Hi

০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় ১৯ বছরেও চালু হয়নি সরকারি কাঁচাবাজার: জনভোগান্তি ও তীব্র যানজটে স্থবির জনজীবন

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৪:৪৬:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ জন দেখেছে

উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম বাণিজ্যকেন্দ্র বগুড়া জেলা। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও শহরবাসীর দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি আজও অধরাই রয়ে গেছে। প্রায় দুই দশক আগে শহরের যানজট নিরসন এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ন্যায্যমূল্যে শাকসবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রাপ্তি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে একটি আধুনিক সরকারি কাঁচাবাজার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, তদারকির অভাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে দীর্ঘ ১৯ বছরেও সেই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। ফলে শহরের মূল সড়কগুলো দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ কাঁচাবাজারগুলোর কারণে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ পথচারী ও চালকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৭ সালের দিকে শহরের কেন্দ্রস্থলে কিংবা এর আশপাশে একটি সুপরিসর সরকারি কাঁচাবাজার নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল। এর জন্য স্থান নির্বাচন এবং কিছু প্রাথমিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে নানা অদৃশ্য কারণে সেই ফাইল আর সামনে এগোয়নি। সময়ের পরিক্রমায় বগুড়া শহরের জনসংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রসার ঘটেছে বাণিজ্যিক পরিধিরও। কিন্তু সে অনুপাতে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। নির্দিষ্ট কোনো সরকারি কাঁচাবাজার না থাকায় শহরের ফতেহ আলী বাজার, সাতমাথা সংলগ্ন এলাকা, কলোনি এবং বকশীবাজারসহ বিভিন্ন প্রধান সড়কের ওপর অবৈধভাবে বসা কাঁচাবাজারের পসরা দিন দিন বাড়ছে।

প্রতিদিনের চিত্র অনুযায়ী, এসব অস্থায়ী ও অবৈধ বাজারের কারণে সকাল ও বিকালের ব্যস্ত সময়ে শহরের প্রাণকেন্দ্রগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কাঁচাবাজারের ক্রেতা-বিক্রেতারা রাস্তার ওপর ভ্যান, রিকশা এবং ঠেলাগাড়ি রেখে কেনাবেচা করায় মূল সড়ক দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ এবং সাধারণ পথচারীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। অথচ বিষয়টি নিয়ে বহুবার স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার কাছে আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

শহরের সচেতন নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি সুপরিকল্পিত সরকারি কাঁচাবাজার নির্মিত হলে একদিকে যেমন শহরের যানজট বহুলাংশে কমে আসবে, অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতারা সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্য কিনতে পারবেন। দীর্ঘমেয়াদি এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও স্থানীয় প্রশাসনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। দ্রুত বন্ধ থাকা এই প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু করে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটানো এখন সময়ের দাবি।

জনপ্রিয়

খাগড়াছড়িতে ২৪টি গুইসাপসহ নারী আটক: জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বগুড়ায় ১৯ বছরেও চালু হয়নি সরকারি কাঁচাবাজার: জনভোগান্তি ও তীব্র যানজটে স্থবির জনজীবন

আপডেট : ০৪:৪৬:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম বাণিজ্যকেন্দ্র বগুড়া জেলা। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও শহরবাসীর দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি আজও অধরাই রয়ে গেছে। প্রায় দুই দশক আগে শহরের যানজট নিরসন এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ন্যায্যমূল্যে শাকসবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রাপ্তি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে একটি আধুনিক সরকারি কাঁচাবাজার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, তদারকির অভাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে দীর্ঘ ১৯ বছরেও সেই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। ফলে শহরের মূল সড়কগুলো দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ কাঁচাবাজারগুলোর কারণে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ পথচারী ও চালকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৭ সালের দিকে শহরের কেন্দ্রস্থলে কিংবা এর আশপাশে একটি সুপরিসর সরকারি কাঁচাবাজার নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল। এর জন্য স্থান নির্বাচন এবং কিছু প্রাথমিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে নানা অদৃশ্য কারণে সেই ফাইল আর সামনে এগোয়নি। সময়ের পরিক্রমায় বগুড়া শহরের জনসংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রসার ঘটেছে বাণিজ্যিক পরিধিরও। কিন্তু সে অনুপাতে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। নির্দিষ্ট কোনো সরকারি কাঁচাবাজার না থাকায় শহরের ফতেহ আলী বাজার, সাতমাথা সংলগ্ন এলাকা, কলোনি এবং বকশীবাজারসহ বিভিন্ন প্রধান সড়কের ওপর অবৈধভাবে বসা কাঁচাবাজারের পসরা দিন দিন বাড়ছে।

প্রতিদিনের চিত্র অনুযায়ী, এসব অস্থায়ী ও অবৈধ বাজারের কারণে সকাল ও বিকালের ব্যস্ত সময়ে শহরের প্রাণকেন্দ্রগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কাঁচাবাজারের ক্রেতা-বিক্রেতারা রাস্তার ওপর ভ্যান, রিকশা এবং ঠেলাগাড়ি রেখে কেনাবেচা করায় মূল সড়ক দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ এবং সাধারণ পথচারীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। অথচ বিষয়টি নিয়ে বহুবার স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার কাছে আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

শহরের সচেতন নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি সুপরিকল্পিত সরকারি কাঁচাবাজার নির্মিত হলে একদিকে যেমন শহরের যানজট বহুলাংশে কমে আসবে, অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতারা সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্য কিনতে পারবেন। দীর্ঘমেয়াদি এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও স্থানীয় প্রশাসনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। দ্রুত বন্ধ থাকা এই প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু করে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটানো এখন সময়ের দাবি।