Hi

০২:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ, উত্তেজনায় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও উত্তেজনার রেশ রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত বজায় থাকে। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে পুরো ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত তৎপরতা শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। ওই প্রদর্শনীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার বেশ কয়েকজনের ছবি প্রদর্শন করা হচ্ছিল। প্রদর্শনী চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রদর্শিত ব্যানার ও ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাক্যবিনিময় ও কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই বাগ্‌বিতণ্ডা সহিংসতায় রূপ নেয় এবং দুই দলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় লিপ্ত হন। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

সংঘর্ষের সূত্রপাত সম্পর্কে ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক অভিযোগ করেন যে, তাঁদের প্রদর্শনীতে থাকা ছবিগুলোকে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে জোরপূর্বক নামিয়ে ফেলতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানানো হলেও তা উপেক্ষা করে ছাত্রদল তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে দাবি করেন তিনি। শিবলী সাদিক আরও জানান, পরবর্তীতে প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও ছাত্রদল পরবর্তীতে আবার লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে হামলা চালায়।

অন্যদিকে, সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন। মুঠোফোনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শন করা হচ্ছিল এবং তা নিয়ে আপত্তি জানানোয় ছাত্রশিবিরের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ছাত্রশিবির কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করিয়ে এই সংঘর্ষের সূচনা করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কোনো আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন এই ছাত্রদল নেতা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় রাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং প্রক্টর সরাসরি মাঠে নেমে উভয় পক্ষের উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে তাজহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের ডেকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পুরো ঘটনাটি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চিহ্নিত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমান ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে।

জনপ্রিয়

ফ্যাশন ও অভিনয়ে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন আশনা হাবিব ভাবনা, জন্মদিনে বিশেষ ঝলক

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ, উত্তেজনায় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি

আপডেট : ১২:২২:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও উত্তেজনার রেশ রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত বজায় থাকে। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে পুরো ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত তৎপরতা শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। ওই প্রদর্শনীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার বেশ কয়েকজনের ছবি প্রদর্শন করা হচ্ছিল। প্রদর্শনী চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রদর্শিত ব্যানার ও ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাক্যবিনিময় ও কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই বাগ্‌বিতণ্ডা সহিংসতায় রূপ নেয় এবং দুই দলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় লিপ্ত হন। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

সংঘর্ষের সূত্রপাত সম্পর্কে ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক অভিযোগ করেন যে, তাঁদের প্রদর্শনীতে থাকা ছবিগুলোকে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে জোরপূর্বক নামিয়ে ফেলতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানানো হলেও তা উপেক্ষা করে ছাত্রদল তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে দাবি করেন তিনি। শিবলী সাদিক আরও জানান, পরবর্তীতে প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও ছাত্রদল পরবর্তীতে আবার লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে হামলা চালায়।

অন্যদিকে, সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন। মুঠোফোনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শন করা হচ্ছিল এবং তা নিয়ে আপত্তি জানানোয় ছাত্রশিবিরের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ছাত্রশিবির কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করিয়ে এই সংঘর্ষের সূচনা করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কোনো আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন এই ছাত্রদল নেতা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় রাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং প্রক্টর সরাসরি মাঠে নেমে উভয় পক্ষের উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে তাজহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের ডেকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পুরো ঘটনাটি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চিহ্নিত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমান ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে।