সুনামগঞ্জের প্রায় ৮৭ কোটি টাকার একটি সড়ক সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক ওভার এস্টিমেট, চরম অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে জেলা বিএনপি। একই সাথে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে এক সাব-ঠিকাদারের দেওয়া অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টায় জেলা বিএনপি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ৮৬ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের ওভার এস্টিমেট ও ব্যাপক অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক বিভাগের জরুরি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর-সালামপুর ব্রিজের ১ ও ২ নম্বর অংশ এবং প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও গাইডওয়াল নির্মাণে ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার প্রাক্কলন (এস্টিমেট) করা হয়। ঢাকার ‘ইসলাম ট্রেডার্স’ নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই মেগা কাজের দায়িত্ব পায়, যার মালিক আওয়ামী লীগ সমর্থক বদরুল ইসলাম। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি গা ঢাকা দিলে প্রথমে আওয়ামী লীগ নেতা আজাদ হোসেন এবং পরে বিভিন্ন মামলার আসামি শফিকুল ইসলাম সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজের দায়িত্ব নেন।
প্রকল্পে নজিরবিহীন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে মিলন অভিযোগ করেন, মাত্র ৪০ কোটি টাকার কাজের জায়গায় প্রাক্কলন বাড়িয়ে ৮৬ কোটি টাকারও বেশি দেখানো হয়েছে। যেখানে মাত্র ৭ লাখ ঘনফুট মাটির কাজ করার কথা, সেখানে এস্টিমেটে উল্লেখ করা হয়েছে ৫৬ লাখ ঘনফুট। অর্থাৎ প্রায় আট গুণ বেশি মাটি দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও লুটপাটের পাঁয়তারা চলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৭ অক্টোবর সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল সংশ্লিষ্ট সড়ক এলাকা পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি সদ্য নির্মিত গাইডওয়াল হেলে পড়া এবং নিচু মানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা পান। তাছাড়া মাটির সঠিক কমপ্যাকশন বা সংকোচন ছাড়াই জিও-টেক্সটাইলের ওপর ব্লক বসানো হচ্ছিল এবং ভিট বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছিল কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল)। ঘটনার পরদিন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সাথে নিয়ে পুনরায় পরিদর্শনের ঘোষণা দেন তিনি। তবে সেই পরিদর্শনের দিনই সাব-ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এমপির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করেন।
বিএনপি নেতারা এই ঘটনাকে একটি সংঘবদ্ধ তথ্যসন্ত্রাস হিসেবে আখ্যা দেন। তারা জানান, ৮৬ কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় ধরা ও দুর্নীতিতে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা বিএনপির স্বাক্ষর ক্ষমতাসম্পন্ন সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হক, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, আকবর আলী, অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী, রেজাউল হক, নাদির আহমেদ ও আ. ত. ম. মিসবাহ।
রিপোর্টার নাম: 

























