Hi

০৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারে ছাত্রদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যু: লাশ নিয়ে পীরগাছা থানায় স্বজন ও সহকর্মীদের বিক্ষোভ

ঢাকার সাভারে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মোনারুল ইসলাম বকসী (২৯) নামের এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহত মোনারুল সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন এবং তাঁর গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামে। গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশি অভিযانের সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এই মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করে শনিবার সকালে নিহতের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্বজন, স্থানীয় এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা।

ঘটনার সূত্রপাত হয় পীরগাছার একটি কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার জেরে দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে। সাভার মডেল থানা ও রংপুরের পীরগাছা থানার একটি যৌথ পুলিশ দল বিপিএটিসি আবাসিক ভবনের ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়, যেখানে মোনারুলের বাবা জাফর আলী বকসী দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত এবং সপরিবারে বসবাস করতেন। পুলিশের দাবি, নিখোঁজ কিশোরী ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযানটি পরিচালিত হয়েছিল। অভিযানের একপর্যায়ে ভবনের ছাদ থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দ পান উপস্থিত লোকজন। দ্রুত নিচে গিয়ে মোনারুলের রক্তাক্ত ও নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার পথে পীরগাছা থানার সামনে থামানো হয়। সেখানে আগে থেকেই জড়ো হওয়া শতাধিক গ্রামবাসী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় কিছু সময় ধরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং পরে মরদেহ গ্রামে নিয়ে গিয়ে জোহরের নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহত মোনারুলের বড় ভাই মমদেল হোসেন বকসী অভিযোগ করেন, নিখোঁজ কিশোরীর বাবা মিন্টুসহ পুলিশের সহযোগিতায় তাঁর ভাইকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, নিখোঁজ কিশোরীর সঙ্গে মোনারুলের এক ভাগ্নের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাঁরা স্বেচ্ছায় সাভারে অবস্থান করছিলেন। ছাদেই কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মোনারুলকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক দাবি করেছেন, স্বজনেরা মূলত পুলিশ কেন সাভারে গিয়েছিল এবং অভিযানের নেপথ্যে কী তথ্য ছিল তা জানতে চেয়েছিল। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। দাফন কাজ শেষ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। পুলিশ এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

জনপ্রিয়

জেন-জিদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ইউটিউবের অ্যালগরিদম কি ডিজিটাল ফাঁদ?

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সাভারে ছাত্রদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যু: লাশ নিয়ে পীরগাছা থানায় স্বজন ও সহকর্মীদের বিক্ষোভ

আপডেট : ০৭:৫০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকার সাভারে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মোনারুল ইসলাম বকসী (২৯) নামের এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহত মোনারুল সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন এবং তাঁর গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামে। গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশি অভিযانের সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এই মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করে শনিবার সকালে নিহতের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্বজন, স্থানীয় এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা।

ঘটনার সূত্রপাত হয় পীরগাছার একটি কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার জেরে দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে। সাভার মডেল থানা ও রংপুরের পীরগাছা থানার একটি যৌথ পুলিশ দল বিপিএটিসি আবাসিক ভবনের ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়, যেখানে মোনারুলের বাবা জাফর আলী বকসী দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত এবং সপরিবারে বসবাস করতেন। পুলিশের দাবি, নিখোঁজ কিশোরী ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযানটি পরিচালিত হয়েছিল। অভিযানের একপর্যায়ে ভবনের ছাদ থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দ পান উপস্থিত লোকজন। দ্রুত নিচে গিয়ে মোনারুলের রক্তাক্ত ও নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার পথে পীরগাছা থানার সামনে থামানো হয়। সেখানে আগে থেকেই জড়ো হওয়া শতাধিক গ্রামবাসী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় কিছু সময় ধরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং পরে মরদেহ গ্রামে নিয়ে গিয়ে জোহরের নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহত মোনারুলের বড় ভাই মমদেল হোসেন বকসী অভিযোগ করেন, নিখোঁজ কিশোরীর বাবা মিন্টুসহ পুলিশের সহযোগিতায় তাঁর ভাইকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, নিখোঁজ কিশোরীর সঙ্গে মোনারুলের এক ভাগ্নের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাঁরা স্বেচ্ছায় সাভারে অবস্থান করছিলেন। ছাদেই কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মোনারুলকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক দাবি করেছেন, স্বজনেরা মূলত পুলিশ কেন সাভারে গিয়েছিল এবং অভিযানের নেপথ্যে কী তথ্য ছিল তা জানতে চেয়েছিল। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। দাফন কাজ শেষ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। পুলিশ এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।