মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হয়েছেন টড ব্ল্যাঞ্চ। স্থানীয় সময় শনিবার দেশটির উচ্চকক্ষ সিনেটে এক রুদ্ধদ্বার ও নাটকীয় ভোটাভুটির মধ্য দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের অনুমোদন লাভ করেন তিনি। দীর্ঘ দেনদরবার ও তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ৫০-৪৯ ভোটের স্বল্প ব্যবধানে তাঁর মনোনয়ন পাস হয়। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সবচেয়ে বিতর্কিত ও জটিল মন্ত্রিসভা নিয়োগসংক্রান্ত রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটল।
ব্ল্যাঞ্চের এই মনোনয়ন নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত এই প্রার্থীর বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ক্ষমতা অপব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে খোদ রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই তীব্র উদ্বেগ ছিল। ভোটাভুটিতে রিপাবলিকান পার্টির দুই সিনেটর সুসান কলিন্স এবং লিসা মারকোভস্কি ব্ল্যাঞ্চের বিপক্ষে ভোট দেন। ফলে মনোনয়ন প্রায় ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সিনেটর বিল ক্যাসিডি ব্ল্যাঞ্চের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সংকট কেটে যায়। ক্যাসিডি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের বিবেচনাধীন অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় ব্ল্যাঞ্চকেই তুলনামূলক যোগ্য ও বিশ্বস্ত বলে মনে হয়েছে তাঁর কাছে।
গত এপ্রিল মাস থেকেই ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন টড ব্ল্যাঞ্চ। এর আগে তিনি বিচার বিভাগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে দপ্তরটির দৈনন্দিন কার্যক্রম অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছিলেন। তবে তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড ও কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সিনেটের আইন প্রণেতারা। বিশেষ করে জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত স্পর্শকাতর নথি প্রকাশ এবং ট্রাম্পের ১৮০ কোটি ডলারের ‘প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক অপব্যবহারবিরোধী’ তহবিল গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ছিল। পাশাপাশি ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের কর-সুরক্ষা চুক্তিতে ব্ল্যাঞ্চের ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।
সমালোচকদের মতে, এই তহবিলটি মূলত ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে সংঘটিত দাঙ্গায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষার একটি গোপন মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস বা আইআরএসের বিরুদ্ধে করা ট্রাম্পের ১ হাজার কোটি ডলারের মামলার প্রেক্ষাপটেই ওই কর-সুরক্ষা চুক্তি ও বিতর্কিত তহবিল গঠিত হয়েছিল। এই চুক্তির আওতায় ট্রাম্প পরিবার ও তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পুরোনো কর বিবরণী নিরীক্ষা করা থেকে আইআরএসকে বিরত রাখা হয়েছিল।
সিনেটের আস্থা অর্জন করতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্যাপিটল হিলে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন টড ব্ল্যাঞ্চ। রাজনৈতিক চাপ ও কঠোর জেরার মুখে পড়ে তিনি শেষ পর্যন্ত কর-সুরক্ষা চুক্তির পরিধি কমিয়ে আনতে এবং বিতর্কিত তহবিল থেকে অর্থ প্রদান বন্ধ করতে লিখিতভাবে সম্মত হন। এই সমঝোতার পরই তাঁর পক্ষে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা সম্ভব হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাটর্নি জেনারেলের মতো সংবেদনশীল পদে ব্ল্যাঞ্চের এই অভিষেক ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে, যদিও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা এবং আইন প্রয়োগের স্বচ্ছতা বজায় রাখা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
রিপোর্টার নাম: 



















