সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনেই আইন পাস করার প্রক্রিয়া চলছে। শনিবার ঢাকায় আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দেশে সৌরবিদ্যুৎ প্রসারে সরকার এখন বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ের দপ্তরগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহারের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে, তা রাতারাতি নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। এমন চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও নাগরিকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মন্ত্রী জানান, জনগণের জ্বালানি ব্যয়ের চাপ কমাতে সরকার ভর্তুকির সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন করে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে এটি বাস্তবায়ন করা হবে, যা ভবিষ্যতে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার ভালুকায় ইতোমধ্যে ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার প্রকল্প চালু করেছে, যা ঘরে ঘরে সৌরবিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে। স্থানীয় পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুবিধার্থে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৬০০টি সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই খাতের বিস্তারের ফলে নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে ৮ হাজার ৬০০ সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাজারে সোলার প্যানেলের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকার যথেষ্ট সচেতন এবং এই বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি থাকবে। নাগরিক জীবনকে স্বস্তিদায়ক ও স্বাভাবিক রাখতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
রিপোর্টার নাম: 
























