Hi

০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অধ্যাপক জাফর ইকবালকে ‘জ্ঞানপাপী’ ও ‘শিক্ষক সমাজের কলঙ্ক’ বললেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০১:৪৪:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ জন দেখেছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিশিষ্ট লেখক ও অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ‘জ্ঞানপাপী’ এবং ‘শিক্ষক নামের কলঙ্ক’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় বিষয়টি সামনে আনেন চিফ প্রসিকিউটর।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, বুধবার ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মোট সাতজন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হচ্ছিল। সেই আইনি যুক্তিতর্কের একটি পর্যায়ে অধ্যাপক জাফর ইকবালের ভূমিকা এবং তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এই কড়া মন্তব্যগুলো সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।

সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় চিফ প্রসিকিউটর ব্যাখ্যা করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের সেই উত্তাল দিনগুলোতে তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সচেতনভাবে স্লোগান দিয়ে বলেছিল, ‘রাজাকার রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’। কিন্তু একটি বিশেষ মহল বা ব্যক্তিরা স্লোগানের প্রথমাংশ বিকৃত করে বা আংশিক প্রচার করে শিক্ষার্থীদের দেশবাসীর সামনে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালায়।

মো. আমিনুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, এই বিকৃত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অধ্যাপক জাফর ইকবাল তখন একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি আর কোনো দিন ‘রাজাকারের বিশ্ববিদ্যালয়ে’ যাবেন না। চিফ প্রসিকিউটর মনে করেন, ড. জাফর ইকবাল একজন অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত ও বুদ্ধিজীবী ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তিনি খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন যে আন্দোলনকারীরা প্রকৃত অর্থে রাজাকার ছিল না, বরং তারা ছিল বৈষম্যবিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থী। জেনেশুনেও তিনি যেভাবে স্লোগানের মূল প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চরিত্র হননকারী বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা ইচ্ছাকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক অপরাধ বা ‘জ্ঞানপাপ’-এর শামিল।

এই প্রেক্ষাপটে চিফ প্রসিকিউটর মন্তব্য করেন যে, জাতির ক্রান্তিলগ্নে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের কারণে পুরো শিক্ষক সমাজ কলঙ্কিত হয়। এ ধরনের জ্ঞানপাপীদের সমাজে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রসঙ্গত, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উসকানিমূলক অবস্থানের অভিযোগে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জনপ্রিয়

ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শতাব্দীসেরা পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান, খালি চোখে দেখা মেলেনি বাংলাদেশের আকাশে

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

অধ্যাপক জাফর ইকবালকে ‘জ্ঞানপাপী’ ও ‘শিক্ষক সমাজের কলঙ্ক’ বললেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম

আপডেট : ০১:৪৪:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিশিষ্ট লেখক ও অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ‘জ্ঞানপাপী’ এবং ‘শিক্ষক নামের কলঙ্ক’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় বিষয়টি সামনে আনেন চিফ প্রসিকিউটর।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, বুধবার ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মোট সাতজন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হচ্ছিল। সেই আইনি যুক্তিতর্কের একটি পর্যায়ে অধ্যাপক জাফর ইকবালের ভূমিকা এবং তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এই কড়া মন্তব্যগুলো সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।

সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় চিফ প্রসিকিউটর ব্যাখ্যা করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের সেই উত্তাল দিনগুলোতে তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সচেতনভাবে স্লোগান দিয়ে বলেছিল, ‘রাজাকার রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’। কিন্তু একটি বিশেষ মহল বা ব্যক্তিরা স্লোগানের প্রথমাংশ বিকৃত করে বা আংশিক প্রচার করে শিক্ষার্থীদের দেশবাসীর সামনে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালায়।

মো. আমিনুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, এই বিকৃত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অধ্যাপক জাফর ইকবাল তখন একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি আর কোনো দিন ‘রাজাকারের বিশ্ববিদ্যালয়ে’ যাবেন না। চিফ প্রসিকিউটর মনে করেন, ড. জাফর ইকবাল একজন অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত ও বুদ্ধিজীবী ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তিনি খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন যে আন্দোলনকারীরা প্রকৃত অর্থে রাজাকার ছিল না, বরং তারা ছিল বৈষম্যবিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থী। জেনেশুনেও তিনি যেভাবে স্লোগানের মূল প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চরিত্র হননকারী বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা ইচ্ছাকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক অপরাধ বা ‘জ্ঞানপাপ’-এর শামিল।

এই প্রেক্ষাপটে চিফ প্রসিকিউটর মন্তব্য করেন যে, জাতির ক্রান্তিলগ্নে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের কারণে পুরো শিক্ষক সমাজ কলঙ্কিত হয়। এ ধরনের জ্ঞানপাপীদের সমাজে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রসঙ্গত, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উসকানিমূলক অবস্থানের অভিযোগে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।