Hi

০২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তীব্র গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের বড় বড় নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদনে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা ও চিনি তৈরির কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে সৃষ্ট কারিগরি ত্রুটির ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের মোট চাহিদার বিপরীতে গ্যাসের ঘাটতি প্রায় ১৭৭ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে, যা শিল্প খাতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জনজীবনেও গভীর প্রভাব ফেলছে।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই), টি কে গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ এবং সীকম গ্রুপের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় তাদের অসংখ্য কারখানা হয় পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে, নতুবা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে নামমাত্র সক্ষমতায় চালাতে হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে এই শিল্পগোষ্ঠীগুলোই দেশের মোট আমদানিকৃত প্রধান নিত্যপণ্য ও কাঁচামালের সিংহভাগ প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে সরবরাহ করে আসছে। আকস্মিক এই উৎপাদন বিপর্যয়ের ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।

শিল্পের উদ্যোক্তারা জানান, কারখানার গুদামে থাকা পূর্বের মজুত দিয়ে সাময়িকভাবে বাজার চাহিদা মেটানো সম্ভব হলেও, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এদিকে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। সংকট উত্তরণে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি, বাজারের অস্থিরতা রোধে কঠোর মনিটরিং এবং দ্রুততম সময়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার ওপর জোর দিয়েছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুলকে কে শপথ পড়াবেন?

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

তীব্র গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের বড় বড় নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা

আপডেট : ১২:৫১:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদনে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা ও চিনি তৈরির কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে সৃষ্ট কারিগরি ত্রুটির ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের মোট চাহিদার বিপরীতে গ্যাসের ঘাটতি প্রায় ১৭৭ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে, যা শিল্প খাতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জনজীবনেও গভীর প্রভাব ফেলছে।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই), টি কে গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ এবং সীকম গ্রুপের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় তাদের অসংখ্য কারখানা হয় পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে, নতুবা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে নামমাত্র সক্ষমতায় চালাতে হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে এই শিল্পগোষ্ঠীগুলোই দেশের মোট আমদানিকৃত প্রধান নিত্যপণ্য ও কাঁচামালের সিংহভাগ প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে সরবরাহ করে আসছে। আকস্মিক এই উৎপাদন বিপর্যয়ের ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।

শিল্পের উদ্যোক্তারা জানান, কারখানার গুদামে থাকা পূর্বের মজুত দিয়ে সাময়িকভাবে বাজার চাহিদা মেটানো সম্ভব হলেও, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এদিকে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। সংকট উত্তরণে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি, বাজারের অস্থিরতা রোধে কঠোর মনিটরিং এবং দ্রুততম সময়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার ওপর জোর দিয়েছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা।