Hi

০২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন রণতরি আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দুরবস্থা ও মানসিক চাপ নিয়ে তদন্তের দাবি

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০১:১৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ জন দেখেছে

দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের মানসিক চাপ ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও সেনা সদস্য মাসের পর মাস সমুদ্রে অবস্থান করছেন। মার্কিন সামরিক সংবাদমাধ্যম নেভি টাইমস ও স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজের দুর্বিষহ পরিস্থিতির কারণে কয়েকজন নাবিক সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আধুনিক যুগে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরির জন্য টানা ২৫০ দিনের বেশি তীরে না ভিড়ে সমুদ্রে থাকার এটি একটি রেকর্ড।

গত বৃহস্পতিবার সান ডিয়েগোতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে প্রায় ২০০ নাবিকের পরিবারের সদস্যরা তাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানান। এক নাবিকের স্ত্রী জানান, তার স্বামী তাকে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন যে তিনি আর ঘুম থেকে উঠতে চান না। এছাড়া, বারবার মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানোয় মানসিকভাবে ভেঙে পড়া এক নাবিক জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেন, যাকে তার সহকর্মীরা বাধা দেন।

জাহাজটির ভেতরের জীবনযাত্রার মান নিয়ে কংগ্রেস সদস্য মাইক লেভিন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, জাহাজে ছাঁচ ধরা গোসলখানা, অচল শৌচাগার ও লন্ড্রি ব্যবস্থা, গরম পানির সংকট এবং খাবারের ঘাটতি রয়েছে। এমনকি সাবান, ডিওডোরেন্ট ও টুথপেস্টের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কলোরাডোর কংগ্রেস সদস্য জেসন ক্রো জানিয়েছেন, নাবিক ও তাদের পরিবারের ওপর এই চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চিঠি লিখে নৌবাহিনীর কাছে জবাবদিহি চেয়েছেন। তিনি পানিদূষণ, প্লাম্বিং সমস্যা ও নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া সিনেটর রুবেন গ্যালেগো জাহাজটিতে দ্বিদলীয় সিনেট প্রতিনিধিদলের আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, নাবিকদের আত্মহননের চেষ্টার খবর পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তার সতর্কসংকেত।

২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর সান ডিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে আব্রাহাম লিংকন। শুরুতে দক্ষিণ চীন সাগরে মোতায়েনের কথা থাকলেও পরে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। মিসড নাউয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৫ হাজারের বেশি ক্রু সদস্য এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র দুদিন তীরে নামার সুযোগ পেয়েছেন—ডিসেম্বরে গুয়ামে এবং জুলাইয়ে ওমানে।

এর আগে এপ্রিলেও জাহাজটির নিম্নমানের খাবার, পানির সংকট ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তখন এসব অভিযোগকে ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন নাবিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তবে তাদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণই নৌবাহিনীর প্রধান অগ্রাধিকার। জাহাজে চিকিৎসক, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ধর্মীয় কর্মকর্তারা নিয়োজিত আছেন বলে তারা জানিয়েছে।

এদিকে, ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ ও মেহর নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, আব্রাহাম লিংকনে নাবিকদের মধ্যে সংঘর্ষে সাতজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের ভাষ্যমতে, সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপারের এক উপদেষ্টা নাবিকদের অভিযোগ শুনতে গেলে বিক্ষোভের মুখে পড়েন, যা পরে সংঘর্ষ ও ধারালো অস্ত্রের ব্যবহারে রূপ নেয়। তবে সাত নাবিক নিহত হওয়ার এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং মার্কিন নৌবাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত বছরের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রে দায়িত্ব পালনকারী মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যদের মানসিক চাপের প্রধান কারণ হলো উচ্চ শব্দ, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক নাবিক জানিয়েছেন, তারা মানসিক চাপ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সহায়তা পাচ্ছেন না।

আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দীর্ঘ মোতায়েন, জীবনযাত্রার মান নিয়ে অভিযোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে এখন মার্কিন কংগ্রেসে তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রকৃত পরিস্থিতি উদঘাটনে নীতিনির্ধারকরা এখন চাপের মুখে রয়েছেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর আগে জাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়।

তার দাবি, জাহাজ থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে পরিষ্কার পানি, সচল শীতাতপনিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে।

জাহাজটির বর্তমান মোতায়েনের মেয়াদ এরইমধ্যে নয় মাসে পৌঁছেছে।

অন্য একটি ঘটনায় এক নাবিক তার সহকর্মীকে জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়া থেকে আটকান বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি নিজেও সাবেক সেনা রেঞ্জার এবং আফগানিস্তান ও ইরাকে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জনপ্রিয়

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মার্কিন রণতরি আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দুরবস্থা ও মানসিক চাপ নিয়ে তদন্তের দাবি

আপডেট : ০১:১৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের মানসিক চাপ ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও সেনা সদস্য মাসের পর মাস সমুদ্রে অবস্থান করছেন। মার্কিন সামরিক সংবাদমাধ্যম নেভি টাইমস ও স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজের দুর্বিষহ পরিস্থিতির কারণে কয়েকজন নাবিক সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আধুনিক যুগে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরির জন্য টানা ২৫০ দিনের বেশি তীরে না ভিড়ে সমুদ্রে থাকার এটি একটি রেকর্ড।

গত বৃহস্পতিবার সান ডিয়েগোতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে প্রায় ২০০ নাবিকের পরিবারের সদস্যরা তাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানান। এক নাবিকের স্ত্রী জানান, তার স্বামী তাকে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন যে তিনি আর ঘুম থেকে উঠতে চান না। এছাড়া, বারবার মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানোয় মানসিকভাবে ভেঙে পড়া এক নাবিক জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেন, যাকে তার সহকর্মীরা বাধা দেন।

জাহাজটির ভেতরের জীবনযাত্রার মান নিয়ে কংগ্রেস সদস্য মাইক লেভিন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, জাহাজে ছাঁচ ধরা গোসলখানা, অচল শৌচাগার ও লন্ড্রি ব্যবস্থা, গরম পানির সংকট এবং খাবারের ঘাটতি রয়েছে। এমনকি সাবান, ডিওডোরেন্ট ও টুথপেস্টের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কলোরাডোর কংগ্রেস সদস্য জেসন ক্রো জানিয়েছেন, নাবিক ও তাদের পরিবারের ওপর এই চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চিঠি লিখে নৌবাহিনীর কাছে জবাবদিহি চেয়েছেন। তিনি পানিদূষণ, প্লাম্বিং সমস্যা ও নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া সিনেটর রুবেন গ্যালেগো জাহাজটিতে দ্বিদলীয় সিনেট প্রতিনিধিদলের আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, নাবিকদের আত্মহননের চেষ্টার খবর পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তার সতর্কসংকেত।

২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর সান ডিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে আব্রাহাম লিংকন। শুরুতে দক্ষিণ চীন সাগরে মোতায়েনের কথা থাকলেও পরে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। মিসড নাউয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৫ হাজারের বেশি ক্রু সদস্য এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র দুদিন তীরে নামার সুযোগ পেয়েছেন—ডিসেম্বরে গুয়ামে এবং জুলাইয়ে ওমানে।

এর আগে এপ্রিলেও জাহাজটির নিম্নমানের খাবার, পানির সংকট ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তখন এসব অভিযোগকে ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন নাবিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তবে তাদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণই নৌবাহিনীর প্রধান অগ্রাধিকার। জাহাজে চিকিৎসক, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ধর্মীয় কর্মকর্তারা নিয়োজিত আছেন বলে তারা জানিয়েছে।

এদিকে, ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ ও মেহর নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, আব্রাহাম লিংকনে নাবিকদের মধ্যে সংঘর্ষে সাতজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের ভাষ্যমতে, সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপারের এক উপদেষ্টা নাবিকদের অভিযোগ শুনতে গেলে বিক্ষোভের মুখে পড়েন, যা পরে সংঘর্ষ ও ধারালো অস্ত্রের ব্যবহারে রূপ নেয়। তবে সাত নাবিক নিহত হওয়ার এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং মার্কিন নৌবাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত বছরের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রে দায়িত্ব পালনকারী মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যদের মানসিক চাপের প্রধান কারণ হলো উচ্চ শব্দ, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক নাবিক জানিয়েছেন, তারা মানসিক চাপ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সহায়তা পাচ্ছেন না।

আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দীর্ঘ মোতায়েন, জীবনযাত্রার মান নিয়ে অভিযোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে এখন মার্কিন কংগ্রেসে তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রকৃত পরিস্থিতি উদঘাটনে নীতিনির্ধারকরা এখন চাপের মুখে রয়েছেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর আগে জাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়।

তার দাবি, জাহাজ থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে পরিষ্কার পানি, সচল শীতাতপনিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে।

জাহাজটির বর্তমান মোতায়েনের মেয়াদ এরইমধ্যে নয় মাসে পৌঁছেছে।

অন্য একটি ঘটনায় এক নাবিক তার সহকর্মীকে জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়া থেকে আটকান বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি নিজেও সাবেক সেনা রেঞ্জার এবং আফগানিস্তান ও ইরাকে দায়িত্ব পালন করেছেন।