রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভয়াবহ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশের গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে শনিবারের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তদন্তে কোনো পুলিশ সদস্যের অবহেলা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট ১০৮৭। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ধ্বংসস্তুপ পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এ কথা জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ডিএমপি কমিশনার গণমাধ্যমকে জানান, হামলার ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতির ধরণ দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। হামলাকারীরা যথেষ্ট সময় নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মূল্যবান সরঞ্জাম, রাউটার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ লুট করার পাশাপাশি পুরো অবকাঠামোটি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। কমিশনার জানান, হামলাটি মাত্র ৩০ মিনিট বা এক ঘণ্টার মধ্যে চালানো সম্ভব নয়, বরং বেশ সময় নিয়ে এটি সংঘটিত হয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংক কী, কেমন হবে এর কার্যক্রম। বিভিন্ন স্থানে ক্ষতির চিহ্ন রয়েছে এবং দুই পাশের টিনের চালের অবকাঠামোগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,’ বলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এই হামলার ঘটনার পরপরই থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং একজনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি জড়িতদের শনাক্তে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। হামলা ও লুটপাটের সঙ্গে স্থানীয় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস মিষ্টির সম্পৃক্ততা নিয়ে যে গুঞ্জন উঠেছে, সে বিষয়ে কমিশনার জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধের পেছনে রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় যাই হোক না কেন, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
তদন্ত কমিটি গঠন প্রসঙ্গে কমিশনার জানান, দারুস সালাম জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত এই দলটি পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে কোনো বিচ্যুতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে। বিশেষ করে থানা থেকে দেড় কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে এমন ঘটনার সময় পুলিশ কেন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারেনি, তাও তদন্তের অংশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোররাতে মুখোশধারী দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালায়। তারা দায়িত্বরত দুই নিরাপত্তারক্ষীকে জিম্মি করে পুরো স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি তছনছ করে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থায়ী ভবন ও তিনটি আধা-পাকা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। ওষুধ, টিকা ও নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতারের দাবি, এই হামলায় কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামক একটি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতায় এই হামলা চালানো হয়েছে।
এসব ঘটনার পাশাপাশি মিরপুর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে খুলনা মেডিকেলে রোগীর অস্বাভাবিক চাপ, হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা এবং জাসদ কার্যালয় থেকে আওয়ামী লীগ সন্দেহে ৩০ জনকে আটক। এছাড়া মিরপুরে দেয়াল ধসে নাসিমা নামের এক নারীর মৃত্যুসহ বেশ কিছু দুর্ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই এলাকায় যুবদল কর্মী হত্যা ও অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলোও আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ধারণক্ষমতার ৪ গুণ রোগীর চাপে খুলনা মেডিকেল।
রিপোর্টার নাম: 

























