বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। একদিকে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই), অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল (আইপিএস)—এই দুই পরাশক্তির প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে বাংলাদেশ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য যেমন অর্থনৈতিক বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে এসেছে, তেমনি কূটনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে।
চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক মূলত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিশাল বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। পদ্মা সেতু থেকে শুরু করে কর্ণফুলী টানেল বা বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্পগুলোতে চীনা অর্থায়ন ও প্রযুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার করেছে। তবে, এই সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের উদ্বেগ রয়েছে। ওয়াশিংটন চায় বাংলাদেশ তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করুক, যা মূলত এশিয়ায় চীনের প্রভাব খর্ব করার একটি কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো এই দুই পক্ষের ভারসাম্য রক্ষা করা। পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’—এই মূলমন্ত্র অনুসরণ করে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। তবে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে এই ভারসাম্য বজায় রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য চীনা বিনিয়োগ যেমন অপরিহার্য, তেমনি রপ্তানি বাজারের প্রধান গন্তব্য হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও বাংলাদেশের জন্য অস্তিত্বের প্রশ্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিযোগিতাকে সংকট হিসেবে না দেখে বরং সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যদি বাংলাদেশ নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দুই পক্ষের কাছ থেকেই প্রযুক্তিগত সহায়তা, বিনিয়োগ এবং বাজার সুবিধা অর্জন করতে পারে, তবেই এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন অত্যন্ত দক্ষ ও দূরদর্শী কূটনীতি এবং স্বচ্ছ জাতীয় নীতি। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ কীভাবে এই বৈশ্বিক শক্তির লড়াইয়ের মাঝে নিজের অবস্থান সমুন্নত রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
রিপোর্টার নাম: 




















