Hi

০৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০২:২৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ জন দেখেছে

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৪টা ১৮ মিনিটে বিশ্ব সংস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে তিনি তার প্রথম ভাষণটি প্রদান করেন। পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি এক বিরল ইতিহাসের অংশ হলেন। তারেক-শেহবাজের প্রথম বৈঠক, সম্পর্ক নিয়ে যে বার্তা দিল পাকিস্তান।

সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় নিজের প্রথম এই বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। জাতিসংঘের দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে একই পরিবারের বাবা, মা ও ছেলের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান হিসেবে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কোনো নজির নেই। নিউইয়র্ক সময় বিকালে সাধারণ পরিষদ হলে দেওয়া এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী কোটি কোটি বাংলাদেশির আশা-আকাঙ্ক্ষা, মানবাধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অগ্রাধিকারসমূহ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহযোগিতা, মানবিক সংকট নিরসন এবং রোহিঙ্গা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

তারেক রহমানের এই ভাষণের মাধ্যমে তার পরিবারের সঙ্গে জাতিসংঘের চার দশকের সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে প্রথমবার ভাষণ দেন। সে সময় তিনি ক্ষুধা, দারিদ্র্য দূরীকরণ, ধনী-দরিদ্র দেশগুলোর ব্যবধান কমানো এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছিলেন। এছাড়া মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর ৪৮তম অধিবেশনে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের মঞ্চে ভাষণ দেন। নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ২০০২ সালে শিশু বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশন চলাকালীন দুটি ভিন্ন সভায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণের পর রাষ্ট্রপতি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে নেতানিয়াহুর ভাষণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশসহ ৭৭টি দেশ ওয়াকআউট করে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। জাতিসংঘে দূরদর্শী ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন। জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ ঘিরে তীব্র প্রতিবাদ, বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশের ওয়াকআউট।

অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে দেশের সব হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আরও ১১টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের লক্ষ্যে বোয়িং কোম্পানির সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো তারেক রহমান ও শেহবাজ শরিফের বৈঠক হয়েছে এবং ডা. জুবাইদা রহমান ফ্যামিলি কার্ডের আওতাভুক্ত হবেন বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সই বিমানের।

জনপ্রিয়

শ্রীবরদীতে ঝরে পড়া রোধ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে মাঠ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট : ০২:২৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৪টা ১৮ মিনিটে বিশ্ব সংস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে তিনি তার প্রথম ভাষণটি প্রদান করেন। পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি এক বিরল ইতিহাসের অংশ হলেন। তারেক-শেহবাজের প্রথম বৈঠক, সম্পর্ক নিয়ে যে বার্তা দিল পাকিস্তান।

সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় নিজের প্রথম এই বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। জাতিসংঘের দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে একই পরিবারের বাবা, মা ও ছেলের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান হিসেবে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কোনো নজির নেই। নিউইয়র্ক সময় বিকালে সাধারণ পরিষদ হলে দেওয়া এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী কোটি কোটি বাংলাদেশির আশা-আকাঙ্ক্ষা, মানবাধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অগ্রাধিকারসমূহ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহযোগিতা, মানবিক সংকট নিরসন এবং রোহিঙ্গা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

তারেক রহমানের এই ভাষণের মাধ্যমে তার পরিবারের সঙ্গে জাতিসংঘের চার দশকের সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে প্রথমবার ভাষণ দেন। সে সময় তিনি ক্ষুধা, দারিদ্র্য দূরীকরণ, ধনী-দরিদ্র দেশগুলোর ব্যবধান কমানো এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছিলেন। এছাড়া মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর ৪৮তম অধিবেশনে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের মঞ্চে ভাষণ দেন। নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ২০০২ সালে শিশু বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশন চলাকালীন দুটি ভিন্ন সভায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণের পর রাষ্ট্রপতি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে নেতানিয়াহুর ভাষণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশসহ ৭৭টি দেশ ওয়াকআউট করে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। জাতিসংঘে দূরদর্শী ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন। জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ ঘিরে তীব্র প্রতিবাদ, বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশের ওয়াকআউট।

অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে দেশের সব হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আরও ১১টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের লক্ষ্যে বোয়িং কোম্পানির সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো তারেক রহমান ও শেহবাজ শরিফের বৈঠক হয়েছে এবং ডা. জুবাইদা রহমান ফ্যামিলি কার্ডের আওতাভুক্ত হবেন বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সই বিমানের।