Hi

০১:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটবলে রাজনীতি টেনে আনা ঠিক নয়: ফকল্যান্ড ইস্যুতে ফের মেসিদের তুলোধুনো প্রেসিডেন্ট মিলেই

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করার পর আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের উদযাপন ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। জয়ের আনন্দে মাঠের ভেতর খেলোয়াড়দের একটি ব্যানার প্রদর্শন নিয়ে চটেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। ওই ব্যানারে ‘ফকল্যান্ড (মালভিনাস) আর্জেন্টিনার’ বার্তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল, যা সরাসরি দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বিরোধকে উসকে দিয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট মিলেই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, খেলার মাঠে রাজনীতি নিয়ে আসা অত্যন্ত অনুচিত। মিলেইয়ের মতে, ফুটবলের মতো একটি বিশ্বজনীন খেলার সঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক মেশানো অসংগত। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্বের দাবিকে তিনি একটি কূটনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখছেন এবং এর সমাধান আলোচনার টেবিলেই হওয়া উচিত বলে মনে করেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘তেল আর জল যেমন মেশানো সম্ভব নয়, ফুটবল ও রাজনীতিও তেমনি একে অপরের থেকে আলাদা হওয়া উচিত।’

ফকল্যান্ড বা মালভিনাস দ্বীপ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে তিক্ত সম্পর্কের ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং সেই ম্যাচের জয়কে অনেকে ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রতিশোধ হিসেবে দেখেছিল। তবে প্রেসিডেন্ট মিলেই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, খেলার মাঠের গোল দিয়ে ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। ম্যারাডোনার সেই ঐতিহাসিক কীর্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফুটবলের জয় কোনোভাবেই জাতীয় রাজনৈতিক এজেন্ডার বিকল্প হতে পারে না।

বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে মিলেই দাবি করেন, তার প্রশাসন ফকল্যান্ড ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক অগ্রগতি সাধন করেছে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ ও মহলের সমর্থন অর্জনে সরকার সক্ষম হয়েছে। খেলোয়াড়দের এই আচরণকে তিনি ‘অপরিণত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মিলেই জোর দিয়ে বলেন, খেলোয়াড়রা কূটনৈতিক দূত নন এবং তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সরকারের মূল লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে না।

এর আগেও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন যে, এসব অসংলগ্ন আচরণ গুরুত্বহীন ব্যক্তিদের কাজ। তবে তিনি পুনরায় দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সরকার নিজস্ব ধারায়, আলোচনার মাধ্যমেই এর দখল পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর। মাঠের উত্তেজনা মাঠেই সীমাবদ্ধ রাখা জরুরি এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ফুটবলের মর্যাদা বজায় রাখা খেলোয়াড়দের দায়িত্ব হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

জনপ্রিয়

স্পেন ভ্রমণ: ইতিহাস, স্থাপত্য এবং এক মুগ্ধতার আখ্যান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ফুটবলে রাজনীতি টেনে আনা ঠিক নয়: ফকল্যান্ড ইস্যুতে ফের মেসিদের তুলোধুনো প্রেসিডেন্ট মিলেই

আপডেট : ১১:২৩:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করার পর আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের উদযাপন ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। জয়ের আনন্দে মাঠের ভেতর খেলোয়াড়দের একটি ব্যানার প্রদর্শন নিয়ে চটেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। ওই ব্যানারে ‘ফকল্যান্ড (মালভিনাস) আর্জেন্টিনার’ বার্তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল, যা সরাসরি দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বিরোধকে উসকে দিয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট মিলেই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, খেলার মাঠে রাজনীতি নিয়ে আসা অত্যন্ত অনুচিত। মিলেইয়ের মতে, ফুটবলের মতো একটি বিশ্বজনীন খেলার সঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক মেশানো অসংগত। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্বের দাবিকে তিনি একটি কূটনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখছেন এবং এর সমাধান আলোচনার টেবিলেই হওয়া উচিত বলে মনে করেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘তেল আর জল যেমন মেশানো সম্ভব নয়, ফুটবল ও রাজনীতিও তেমনি একে অপরের থেকে আলাদা হওয়া উচিত।’

ফকল্যান্ড বা মালভিনাস দ্বীপ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে তিক্ত সম্পর্কের ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং সেই ম্যাচের জয়কে অনেকে ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রতিশোধ হিসেবে দেখেছিল। তবে প্রেসিডেন্ট মিলেই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, খেলার মাঠের গোল দিয়ে ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। ম্যারাডোনার সেই ঐতিহাসিক কীর্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফুটবলের জয় কোনোভাবেই জাতীয় রাজনৈতিক এজেন্ডার বিকল্প হতে পারে না।

বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে মিলেই দাবি করেন, তার প্রশাসন ফকল্যান্ড ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক অগ্রগতি সাধন করেছে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ ও মহলের সমর্থন অর্জনে সরকার সক্ষম হয়েছে। খেলোয়াড়দের এই আচরণকে তিনি ‘অপরিণত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মিলেই জোর দিয়ে বলেন, খেলোয়াড়রা কূটনৈতিক দূত নন এবং তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সরকারের মূল লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে না।

এর আগেও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন যে, এসব অসংলগ্ন আচরণ গুরুত্বহীন ব্যক্তিদের কাজ। তবে তিনি পুনরায় দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সরকার নিজস্ব ধারায়, আলোচনার মাধ্যমেই এর দখল পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর। মাঠের উত্তেজনা মাঠেই সীমাবদ্ধ রাখা জরুরি এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ফুটবলের মর্যাদা বজায় রাখা খেলোয়াড়দের দায়িত্ব হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।