ইরানের ওপর নতুন কোনো আগ্রাসন চালানো হলে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ও ভয়াবহ জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি।
তিনি জানান, যুদ্ধের ক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের সম্পদ ও লক্ষ্যবস্তুর একটি নতুন তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমান ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে। এই সামরিক পরিকল্পনা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির নির্দেশে প্রস্তুত করা হয়েছে, যিনি যেকোনো হুমকির মুখে দ্রুত ও কার্যকর জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
জেনারেল আবদোল্লাহি জানান, সর্বোচ্চ নেতার এই নির্দেশনা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য একটি পরিষ্কার দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো মাত্রার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। মার্কিন ও জায়নবাদী শত্রুদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ইরানের জনগণের ওপর নতুন করে কোনো হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে সম্পূর্ণ নতুন ও অকল্পনীয় কৌশলে, যা আগের তৃতীয় যুদ্ধের চেয়েও বেশি তীব্র হবে। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুদের মোকাবিলায় নতুন চমক দেখানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা ইরানই নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন এই সেনাকর্মকর্তা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শত্রুদের পরাজিত করেই যুদ্ধের সমাপ্তি টানা হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছিল এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল। একই সঙ্গে শত্রুপক্ষের জাহাজ চলাচলের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান।
ভবিষ্যৎ সংঘাতের ক্ষেত্রে নতুন লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ না থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংশ্লিষ্ট ডেটা সেন্টার, যোগাযোগের সাবমেরিন কেবল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোও এখন তাদের সম্ভাব্য নিশানায় রয়েছে। আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে শত্রুকে ভৌগোলিক সীমারেখার ঊর্ধ্বে উঠে মোকাবিলার জন্য ইরানের বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান জেনারেল আবদোল্লাহি।
রিপোর্টার নাম: 





















