Hi

০৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৯:২৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৭ জন দেখেছে

ঐতিহ্য ভেঙে বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের উন্মুক্ত দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরেছে এবং ৩৬ বছর পর বাংলাদেশ পেয়েছে একজন পুরুষ সরকারপ্রধান। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সেই শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসন পদ্ধতি চালু এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতির প্রবর্তন করা হয়। এ ক্ষেত্রে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম, খালেদা জিয়া দ্বিতীয় (তিনবারের), শেখ হাসিনা তৃতীয় (পাঁচবারের) এবং তারেক রহমান সর্বশেষ।

তারেক রহমান তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে শপথস্থলে উপস্থিত হন। সাদা পোশাকে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমানকে উপস্থিত অতিথিরা করতালির মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানান। এর কিছুক্ষণ পর, বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মূল কার্যক্রম শুরু হয়। সাদা জামা ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে এ সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ১৩টি দেশের বিশ্বনেতাদের মধ্যে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়া আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটানসহ ১৩টি দেশের বিশ্বনেতাদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।

১৯৯১ সালের পর সংসদীয় ব্যবস্থায় ফেরা বাংলাদেশে তারেক রহমান হলেন চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী। সাংবিধানিক ইতিহাস অনুযায়ী, মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে অন্তর্ভুক্ত করলে তিনি দেশের ১১তম সরকারপ্রধান। একইসঙ্গে তিনি তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয় মন্ত্রিপরিষদশাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার বিধান রেখেই। ফলে ৫৫ বছর বয়সী বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা দীর্ঘ হলেও মন্ত্রিপরিষদশাসিত সরকারে দেশের নির্বাহী প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সংখ্যা মাত্র চার। এ ছাড়া বাহাত্তরে সংবিধান প্রণয়নের আগে মুজিবনগর সরকার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশজুড়ে ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর বাইরে মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরে ভুয়া ভিসার অভিযোগে অনেক বাংলাদেশিকে আটকে পড়ার ঘটনা এবং দেশটিতে নথি জালিয়াতির দায়ে ৫ বাংলাদেশির গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। কুয়ালালামপুরে বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৭৭০ জন অভিবাসীকে আটকের ঘটনাটি সম্প্রতি বড় ধরনের কূটনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মতে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। মালয়েশিয়ায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দেওয়া লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং প্রবাসী কল্যাণে নেওয়া নানা উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন সরকার তার কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু করেছে।

দান-খয়রাতের প্রয়োজন নেই, নিজস্ব সম্পদে চলবে রাশিয়া: পুতিন

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ

আপডেট : ০৯:২৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

ঐতিহ্য ভেঙে বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের উন্মুক্ত দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরেছে এবং ৩৬ বছর পর বাংলাদেশ পেয়েছে একজন পুরুষ সরকারপ্রধান। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সেই শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসন পদ্ধতি চালু এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতির প্রবর্তন করা হয়। এ ক্ষেত্রে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম, খালেদা জিয়া দ্বিতীয় (তিনবারের), শেখ হাসিনা তৃতীয় (পাঁচবারের) এবং তারেক রহমান সর্বশেষ।

তারেক রহমান তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে শপথস্থলে উপস্থিত হন। সাদা পোশাকে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমানকে উপস্থিত অতিথিরা করতালির মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানান। এর কিছুক্ষণ পর, বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মূল কার্যক্রম শুরু হয়। সাদা জামা ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে এ সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ১৩টি দেশের বিশ্বনেতাদের মধ্যে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়া আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটানসহ ১৩টি দেশের বিশ্বনেতাদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।

১৯৯১ সালের পর সংসদীয় ব্যবস্থায় ফেরা বাংলাদেশে তারেক রহমান হলেন চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী। সাংবিধানিক ইতিহাস অনুযায়ী, মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে অন্তর্ভুক্ত করলে তিনি দেশের ১১তম সরকারপ্রধান। একইসঙ্গে তিনি তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয় মন্ত্রিপরিষদশাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার বিধান রেখেই। ফলে ৫৫ বছর বয়সী বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা দীর্ঘ হলেও মন্ত্রিপরিষদশাসিত সরকারে দেশের নির্বাহী প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সংখ্যা মাত্র চার। এ ছাড়া বাহাত্তরে সংবিধান প্রণয়নের আগে মুজিবনগর সরকার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশজুড়ে ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর বাইরে মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরে ভুয়া ভিসার অভিযোগে অনেক বাংলাদেশিকে আটকে পড়ার ঘটনা এবং দেশটিতে নথি জালিয়াতির দায়ে ৫ বাংলাদেশির গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। কুয়ালালামপুরে বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৭৭০ জন অভিবাসীকে আটকের ঘটনাটি সম্প্রতি বড় ধরনের কূটনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মতে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। মালয়েশিয়ায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দেওয়া লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং প্রবাসী কল্যাণে নেওয়া নানা উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন সরকার তার কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু করেছে।