Hi

০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুসলিমদের জন্য আবশ্যক ধর্মীয় জ্ঞান: ৪টি প্রধান প্রকার ও তার গুরুত্ব

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য। এই জ্ঞান একজন ব্যক্তিকে তার বিশ্বাসের মৌলিক স্তম্ভগুলো সঠিকভাবে পালন করতে সক্ষম করে তোলে। ইসলামী পরিভাষায়, ধর্মীয় জ্ঞানকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে: ‘ফরজে আইন’ এবং ‘কিফায়াহ’ বা ‘সমষ্টিগত ফরজ’। বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ইবনে আব্দিল বার তাঁর ‘জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি’ গ্রন্থে এই বিভাজন তুলে ধরেছেন।

‘ফরজে আইন’ হলো এমন জ্ঞান যা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অর্জন করা বাধ্যতামূলক। এই বিষয়ে অজ্ঞতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে, ‘কিফায়াহ’ বা ‘সমষ্টিগত ফরজ’ এমন জ্ঞান, যা সমাজের কিছু সংখ্যক ব্যক্তি অর্জন করলেই সমগ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সেই দায়িত্ব পালিত হয় এবং অন্যদের ওপর থেকে তা আবশ্যক থাকে না। উদাহরণস্বরূপ, একটি এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি যদি ধর্মীয় শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন, তাহলে ওই এলাকার অন্যান্য সাধারণ বাসিন্দাদের জন্য একই স্তরের জ্ঞান অর্জন বাধ্যতামূলক থাকে না।

আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহ.) ‘ফরজে আইন’মূলক জ্ঞানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তাঁর মতে, এই আবশ্যকীয় জ্ঞানকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকারে বিভক্ত করা যায়। প্রথম প্রকার হলো ইমানের মৌলিক পাঁচটি বিষয়ের জ্ঞান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর প্রেরিত কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ এবং শেষ দিবসের (কিয়ামত) প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন। এই পাঁচটি স্তম্ভে বিশ্বাস স্থাপন ব্যতীত কোনো ব্যক্তি ইমানের সীমানায় প্রবেশ করতে পারে না এবং তাকে প্রকৃত মুমিন হিসেবেও গণ্য করা হয় না। পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারা (আয়াত: ১৭৭) এবং সুরা নিসা (আয়াত: ১৩৬) এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছে, যেখানে আল্লাহ তায়ালা ইমানের এই মৌলিক বিষয়গুলোকে সৎকর্মশীলতার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একইভাবে, ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) যখন নবীজি (সা.)-কে ইমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি এই পাঁচটি মূলনীতির কথা উল্লেখ করে এর গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন, যা সহিহ মুসলিম হাদিসে লিপিবদ্ধ আছে (হাদিস: ৮)। সুতরাং, এই মূলনীতিগুলোর সঠিক পরিচিতি ও জ্ঞান অর্জন ইমানের ভিত্তি সুদৃঢ় করার জন্য অপরিহার্য।

দ্বিতীয় প্রকারের জ্ঞান হলো ইসলামী শরিয়তের দৈনন্দিন বিধানাবলী সম্পর্কিত মৌলিক ধারণা। এর মধ্যে বান্দার নিজের আমল-সম্পর্কিত জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—অজু, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত এবং এগুলোর আনুষঙ্গিক বিষয়াদি, শর্তাবলি ও বিনষ্টকারী কারণসমূহ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা ফরজে আইন। এই জ্ঞান ছাড়া একজন মুসলমানের পক্ষে তার ব্যক্তিগত ইবাদতগুলো সঠিকভাবে আদায় করা অসম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, জাকাত প্রদানের নিয়মকানুন, বিশেষত কৃষিজমির জাকাত ‘উশর’ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা, যাদের ওপর প্রযোজ্য তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয় প্রকারের জ্ঞান পাঁচটি হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয় সম্পর্কিত, যা শুধুমাত্র ইসলামেই নয়, পূর্ববর্তী সকল রাসুলের শরিয়ত এবং আসমানী কিতাবসমূহেও নিষিদ্ধ ছিল। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সুরা আরাফ (আয়াত: ৩৩) এর মাধ্যমে এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রকাশ্য বা গোপন অশ্লীল কাজসমূহ, সর্বপ্রকার পাপ, অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন, আল্লাহর সঙ্গে এমন কিছুকে শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি, এবং আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানহীন কথা বলা। এই বিষয়গুলো সর্বাবস্থায় এবং চিরন্তনভাবে হারাম, যা কোনো পরিস্থিতিতেই কারো জন্য হালাল করা হয়নি। এর বিপরীতে, কিছু বিষয় এমন রয়েছে যা কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে (যেমন চরম বিপৎকালে) সাময়িকভাবে হালাল হতে পারে, যা চিরন্তন হারামের তালিকা থেকে ভিন্ন।

চতুর্থ প্রকারের জ্ঞান মানবসমাজে সংগঠিত পারস্পরিক মেলামেশা ও লেনদেন (মুআ’মালাত-মুআশারাত) সম্পর্কিত বিধানাবলী নিয়ে গঠিত। এই ক্ষেত্রে আবশ্যকতার মাত্রা মানুষের অবস্থা ও মর্যাদার ভিন্নতার কারণে পরিবর্তিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন শাসকের প্রজাদের প্রতি যে দায়িত্ব, একজন সাধারণ মানুষের পরিবারের সদস্য বা প্রতিবেশীর প্রতি তার দায়িত্ব তার থেকে ভিন্ন হতে পারে। একইভাবে, যে ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় জড়িত, তার জন্য বেচাকেনার বিধান সংক্রান্ত জ্ঞান শেখা যতটুকু ফরজ, যে ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনাবেচা করে না, তার ওপর ততটুকু ফরজ নয়। এটি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য প্রযোজ্য সামাজিক ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার ভিত্তি তৈরি করে।

পরিশেষে, আল্লামা ইবনুল কাইয়িম আল-জাওযিয়াহ তাঁর ‘মিফতাহু দারিস সাআ’দাহ’ গ্রন্থে এই আবশ্যকীয় জ্ঞানকে তিনটি মূলনীতিতে বিভক্ত করেছেন: বিশ্বাসগত জ্ঞান, কর্মগত জ্ঞান এবং বর্জনগত জ্ঞান। বিশ্বাসগত জ্ঞানকে বাস্তব সত্যের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে মিলে যেতে হবে। কর্মগত জ্ঞান, বান্দার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সমস্ত ইচ্ছাকৃত আমলকে শরিয়তের আদেশ ও হালাল সীমার মধ্যে থাকতে সহায়তা করে। আর বর্জনগত জ্ঞান হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পাপ থেকে বিরত থাকা এবং এই সিদ্ধান্তে স্থির থাকা। এই তিন মূলনীতি একজন মুসলমানের জীবনকে সামগ্রিকভাবে আলোকিত করে এবং তাকে একটি পরিপূর্ণ ইসলামী জীবনযাপনে সহায়তা করে। (মাহমুদ হাসান ফাহিম: শিক্ষক, বাইতুল আকরাম মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স, টঙ্গী)।

জনপ্রিয়

চলচ্চিত্রের অবসান: রংপুরে টিকে থাকা শেষ সিনেমা হল ‘শাপলা টকিজ’ও বন্ধ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মুসলিমদের জন্য আবশ্যক ধর্মীয় জ্ঞান: ৪টি প্রধান প্রকার ও তার গুরুত্ব

আপডেট : ০৫:২২:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য। এই জ্ঞান একজন ব্যক্তিকে তার বিশ্বাসের মৌলিক স্তম্ভগুলো সঠিকভাবে পালন করতে সক্ষম করে তোলে। ইসলামী পরিভাষায়, ধর্মীয় জ্ঞানকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে: ‘ফরজে আইন’ এবং ‘কিফায়াহ’ বা ‘সমষ্টিগত ফরজ’। বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ইবনে আব্দিল বার তাঁর ‘জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি’ গ্রন্থে এই বিভাজন তুলে ধরেছেন।

‘ফরজে আইন’ হলো এমন জ্ঞান যা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অর্জন করা বাধ্যতামূলক। এই বিষয়ে অজ্ঞতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে, ‘কিফায়াহ’ বা ‘সমষ্টিগত ফরজ’ এমন জ্ঞান, যা সমাজের কিছু সংখ্যক ব্যক্তি অর্জন করলেই সমগ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সেই দায়িত্ব পালিত হয় এবং অন্যদের ওপর থেকে তা আবশ্যক থাকে না। উদাহরণস্বরূপ, একটি এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি যদি ধর্মীয় শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন, তাহলে ওই এলাকার অন্যান্য সাধারণ বাসিন্দাদের জন্য একই স্তরের জ্ঞান অর্জন বাধ্যতামূলক থাকে না।

আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহ.) ‘ফরজে আইন’মূলক জ্ঞানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তাঁর মতে, এই আবশ্যকীয় জ্ঞানকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকারে বিভক্ত করা যায়। প্রথম প্রকার হলো ইমানের মৌলিক পাঁচটি বিষয়ের জ্ঞান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর প্রেরিত কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ এবং শেষ দিবসের (কিয়ামত) প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন। এই পাঁচটি স্তম্ভে বিশ্বাস স্থাপন ব্যতীত কোনো ব্যক্তি ইমানের সীমানায় প্রবেশ করতে পারে না এবং তাকে প্রকৃত মুমিন হিসেবেও গণ্য করা হয় না। পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারা (আয়াত: ১৭৭) এবং সুরা নিসা (আয়াত: ১৩৬) এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছে, যেখানে আল্লাহ তায়ালা ইমানের এই মৌলিক বিষয়গুলোকে সৎকর্মশীলতার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একইভাবে, ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) যখন নবীজি (সা.)-কে ইমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি এই পাঁচটি মূলনীতির কথা উল্লেখ করে এর গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন, যা সহিহ মুসলিম হাদিসে লিপিবদ্ধ আছে (হাদিস: ৮)। সুতরাং, এই মূলনীতিগুলোর সঠিক পরিচিতি ও জ্ঞান অর্জন ইমানের ভিত্তি সুদৃঢ় করার জন্য অপরিহার্য।

দ্বিতীয় প্রকারের জ্ঞান হলো ইসলামী শরিয়তের দৈনন্দিন বিধানাবলী সম্পর্কিত মৌলিক ধারণা। এর মধ্যে বান্দার নিজের আমল-সম্পর্কিত জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—অজু, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত এবং এগুলোর আনুষঙ্গিক বিষয়াদি, শর্তাবলি ও বিনষ্টকারী কারণসমূহ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা ফরজে আইন। এই জ্ঞান ছাড়া একজন মুসলমানের পক্ষে তার ব্যক্তিগত ইবাদতগুলো সঠিকভাবে আদায় করা অসম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, জাকাত প্রদানের নিয়মকানুন, বিশেষত কৃষিজমির জাকাত ‘উশর’ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা, যাদের ওপর প্রযোজ্য তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয় প্রকারের জ্ঞান পাঁচটি হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয় সম্পর্কিত, যা শুধুমাত্র ইসলামেই নয়, পূর্ববর্তী সকল রাসুলের শরিয়ত এবং আসমানী কিতাবসমূহেও নিষিদ্ধ ছিল। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সুরা আরাফ (আয়াত: ৩৩) এর মাধ্যমে এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রকাশ্য বা গোপন অশ্লীল কাজসমূহ, সর্বপ্রকার পাপ, অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন, আল্লাহর সঙ্গে এমন কিছুকে শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি, এবং আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানহীন কথা বলা। এই বিষয়গুলো সর্বাবস্থায় এবং চিরন্তনভাবে হারাম, যা কোনো পরিস্থিতিতেই কারো জন্য হালাল করা হয়নি। এর বিপরীতে, কিছু বিষয় এমন রয়েছে যা কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে (যেমন চরম বিপৎকালে) সাময়িকভাবে হালাল হতে পারে, যা চিরন্তন হারামের তালিকা থেকে ভিন্ন।

চতুর্থ প্রকারের জ্ঞান মানবসমাজে সংগঠিত পারস্পরিক মেলামেশা ও লেনদেন (মুআ’মালাত-মুআশারাত) সম্পর্কিত বিধানাবলী নিয়ে গঠিত। এই ক্ষেত্রে আবশ্যকতার মাত্রা মানুষের অবস্থা ও মর্যাদার ভিন্নতার কারণে পরিবর্তিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন শাসকের প্রজাদের প্রতি যে দায়িত্ব, একজন সাধারণ মানুষের পরিবারের সদস্য বা প্রতিবেশীর প্রতি তার দায়িত্ব তার থেকে ভিন্ন হতে পারে। একইভাবে, যে ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় জড়িত, তার জন্য বেচাকেনার বিধান সংক্রান্ত জ্ঞান শেখা যতটুকু ফরজ, যে ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনাবেচা করে না, তার ওপর ততটুকু ফরজ নয়। এটি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য প্রযোজ্য সামাজিক ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার ভিত্তি তৈরি করে।

পরিশেষে, আল্লামা ইবনুল কাইয়িম আল-জাওযিয়াহ তাঁর ‘মিফতাহু দারিস সাআ’দাহ’ গ্রন্থে এই আবশ্যকীয় জ্ঞানকে তিনটি মূলনীতিতে বিভক্ত করেছেন: বিশ্বাসগত জ্ঞান, কর্মগত জ্ঞান এবং বর্জনগত জ্ঞান। বিশ্বাসগত জ্ঞানকে বাস্তব সত্যের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে মিলে যেতে হবে। কর্মগত জ্ঞান, বান্দার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সমস্ত ইচ্ছাকৃত আমলকে শরিয়তের আদেশ ও হালাল সীমার মধ্যে থাকতে সহায়তা করে। আর বর্জনগত জ্ঞান হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পাপ থেকে বিরত থাকা এবং এই সিদ্ধান্তে স্থির থাকা। এই তিন মূলনীতি একজন মুসলমানের জীবনকে সামগ্রিকভাবে আলোকিত করে এবং তাকে একটি পরিপূর্ণ ইসলামী জীবনযাপনে সহায়তা করে। (মাহমুদ হাসান ফাহিম: শিক্ষক, বাইতুল আকরাম মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স, টঙ্গী)।