Hi

০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে ২৪টি গুইসাপসহ নারী আটক: জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৫:৪৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ জন দেখেছে

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার চেঙ্গী স্কয়ার এলাকা থেকে ২৪টি গুইসাপসহ প্রেমরাছো মারমা (৪৭) নামের এক নারীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি বিশেষ মোবাইল কোর্ট অভিযانকালে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত নারী পানছড়ি উপজেলার কুরাদিয়াছড়া গ্রামের অংগিও মারমার স্ত্রী বলে জানা গেছে।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে চেঙ্গী স্কয়ার এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি বস্তা থেকে মোট ২৪টি গুইসাপ উদ্ধার করা হয়। যার মধ্যে ১০টি জীবিত থাকলেও দুর্ভাগ্যবশত ১৪টি গুইসাপ মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জীবিত ১০টি গুইসাপকে আলুটিলার প্রাকৃতিক বনে নিরাপদে অবমুক্ত করা হয় এবং মৃত ১৪টি গুইসাপ আইনানুসারে মাটিচাপা দেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত প্রেমরাছো মারমা স্বীকার করেছেন যে, তিনি চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট এলাকা থেকে মাত্র ২২ হাজার টাকায় এই গুইসাপগুলো কিনে খাগড়াছড়িতে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে এসেছিলেন।

এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার দুর্জয় গোস্বামী গণমাধ্যমকে জানান, বন্যপ্রাণী আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক নারীর বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাকে ইতোমধ্যে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বন্যপ্রাণী পাচার ও অবৈধ শিকারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বন্যপ্রাণী ধরা, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন করা কিংবা বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এটি আমাদের স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বন বিভাগ ও প্রশাসনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, বন্যপ্রাণী নিধন ও পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে সমূলে উৎপাটন করতে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।

জনপ্রিয়

পরিবারকে সময় দিতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন ক্যারোলাইন লেভিট

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

খাগড়াছড়িতে ২৪টি গুইসাপসহ নারী আটক: জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ

আপডেট : ০৫:৪৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার চেঙ্গী স্কয়ার এলাকা থেকে ২৪টি গুইসাপসহ প্রেমরাছো মারমা (৪৭) নামের এক নারীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি বিশেষ মোবাইল কোর্ট অভিযانকালে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত নারী পানছড়ি উপজেলার কুরাদিয়াছড়া গ্রামের অংগিও মারমার স্ত্রী বলে জানা গেছে।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে চেঙ্গী স্কয়ার এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি বস্তা থেকে মোট ২৪টি গুইসাপ উদ্ধার করা হয়। যার মধ্যে ১০টি জীবিত থাকলেও দুর্ভাগ্যবশত ১৪টি গুইসাপ মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জীবিত ১০টি গুইসাপকে আলুটিলার প্রাকৃতিক বনে নিরাপদে অবমুক্ত করা হয় এবং মৃত ১৪টি গুইসাপ আইনানুসারে মাটিচাপা দেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত প্রেমরাছো মারমা স্বীকার করেছেন যে, তিনি চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট এলাকা থেকে মাত্র ২২ হাজার টাকায় এই গুইসাপগুলো কিনে খাগড়াছড়িতে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে এসেছিলেন।

এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার দুর্জয় গোস্বামী গণমাধ্যমকে জানান, বন্যপ্রাণী আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক নারীর বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাকে ইতোমধ্যে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বন্যপ্রাণী পাচার ও অবৈধ শিকারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বন্যপ্রাণী ধরা, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন করা কিংবা বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এটি আমাদের স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বন বিভাগ ও প্রশাসনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, বন্যপ্রাণী নিধন ও পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে সমূলে উৎপাটন করতে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।