Hi

০৬:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে জমে উঠেছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

তিন বছর বিরতির পর সিলেট নগরের গ্রেটার শাহি ঈদগাহ মিনি স্টেডিয়ামে আবারও ফিরেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মেলায় ১৫টি প্যাভিলিয়ন ও শতাধিক স্টল স্থাপন করা হয়েছে। এটি এখন কেবল কেনাকাটার কেন্দ্র নয়, বরং সব বয়সী মানুষের জন্য একটি আনন্দময় আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। মেলা শুরু হয়েছে ১৫ অক্টোবর এবং চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকছে মেলা প্রাঙ্গণ এবং জনপ্রতি প্রবেশমূল্য ধরা হয়েছে ৩০ টাকা। স্রেফ কেনাকাটার বাজারই নয়, সিলেটবাসীর জন্য এটি যেন সময় কাটানোর এক আনন্দময় আড্ডাস্থল।

মেলার তোরণ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে নান্দনিক সজ্জা ও ফোয়ারা। আন্তর্জাতিক প্যাভিলিয়নে নজর কাড়ছে বাহারি সব পণ্য। ভারতীয় ও পাকিস্তানি বিভিন্ন ডিজাইনের নাগরা ও কোলাপুরি জুতা পাওয়া যাচ্ছে ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। পাশাপাশি দেশি ব্র্যান্ডের জুতা মিলছে ২৫০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে। এছাড়াও ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে কাশ্মীরি শাল। পোশাকের পসরায় আছে ঢাকাই জামদানি, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি (৫৫০ টাকা), কাতান (১ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা), জর্জেট (২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা) এবং জামদানি (২ হাজার ৫০০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা)। বিভিন্ন মানের থ্রি-পিস মিলছে ৫৫০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন মূল্যে। জেনে নিন, মিষ্টি পেঁপে কেনার ৭টি কৌশল। মিলবে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায়। মূল তোরণ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে বাতাসে দোল খাওয়া সাদা কাপড়ের ঢেউ আর লতানো ফুলের সাজ। শুরুতেই নজর কাড়বে ভারতীয় ও পাকিস্তানি জুতার দোকান। উল্টো পাশেই মিলবে কাশ্মীরি শাল, ব্যাগ, কুশন কভার ও টেবিল রানার।

নারী উদ্যোক্তা জোনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে হাতে তৈরি পণ্য। কমলগঞ্জের আদমপুর থেকে আসা জোহরা বেগম তাঁর ৩০ জন কর্মীর হাতে বোনা ঐতিহ্যবাহী মণিপুরি শাড়ি, শাল, থ্রি-পিস ও বেডশিট নিয়ে হাজির হয়েছেন। এছাড়া ছেলেদের জন্য ৫০০ টাকায় শার্ট, ১৫০-২০০ টাকায় টি-শার্ট এবং ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় শীতের ব্লেজার পাওয়া যাচ্ছে। টি-শার্টে পছন্দমতো ছবি প্রিন্ট করার সুবিধাও রয়েছে। ঘর সাজানোর জন্য আছে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা মূল্যের রঙিন নকশিকাঁথা। মৃৎশিল্পের স্টলগুলোতে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় ডিনার সেটসহ মাটির তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্র পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাঁশ-বেতের কুটিরশিল্প, ঘর সাজানোর শোপিস ও ইনডোর গাছের নার্সারি মেলায় বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করেছে। মেলামাইন আর সিরামিকের বাইরে নজর কাড়ছে মাটির তৈরি হাঁড়িপাতিল, কড়াই, তাওয়া, চায়ের কাপ ও ডিনার সেট।

কেনাকাটার পাশাপাশি মেলার বিনোদন জোন দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। শিশু-কিশোররা নাগরদোলা, রকমারি দোলনা, বোট রাইড, টয় ট্রেন ও বেলুন শুটিংয়ের মতো রাইডগুলোতে মেতে উঠছে। দুপুরের কড়া রোদ উপেক্ষা করেও দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে এসব রাইডের সামনে। কেনাকাটা ও বিনোদনের এক চমৎকার সংমিশ্রণে সিলেটবাসীর কাছে মেলাটি অত্যন্ত উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।

বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সিলেটে জমে উঠেছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

আপডেট : ০৬:১৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

তিন বছর বিরতির পর সিলেট নগরের গ্রেটার শাহি ঈদগাহ মিনি স্টেডিয়ামে আবারও ফিরেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মেলায় ১৫টি প্যাভিলিয়ন ও শতাধিক স্টল স্থাপন করা হয়েছে। এটি এখন কেবল কেনাকাটার কেন্দ্র নয়, বরং সব বয়সী মানুষের জন্য একটি আনন্দময় আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। মেলা শুরু হয়েছে ১৫ অক্টোবর এবং চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকছে মেলা প্রাঙ্গণ এবং জনপ্রতি প্রবেশমূল্য ধরা হয়েছে ৩০ টাকা। স্রেফ কেনাকাটার বাজারই নয়, সিলেটবাসীর জন্য এটি যেন সময় কাটানোর এক আনন্দময় আড্ডাস্থল।

মেলার তোরণ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে নান্দনিক সজ্জা ও ফোয়ারা। আন্তর্জাতিক প্যাভিলিয়নে নজর কাড়ছে বাহারি সব পণ্য। ভারতীয় ও পাকিস্তানি বিভিন্ন ডিজাইনের নাগরা ও কোলাপুরি জুতা পাওয়া যাচ্ছে ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। পাশাপাশি দেশি ব্র্যান্ডের জুতা মিলছে ২৫০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে। এছাড়াও ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে কাশ্মীরি শাল। পোশাকের পসরায় আছে ঢাকাই জামদানি, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি (৫৫০ টাকা), কাতান (১ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা), জর্জেট (২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা) এবং জামদানি (২ হাজার ৫০০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা)। বিভিন্ন মানের থ্রি-পিস মিলছে ৫৫০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন মূল্যে। জেনে নিন, মিষ্টি পেঁপে কেনার ৭টি কৌশল। মিলবে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায়। মূল তোরণ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে বাতাসে দোল খাওয়া সাদা কাপড়ের ঢেউ আর লতানো ফুলের সাজ। শুরুতেই নজর কাড়বে ভারতীয় ও পাকিস্তানি জুতার দোকান। উল্টো পাশেই মিলবে কাশ্মীরি শাল, ব্যাগ, কুশন কভার ও টেবিল রানার।

নারী উদ্যোক্তা জোনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে হাতে তৈরি পণ্য। কমলগঞ্জের আদমপুর থেকে আসা জোহরা বেগম তাঁর ৩০ জন কর্মীর হাতে বোনা ঐতিহ্যবাহী মণিপুরি শাড়ি, শাল, থ্রি-পিস ও বেডশিট নিয়ে হাজির হয়েছেন। এছাড়া ছেলেদের জন্য ৫০০ টাকায় শার্ট, ১৫০-২০০ টাকায় টি-শার্ট এবং ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় শীতের ব্লেজার পাওয়া যাচ্ছে। টি-শার্টে পছন্দমতো ছবি প্রিন্ট করার সুবিধাও রয়েছে। ঘর সাজানোর জন্য আছে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা মূল্যের রঙিন নকশিকাঁথা। মৃৎশিল্পের স্টলগুলোতে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় ডিনার সেটসহ মাটির তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্র পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাঁশ-বেতের কুটিরশিল্প, ঘর সাজানোর শোপিস ও ইনডোর গাছের নার্সারি মেলায় বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করেছে। মেলামাইন আর সিরামিকের বাইরে নজর কাড়ছে মাটির তৈরি হাঁড়িপাতিল, কড়াই, তাওয়া, চায়ের কাপ ও ডিনার সেট।

কেনাকাটার পাশাপাশি মেলার বিনোদন জোন দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। শিশু-কিশোররা নাগরদোলা, রকমারি দোলনা, বোট রাইড, টয় ট্রেন ও বেলুন শুটিংয়ের মতো রাইডগুলোতে মেতে উঠছে। দুপুরের কড়া রোদ উপেক্ষা করেও দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে এসব রাইডের সামনে। কেনাকাটা ও বিনোদনের এক চমৎকার সংমিশ্রণে সিলেটবাসীর কাছে মেলাটি অত্যন্ত উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।