Hi

১০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ: ১০ বছর পর মামলার বড় রায়

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৯:৫০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ জন দেখেছে

জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘বালিকা বধূ’র আনন্দী চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি পাওয়া বাঙালি অভিনেত্রী প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি লড়াইয়ের একটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। প্রায় ১০ বছর আগে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে হওয়া মামলায় তাঁর প্রেমিক, অভিনেতা ও প্রযোজক রাহুল রাজ সিংকে অব্যাহতি দিয়েছেন মুম্বাই হাইকোর্ট। বুধবার আদালতের এই আদেশে তাঁকে ওই অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। সেই ঘটনার প্রায় ১০ বছর পর গুরুত্বপূর্ণ রায় দিলেন মুম্বাই হাইকোর্ট। প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ও বেড়ে ওঠা জামশেদপুরে। এই একটি চরিত্রই তাঁকে ভারতজুড়ে পরিচিতি এনে দেয়। বিবাহিত প্রকৌশলীর সঙ্গে সম্পর্ক, মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল নিধির জীবনে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল, যখন মুম্বাইয়ের গোরেগাঁও পশ্চিমে নিজ ভাড়া বাসা থেকে প্রত্যুষার দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশি তদন্তে বিষয়টিকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এরপরই তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ ওঠে। মূলত অভিনেত্রীর বাবা-মায়ের দাবি ছিল, রাহুলের মানসিক নির্যাতনের কারণেই তাদের মেয়ে চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

তবে মামলার নথি ও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনার পর হাইকোর্টের বিচারপতি এস জি ডিজে পর্যবেক্ষণ দেন যে, রাহুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো যথেষ্ট তথ্য নেই। আদালতে রাহুলের আইনজীবীরা জানান, কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি এবং মামলার এফআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, মৃত্যুর আগে দুজনের কথোপকথনে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে রাহুল তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। উল্টো, কথোপকথনের এক পর্যায়ে রাহুল তাঁকে এমন কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত না নিতে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। মামলার বিভিন্ন তথ্য ও যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত রাহুলকে অব্যাহতি দেন আদালত।

জামশেদপুরের মেয়ে প্রত্যুষা ২০১০ সালে ‘বালিকা বধূ’র মাধ্যমে ভারতীয় টেলিভিশনে জনপ্রিয়তা পান। এরপর ‘বিগ বস ৭’, ‘ঝলক দিখলা জা’ ও ‘হাম হ্যায় না’র মতো নানা অনুষ্ঠানে তিনি নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে ভারতের বিনোদন অঙ্গন শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই হিন্দি টেলিভিশনের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন প্রত্যুষা। প্রত্যুষার আকস্মিক মৃত্যু সে সময় ভারতের বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

মেয়ের মৃত্যুর পর তাঁর বাবা শংকর বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন আমূল বদলে যায়। তাঁরা শুরু থেকেই রাহুলের বিচার দাবি করে আসছিলেন। দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াই তাঁদের পারিবারিক সঞ্চয়ের বড় অংশ শেষ করে দেয়। মামলার খরচ মেটাতে তাঁদের অনেক ক্ষেত্রে ধার করতেও হয়েছে। বর্তমানে সোমা একটি চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে এবং শংকর কিছু লেখালেখির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আইনি প্রক্রিয়ার একটি চূড়ান্ত পর্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ: ১০ বছর পর মামলার বড় রায়

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ: ১০ বছর পর মামলার বড় রায়

আপডেট : ০৯:৫০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘বালিকা বধূ’র আনন্দী চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি পাওয়া বাঙালি অভিনেত্রী প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি লড়াইয়ের একটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। প্রায় ১০ বছর আগে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে হওয়া মামলায় তাঁর প্রেমিক, অভিনেতা ও প্রযোজক রাহুল রাজ সিংকে অব্যাহতি দিয়েছেন মুম্বাই হাইকোর্ট। বুধবার আদালতের এই আদেশে তাঁকে ওই অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। সেই ঘটনার প্রায় ১০ বছর পর গুরুত্বপূর্ণ রায় দিলেন মুম্বাই হাইকোর্ট। প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ও বেড়ে ওঠা জামশেদপুরে। এই একটি চরিত্রই তাঁকে ভারতজুড়ে পরিচিতি এনে দেয়। বিবাহিত প্রকৌশলীর সঙ্গে সম্পর্ক, মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল নিধির জীবনে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল, যখন মুম্বাইয়ের গোরেগাঁও পশ্চিমে নিজ ভাড়া বাসা থেকে প্রত্যুষার দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশি তদন্তে বিষয়টিকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এরপরই তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ ওঠে। মূলত অভিনেত্রীর বাবা-মায়ের দাবি ছিল, রাহুলের মানসিক নির্যাতনের কারণেই তাদের মেয়ে চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

তবে মামলার নথি ও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনার পর হাইকোর্টের বিচারপতি এস জি ডিজে পর্যবেক্ষণ দেন যে, রাহুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো যথেষ্ট তথ্য নেই। আদালতে রাহুলের আইনজীবীরা জানান, কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি এবং মামলার এফআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, মৃত্যুর আগে দুজনের কথোপকথনে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে রাহুল তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। উল্টো, কথোপকথনের এক পর্যায়ে রাহুল তাঁকে এমন কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত না নিতে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। মামলার বিভিন্ন তথ্য ও যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত রাহুলকে অব্যাহতি দেন আদালত।

জামশেদপুরের মেয়ে প্রত্যুষা ২০১০ সালে ‘বালিকা বধূ’র মাধ্যমে ভারতীয় টেলিভিশনে জনপ্রিয়তা পান। এরপর ‘বিগ বস ৭’, ‘ঝলক দিখলা জা’ ও ‘হাম হ্যায় না’র মতো নানা অনুষ্ঠানে তিনি নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে ভারতের বিনোদন অঙ্গন শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই হিন্দি টেলিভিশনের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন প্রত্যুষা। প্রত্যুষার আকস্মিক মৃত্যু সে সময় ভারতের বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

মেয়ের মৃত্যুর পর তাঁর বাবা শংকর বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন আমূল বদলে যায়। তাঁরা শুরু থেকেই রাহুলের বিচার দাবি করে আসছিলেন। দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াই তাঁদের পারিবারিক সঞ্চয়ের বড় অংশ শেষ করে দেয়। মামলার খরচ মেটাতে তাঁদের অনেক ক্ষেত্রে ধার করতেও হয়েছে। বর্তমানে সোমা একটি চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে এবং শংকর কিছু লেখালেখির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আইনি প্রক্রিয়ার একটি চূড়ান্ত পর্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।