হাজার বছরের ঐতিহ্য, নিখুঁত কারিগরি এবং আঞ্চলিক বৈচিত্র্যের অনন্য এক মেলবন্ধনে ফরাসি পনির বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। ফ্রান্সের খাদ্যসংস্কৃতিতে পনিরকে কেবল একটি সাধারণ খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয় না, বরং এটি তাদের সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং সভ্যতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দুধ সংরক্ষণের প্রাচীন কৌশল থেকে শুরু করে দীর্ঘ সাধনা ও শিল্পসত্তার সমন্বয়ে ফরাসিরা পনির তৈরিতে বিশ্বজুড়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্থান অধিকার করেছে। তবে নিজস্ব সমৃদ্ধ পনিরের ভাণ্ডার ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিখ্যাত ও উৎকৃষ্ট কিছু পনির ফরাসিদের রান্নাবান্না ও রসনাতৃপ্তির তালিকায় বিশেষ স্থান দখল করে আছে। বিশ্বজুড়ে পনিরের এই বিশাল সাম্রাজ্যে এমন কিছু সুস্বাদু পনির রয়েছে, যা ফরাসি রন্ধনশিল্পীসহ আন্তর্জাতিক খাদ্যরসিকদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়।
ইতালির দক্ষিণ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মোজারেলা পনির বিশ্বজুড়ে এক আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আদিতে মহিষের দুধ থেকে তৈরি হলেও বর্তমানে গরুর দুধের মোজারেলাই বাজারে বেশি দেখা যায়। দেখতে অনেকটা নরম রসগোল্লার মতো হলেও এর সঙ্গে মিষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই। হালকা দুধেল ঘ্রাণ ও কোমল স্বাদের এই পনির পিৎজা, সালাদ এবং বিভিন্ন বেকড ডিশে এক অতুলনীয় স্বাদ যোগ করে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র মোজারেলা উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থান অধিকার করেছে এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেও এর ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইতালির আরেকটি শতবর্ষী ও বিশ্বখ্যাত পনির হলো ‘পারমিজিয়ানো-রেজিয়ানো’, যাকে পনিরের রাজাও বলা হয়। গরুর কাঁচা দুধ, প্রাকৃতিক রেনেট ও লবণের সমন্বয়ে তৈরি প্রায় ৪০ কেজির এই পনির দীর্ঘ সময় ধরে পরিপক্ব করা হয়। পরিপক্বতার সময় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর স্বাদ আরও ঘনীভূত হয় এবং দানাদার গঠন তৈরি হয়। মধ্যযুগের ঐতিহ্য ধরে রেখে আজও নির্দিষ্ট ভৌগোলিক নিয়ম মেনে এটি উৎপাদিত হয়। পাস্তা, রিসোত্তো, স্যুপ কিংবা পিৎজায় এই পনিরের ব্যবহার রান্নার স্বাদ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
নেদারল্যান্ডসের দক্ষিণ হল্যান্ড প্রদেশের গৌদা শহর থেকে উদ্ভূত ‘গৌদা’ পনির বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত সমাদৃত। এই পনিরের নামে গড়ে ওঠা ৭০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী পনিরের বাজার বা চিজ মার্কেট বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। হালকা ক্যারামেল ও মাখন-মাখন স্বাদের গৌদা স্যান্ডউইচ, পাস্তা থেকে শুরু করে ওয়াইনের সঙ্গে চমৎকার মানিয়ে যায়। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের সমারসেট অঞ্চলের চেডার পনির তার স্বতন্ত্র স্বাদ ও ঘ্রাণের বৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত। প্রাকৃতিক গুহার অনুকূল পরিবেশে পরিপক্ব হওয়া এই পনির মৃদু ক্রিমি থেকে শুরু করে ঝাঁজালো স্বাদে রন্ধনশিল্পীদের প্রথম পছন্দ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।
রিপোর্টার নাম: 




















