Hi

০৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেট্রোরেলের নতুন প্রকল্পে ৪৬ হাজার কোটির ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৮:০৪:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ জন দেখেছে

ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরির লক্ষ্যে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় মেট্রোরেল প্রকল্পের আটটি ক্রয় প্রস্তাব পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার সিদ্ধান্তে পাঁচটি প্রস্তাব সরাসরি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং বাকি তিনটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। প্রাক্-যোগ্যতা অর্জনকারী তিন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটিই প্রস্তাব জমা দেয়।

অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবগুলোর মধ্যে লাইন-১-এর সিপি-০২, সিপি-০৬, সিপি-০৯ ও সিপি-১০ এবং লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজের পূর্তকাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে লাইন-১-এর সিপি-০৪ ও সিপি-০৭ এবং লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজের কাজগুলো অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। সরকারি ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা বা জাইকার অর্থায়নে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এই মেগা প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় লাইন-১ ও লাইন-৫-এর প্রথম সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদিত হয়, যার মেয়াদ ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

লাইন-১ প্রকল্পের চারটি প্যাকেজে ৩৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে। সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর অবকাঠামো যেমন—ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড, অপারেশন ও টেকনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট সেন্টার এবং উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫৮ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজটি পেয়েছে সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগ। এছাড়া সিপি-০৬ প্যাকেজের অধীনে বিমানবন্দর থেকে খেলক্ষেত পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও তিনটি স্টেশন নির্মাণের কাজ পেয়েছে জাপানের নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডার যৌথ উদ্যোগ, যাতে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার ২৯৯ টাকা। কারিগরিভাবে সব প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হওয়ার পর সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়। এতে দুটি সুড়ঙ্গ ও তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে—বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খেলক্ষেত। তাদের দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের তুলনায় ভ্যাট ও কর বাদে ৩২ দশমিক ০৫ শতাংশ বেশি। এর আওতায় ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, রিসিভিং ও সহায়ক উপকেন্দ্র, ৩৩/০.৪১৫ কেভি বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎ সংযোগব্যবস্থা থাকবে। তাদের দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ভ্যাট ও কর বাদে ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।

সিপি-০৯ প্যাকেজে ট্র্যাক নির্মাণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ ৭২ হাজার ১৫০ টাকা বরাদ্দ হয়েছে, যার কাজ পেয়েছে এলঅ্যান্ডটি ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগ। একইভাবে, সিপি-১০ প্যাকেজের সংকেত ও টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থার জন্য লারসেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেডকে ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ ৩১ হাজার ৭১৬ টাকার কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। টিবিএম চালুর জন্য শ্যাফটও নির্মাণ করা হবে। সিপি-০৯ প্যাকেজে রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংসহ ট্র্যাক নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ ও পাঁচটি স্টেশন নির্মাণের কাজ পেয়েছে চীনের সিআরইসি, এমআইএল ও এমবিইএলের যৌথ উদ্যোগ। এতে ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬০ টাকা। এছাড়া অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা সিপি-০৪ প্যাকেজে রামপুরার উত্তর প্রান্ত থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত প্রধান লাইন নির্মাণে ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬৫৬ টাকা চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে জাপানের টোকিউ-মিল যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্পের বাকি কাজের মধ্যে লাইন-১-এর সিপি-০৭ প্যাকেজে ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার লাইন ও স্টেশন নির্মাণের কাজটির জন্য ২ হাজার ৫৩৪ কোটি ৯ লাখ ৪৩ হাজার ২৪১ টাকা চুক্তিমূল্যে সিআরইসি-মিল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজের ডিপো ও ভবন নির্মাণকাজের জন্য ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৮ টাকার প্রস্তাবের বিপরীতে কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম ও হ্যানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে সুপারিশ করেছে কমিটি। ২০৩৩ সালের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ চলছে।

তুরস্কের দুরুপিনার ফরমেশনে ফের নূহের নৌকার বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মেট্রোরেলের নতুন প্রকল্পে ৪৬ হাজার কোটির ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

আপডেট : ০৮:০৪:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরির লক্ষ্যে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় মেট্রোরেল প্রকল্পের আটটি ক্রয় প্রস্তাব পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার সিদ্ধান্তে পাঁচটি প্রস্তাব সরাসরি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং বাকি তিনটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। প্রাক্-যোগ্যতা অর্জনকারী তিন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটিই প্রস্তাব জমা দেয়।

অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবগুলোর মধ্যে লাইন-১-এর সিপি-০২, সিপি-০৬, সিপি-০৯ ও সিপি-১০ এবং লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজের পূর্তকাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে লাইন-১-এর সিপি-০৪ ও সিপি-০৭ এবং লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজের কাজগুলো অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। সরকারি ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা বা জাইকার অর্থায়নে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এই মেগা প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় লাইন-১ ও লাইন-৫-এর প্রথম সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদিত হয়, যার মেয়াদ ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

লাইন-১ প্রকল্পের চারটি প্যাকেজে ৩৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে। সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর অবকাঠামো যেমন—ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড, অপারেশন ও টেকনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট সেন্টার এবং উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫৮ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজটি পেয়েছে সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগ। এছাড়া সিপি-০৬ প্যাকেজের অধীনে বিমানবন্দর থেকে খেলক্ষেত পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও তিনটি স্টেশন নির্মাণের কাজ পেয়েছে জাপানের নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডার যৌথ উদ্যোগ, যাতে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার ২৯৯ টাকা। কারিগরিভাবে সব প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হওয়ার পর সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়। এতে দুটি সুড়ঙ্গ ও তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে—বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খেলক্ষেত। তাদের দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের তুলনায় ভ্যাট ও কর বাদে ৩২ দশমিক ০৫ শতাংশ বেশি। এর আওতায় ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, রিসিভিং ও সহায়ক উপকেন্দ্র, ৩৩/০.৪১৫ কেভি বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎ সংযোগব্যবস্থা থাকবে। তাদের দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ভ্যাট ও কর বাদে ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।

সিপি-০৯ প্যাকেজে ট্র্যাক নির্মাণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ ৭২ হাজার ১৫০ টাকা বরাদ্দ হয়েছে, যার কাজ পেয়েছে এলঅ্যান্ডটি ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগ। একইভাবে, সিপি-১০ প্যাকেজের সংকেত ও টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থার জন্য লারসেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেডকে ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ ৩১ হাজার ৭১৬ টাকার কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। টিবিএম চালুর জন্য শ্যাফটও নির্মাণ করা হবে। সিপি-০৯ প্যাকেজে রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংসহ ট্র্যাক নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ ও পাঁচটি স্টেশন নির্মাণের কাজ পেয়েছে চীনের সিআরইসি, এমআইএল ও এমবিইএলের যৌথ উদ্যোগ। এতে ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬০ টাকা। এছাড়া অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা সিপি-০৪ প্যাকেজে রামপুরার উত্তর প্রান্ত থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত প্রধান লাইন নির্মাণে ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬৫৬ টাকা চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে জাপানের টোকিউ-মিল যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্পের বাকি কাজের মধ্যে লাইন-১-এর সিপি-০৭ প্যাকেজে ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার লাইন ও স্টেশন নির্মাণের কাজটির জন্য ২ হাজার ৫৩৪ কোটি ৯ লাখ ৪৩ হাজার ২৪১ টাকা চুক্তিমূল্যে সিআরইসি-মিল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজের ডিপো ও ভবন নির্মাণকাজের জন্য ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৮ টাকার প্রস্তাবের বিপরীতে কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম ও হ্যানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে সুপারিশ করেছে কমিটি। ২০৩৩ সালের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ চলছে।