মধ্য আমেরিকার দেশ মেক্সিকোর অন্যতম সক্রিয় ও বিপজ্জনক আগ্নেয়গিরি পোপোকাতেপেতলে ফের ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ আগস্ট সংঘটিত এই আকস্মিক বিস্ফোরণে ধোঁয়া ও ছাইয়ের সুবিশাল কুণ্ডলী প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার উঁচুতে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। মেক্সিকোর জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ কেন্দ্র (CENAPRED) জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর থেকেই আগ্নেয়গিরিটির মুখ থেকে ক্রমাগত ছাই, গ্যাস এবং প্রজ্জ্বলিত লাভাকণা নির্গত হচ্ছে, যা আশেপাশের জনপদগুলোর জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পোপোকাতেপেতলের এই সাম্প্রতিক সক্রিয়তার ফলে মেক্সিকো সিটি এবং সংলগ্ন পুয়েবলা ও মোরেলোস রাজ্যের আকাশ ছাইয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়নি। তা সত্ত্বেও, সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল ডিফেন্স ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না যাওয়া এবং মাস্ক ও চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে বাতাসে ভেসে বেড়ানো বিষাক্ত ছাইয়ের কারণে শ্বাসকষ্ট বা চোখের সমস্যা এড়ানো সম্ভব হয়।
বিশেষজ্ঞ ভূতত্ত্ববিদদের মতে, পোপোকাতেপেতল আগ্নেয়গিরিটি দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর গর্ভ থেকে মাঝে মাঝেই এ ধরনের মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে। আগ্নেয়গিরিটির পেটের ভেতরের ম্যাগমা সঞ্চালন বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। মেক্সিকোর জনবহুল রাজধানী থেকে মাত্র প্রায় ৭২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় এই আগ্নেয়গিরির যেকোনো বড় ধরনের অগ্ন্যুৎপাত কোটি মানুষের জীবনের ওপর সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। ফলে ভূতাত্ত্বিক গবেষক ও নজরদারি দলগুলো দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কৃত্রিম উপগ্রহ এবং সিসমোগ্রাফের মাধ্যমে পোপোকাতেপেতলের গতিবিধির ওপর কঠোর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে আগ্নেয়গিরির পাদদেশ সংলগ্ন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং ক্রাফট বা গর্তের আশেপাশের ১২ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও (FAA) এই এলাকার ওপর দিয়ে চলাচলকারী বিমানগুলোর জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে, কারণ আগ্নেয়গিরির ছাই বিমানের ইঞ্জিনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সতর্কতা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রিপোর্টার নাম: 






















