Hi

০৮:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামিটের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ: গ্যাস সংকটে জনদুর্ভোগ ও বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কা

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় সামিট এলএনজি টার্মিনালে থাকা কার্গো থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় টার্মিনালে থাকা কার্গোটিও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল পর্যন্ত সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ সচল থাকলেও পরবর্তীতে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে একমাত্র এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রায় ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সামিটের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে, যা বিদ্যমান গ্যাস সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এর ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে, যার ফলে রান্নার কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। অনেক এলাকায় দিনের দীর্ঘ সময় চুলা জ্বলছে না, আবার কোথাও গ্যাসের চাপ এতই কম যে স্বাভাবিক রান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

গ্যাসের এই ঘাটতি শুধু আবাসিক খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিল্প-কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে পিক আওয়ারে গড়ে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। সামিটের সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের ঘাটতি আরও প্রকট হলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তীব্র গরমের মধ্যে একদিকে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং, অন্যদিকে রান্নায় গ্যাসের অভাব—সব মিলিয়ে গ্রাহকরা বহুমুখী সংকটের মুখে পড়েছেন। সামিটের এলএনজি সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি অত্যন্ত চাপের মুখে থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সামিটের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ: গ্যাস সংকটে জনদুর্ভোগ ও বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কা

আপডেট : ১২:২৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় সামিট এলএনজি টার্মিনালে থাকা কার্গো থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় টার্মিনালে থাকা কার্গোটিও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল পর্যন্ত সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ সচল থাকলেও পরবর্তীতে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে একমাত্র এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রায় ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সামিটের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে, যা বিদ্যমান গ্যাস সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এর ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে, যার ফলে রান্নার কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। অনেক এলাকায় দিনের দীর্ঘ সময় চুলা জ্বলছে না, আবার কোথাও গ্যাসের চাপ এতই কম যে স্বাভাবিক রান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

গ্যাসের এই ঘাটতি শুধু আবাসিক খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিল্প-কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে পিক আওয়ারে গড়ে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। সামিটের সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের ঘাটতি আরও প্রকট হলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তীব্র গরমের মধ্যে একদিকে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং, অন্যদিকে রান্নায় গ্যাসের অভাব—সব মিলিয়ে গ্রাহকরা বহুমুখী সংকটের মুখে পড়েছেন। সামিটের এলএনজি সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি অত্যন্ত চাপের মুখে থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।