Hi

০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বসুন্ধরা কিংস ছাড়ার ঘোষণা কিউবার

নতুন বছরের শুরুতেই বাংলাদেশ ফুটবলে আরেকটি অস্বস্তিকর খবর এলো। বেতন পরিশোধ না হওয়ার অভিযোগ তুলে বসুন্ধরা কিংস ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলার কিউবা মিচেল। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের সিদ্ধান্ত ও অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন তিনি। চলতি মৌসুমে ইংলিশ ক্লাব সান্ডারল্যান্ড থেকে বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিয়েছিলেন কিউবা। প্রতিভাবান এই মিডফিল্ডারকে দলে ভেড়ানোয় তখন বেশ আলোচনায় আসে দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবটি। তবে মাঠে খুব বেশি সুযোগ না পাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক জটিলতা চলতে থাকায় মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তি ছিন্ন করার পথে হাঁটলেন তিনি।

নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় কিউবা লেখেন, আজ আমি বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে চুক্তি শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দীর্ঘ সময় ধরে আমার প্রাপ্য বেতন পরিশোধ করা হয়নি, এটিই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রধান কারণ। যেসব সমস্যা বারবার সামনে এসেছে কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি, সেই পরিস্থিতিতে খেলা চালিয়ে যাওয়া মানসিক ও শারীরিকভাবে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছিল।

বাংলাদেশে কাটানো সময় নিয়ে হতাশার পাশাপাশি কৃতজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন এই ফুটবলার। কিউবা বলেন, এখানে আমার সময়টা খুব বেশি দীর্ঘ ছিল না, তবুও এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়। আমি এখানকার জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও মানুষদের আপন করে নিয়েছিলাম। কিছু অসাধারণ সতীর্থ ও সমর্থকের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, যারা আমাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছিলেন।

কিউবা বসুন্ধরা কিংসের হয়ে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি স্কোয়াডেই ছিলেন না। পরে ভারতের বিপক্ষে জাতীয় দলের ম্যাচে ডাক পেলেও ক্লাব পর্যায়ে তার ভূমিকা সীমিতই ছিল। তবুও পুরো সময় পেশাদারিত্ব বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, “ফুটবলাররা শুধু মাঠের পারফরম্যান্সই দেয় না। আমরা প্রতিশ্রুতি, শৃঙ্খলা আর বিশ্বাসও ঢেলে দিই। বিনিময়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে মৌলিক প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা জরুরি।

সতীর্থ ফুটবলারদের উদ্দেশেও একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন কিউবা মিচেল। তার ভাষায়, “যারা একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, বিশেষ করে যারা বেতন না পাওয়া বা ভাঙা প্রতিশ্রুতির কারণে নীরবে কষ্ট পাচ্ছেন, তারা যেন নিজেদের কণ্ঠ খুঁজে পান। ন্যায্য ও পেশাদার আচরণ চাওয়ার কারণে কোনো খেলোয়াড়েরই নিজেকে অসহায় মনে করা উচিত নয়।”

বসুন্ধরা কিংসের আর্থিক সংকট নতুন নয়। ক্লাবটির বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালে। শুরুর বছরগুলোতে বড় নামের বিদেশি ফুটবলার এনে আলোচনায় থাকলেও পাঁচ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আর্থিক চাপে পড়ে ক্লাবটি। এতে একাধিক ফুটবলার ও কোচের পারিশ্রমিক পরিশোধে ব্যর্থ হয় তারা। বিদেশি ফুটবলার ও কোচদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফিফা খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞাও দেয় বসুন্ধরা কিংসের ওপর।

এর আগে একই কারণে ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা দেন জাতীয় দলের ফিনল্যান্ড প্রবাসী ডিফেন্ডার তারিক কাজী। কিউবার বিদায়ের মধ্য দিয়ে সেই তালিকা আরও দীর্ঘ হলো। কিউবা মিচেলের সঙ্গে বসুন্ধরা কিংসের তিন মৌসুমের চুক্তি ছিল। এক মৌসুমের অর্ধেক পার হওয়ার আগেই সেই সম্পর্কের ইতি টানলেন তিনি।

এ বিষয়ে বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ও ক্লাব সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফিফার নিষেধাজ্ঞা কিংবা তারিক কাজীর বিদায়ের সময়ও ক্লাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।

ত্রিশালে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

বসুন্ধরা কিংস ছাড়ার ঘোষণা কিউবার

আপডেট : ১০:১৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন বছরের শুরুতেই বাংলাদেশ ফুটবলে আরেকটি অস্বস্তিকর খবর এলো। বেতন পরিশোধ না হওয়ার অভিযোগ তুলে বসুন্ধরা কিংস ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলার কিউবা মিচেল। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের সিদ্ধান্ত ও অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন তিনি। চলতি মৌসুমে ইংলিশ ক্লাব সান্ডারল্যান্ড থেকে বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিয়েছিলেন কিউবা। প্রতিভাবান এই মিডফিল্ডারকে দলে ভেড়ানোয় তখন বেশ আলোচনায় আসে দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবটি। তবে মাঠে খুব বেশি সুযোগ না পাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক জটিলতা চলতে থাকায় মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তি ছিন্ন করার পথে হাঁটলেন তিনি।

নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় কিউবা লেখেন, আজ আমি বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে চুক্তি শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দীর্ঘ সময় ধরে আমার প্রাপ্য বেতন পরিশোধ করা হয়নি, এটিই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রধান কারণ। যেসব সমস্যা বারবার সামনে এসেছে কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি, সেই পরিস্থিতিতে খেলা চালিয়ে যাওয়া মানসিক ও শারীরিকভাবে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছিল।

বাংলাদেশে কাটানো সময় নিয়ে হতাশার পাশাপাশি কৃতজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন এই ফুটবলার। কিউবা বলেন, এখানে আমার সময়টা খুব বেশি দীর্ঘ ছিল না, তবুও এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়। আমি এখানকার জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও মানুষদের আপন করে নিয়েছিলাম। কিছু অসাধারণ সতীর্থ ও সমর্থকের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, যারা আমাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছিলেন।

কিউবা বসুন্ধরা কিংসের হয়ে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি স্কোয়াডেই ছিলেন না। পরে ভারতের বিপক্ষে জাতীয় দলের ম্যাচে ডাক পেলেও ক্লাব পর্যায়ে তার ভূমিকা সীমিতই ছিল। তবুও পুরো সময় পেশাদারিত্ব বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, “ফুটবলাররা শুধু মাঠের পারফরম্যান্সই দেয় না। আমরা প্রতিশ্রুতি, শৃঙ্খলা আর বিশ্বাসও ঢেলে দিই। বিনিময়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে মৌলিক প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা জরুরি।

সতীর্থ ফুটবলারদের উদ্দেশেও একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন কিউবা মিচেল। তার ভাষায়, “যারা একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, বিশেষ করে যারা বেতন না পাওয়া বা ভাঙা প্রতিশ্রুতির কারণে নীরবে কষ্ট পাচ্ছেন, তারা যেন নিজেদের কণ্ঠ খুঁজে পান। ন্যায্য ও পেশাদার আচরণ চাওয়ার কারণে কোনো খেলোয়াড়েরই নিজেকে অসহায় মনে করা উচিত নয়।”

বসুন্ধরা কিংসের আর্থিক সংকট নতুন নয়। ক্লাবটির বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালে। শুরুর বছরগুলোতে বড় নামের বিদেশি ফুটবলার এনে আলোচনায় থাকলেও পাঁচ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আর্থিক চাপে পড়ে ক্লাবটি। এতে একাধিক ফুটবলার ও কোচের পারিশ্রমিক পরিশোধে ব্যর্থ হয় তারা। বিদেশি ফুটবলার ও কোচদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফিফা খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞাও দেয় বসুন্ধরা কিংসের ওপর।

এর আগে একই কারণে ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা দেন জাতীয় দলের ফিনল্যান্ড প্রবাসী ডিফেন্ডার তারিক কাজী। কিউবার বিদায়ের মধ্য দিয়ে সেই তালিকা আরও দীর্ঘ হলো। কিউবা মিচেলের সঙ্গে বসুন্ধরা কিংসের তিন মৌসুমের চুক্তি ছিল। এক মৌসুমের অর্ধেক পার হওয়ার আগেই সেই সম্পর্কের ইতি টানলেন তিনি।

এ বিষয়ে বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ও ক্লাব সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফিফার নিষেধাজ্ঞা কিংবা তারিক কাজীর বিদায়ের সময়ও ক্লাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।