Hi

১০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটবল বিশ্বকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিলেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি

বিশ্ব ফুটবলের বরপুত্র লিওনেল মেসির পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করার পর মারা গেছেন বিশ্বতারকা মেসির বাবা ও ব্যক্তিগত পথপ্রদর্শক হোর্হে মেসি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রয়াণ নিয়ে নানা গুঞ্জন চললেও, পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’ ও ‘লা ন্যাসিয়ন’-এর প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক সংবাদ নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া মেসির শৈশবের ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজও আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে শোক জানিয়েছে।

ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়, জন্মশহর রোজারিওতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন হোর্হে মেসি। ক্লাব অ্যাটলেটিকো নিওয়েলস ওল্ড বয়েজ তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকার্ত মেসি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। মাঠের বাইরে লিওনেল মেসির দীর্ঘ ও বর্ণিল ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন হোর্হে। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের সব সিদ্ধান্ত এবং চুক্তি ব্যবস্থাপনায় তিনি ছিলেন অদম্য অভিভাবক। পেশাগত জীবনে তিনি একজন প্রশিক্ষিত রাসায়নিক প্রযুক্তিবিদ হলেও ফুটবলের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ ছিল। নিজের তরুণ বয়সে নিউয়েলসের যুবদলে মাঝমাঠের প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও তৎকালীন সামরিক চাকরির বাধ্যবাধকতার কারণে তাকে অকালেই বুট জোড়া তুলে রাখতে হয়েছিল। পরবর্তীতে নিজের সেই অপূর্ণ স্বপ্ন তিনি সফলভাবে রূপায়ণ করেছিলেন তাঁর দুই ছেলে ও বিশ্বজয়ী পুত্র লিওনেল মেসির মাধ্যমে।

হোর্হে মেসির অসুস্থতার বিষয়টি জনসমক্ষে আসে মূলত বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত বিশদ ফুটবল মহাযজ্ঞের ঠিক আশপাশে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রাথমিক পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর আবেগাপ্লুত হয়ে মাঠে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। পরবর্তীতে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করার পর ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মেসি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অকপটে স্বীকার করেন যে তিনি জীবনের একটি অত্যন্ত কঠিন ও সংকটময় ব্যক্তিগত সময় পার করছেন। এর কিছুকাল পরে মেসি পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় যে, সিনিয়র মেসি উন্নত চিকিৎসকদের কড়া তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি বেশ জটিল।

হোর্হে মেসির প্রয়াণে কেবল মেসি পরিবারই নয়, বরং পুরো ক্রীড়াজগত স্তব্ধ হয়ে গেছে। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহর থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রিয় তারকার বাবার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছেন। ফুটবল বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলো, সতীর্থ খেলোয়াড় এবং ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা বার্তা পাঠিয়ে চলেছেন। ফুটবল ইতিহাসে এক কিংবদন্তি তৈরিতে যে মানুষটির অবদান সবচেয়ে অনস্বীকার্য ছিল, তাঁর এই মহাপ্রয়াণ ক্রীড়াঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।

জনপ্রিয়

ফিফা প্রধান ইনফান্তিনোর পথের বড় বাধা নরওয়ের লিসে ক্লাভেনেস

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ফুটবল বিশ্বকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিলেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি

আপডেট : ০৮:২০:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের বরপুত্র লিওনেল মেসির পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করার পর মারা গেছেন বিশ্বতারকা মেসির বাবা ও ব্যক্তিগত পথপ্রদর্শক হোর্হে মেসি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রয়াণ নিয়ে নানা গুঞ্জন চললেও, পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’ ও ‘লা ন্যাসিয়ন’-এর প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক সংবাদ নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া মেসির শৈশবের ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজও আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে শোক জানিয়েছে।

ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়, জন্মশহর রোজারিওতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন হোর্হে মেসি। ক্লাব অ্যাটলেটিকো নিওয়েলস ওল্ড বয়েজ তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকার্ত মেসি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। মাঠের বাইরে লিওনেল মেসির দীর্ঘ ও বর্ণিল ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন হোর্হে। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের সব সিদ্ধান্ত এবং চুক্তি ব্যবস্থাপনায় তিনি ছিলেন অদম্য অভিভাবক। পেশাগত জীবনে তিনি একজন প্রশিক্ষিত রাসায়নিক প্রযুক্তিবিদ হলেও ফুটবলের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ ছিল। নিজের তরুণ বয়সে নিউয়েলসের যুবদলে মাঝমাঠের প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও তৎকালীন সামরিক চাকরির বাধ্যবাধকতার কারণে তাকে অকালেই বুট জোড়া তুলে রাখতে হয়েছিল। পরবর্তীতে নিজের সেই অপূর্ণ স্বপ্ন তিনি সফলভাবে রূপায়ণ করেছিলেন তাঁর দুই ছেলে ও বিশ্বজয়ী পুত্র লিওনেল মেসির মাধ্যমে।

হোর্হে মেসির অসুস্থতার বিষয়টি জনসমক্ষে আসে মূলত বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত বিশদ ফুটবল মহাযজ্ঞের ঠিক আশপাশে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রাথমিক পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর আবেগাপ্লুত হয়ে মাঠে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। পরবর্তীতে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করার পর ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মেসি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অকপটে স্বীকার করেন যে তিনি জীবনের একটি অত্যন্ত কঠিন ও সংকটময় ব্যক্তিগত সময় পার করছেন। এর কিছুকাল পরে মেসি পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় যে, সিনিয়র মেসি উন্নত চিকিৎসকদের কড়া তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি বেশ জটিল।

হোর্হে মেসির প্রয়াণে কেবল মেসি পরিবারই নয়, বরং পুরো ক্রীড়াজগত স্তব্ধ হয়ে গেছে। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহর থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রিয় তারকার বাবার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছেন। ফুটবল বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলো, সতীর্থ খেলোয়াড় এবং ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা বার্তা পাঠিয়ে চলেছেন। ফুটবল ইতিহাসে এক কিংবদন্তি তৈরিতে যে মানুষটির অবদান সবচেয়ে অনস্বীকার্য ছিল, তাঁর এই মহাপ্রয়াণ ক্রীড়াঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।