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুরো ঘটনার রাতের গতিবিধি, যাতায়াত এবং তাহসিফের অবস্থানের প্রতিটি তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে পিবিআই। তবে তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখনো এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রদান করেননি।