Hi

০৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুর গোপন আমিরাত সফর ও প্রেসিডেন্ট এমবিজেডের সঙ্গে বৈঠক

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৭:১৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২০ জন দেখেছে

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহের সোমবারে সংক্ষিপ্ত ও গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। সেখানে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের (এমবিজেড) সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। চ্যানেল-১২ ও রয়টার্স সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এ আলোচনার বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বা ইসরায়েলে অবস্থিত আমিরাতের দূতাবাস কোনো মন্তব্য করতে সম্মত হয়নি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল–১২ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এর আগে আমিরাতের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, সংযুক্ত আরব আমিরাত সংশ্লিষ্ট ‘উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর’ মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, তবে তা ‘জাতীয় নেতাদের পর্যায়ে’ হয় না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার দুপুরের পর নেতানিয়াহু একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে আবুধাবির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তিনি বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে সেখানে পৌঁছান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোট চার ঘণ্টা অবস্থান করেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে এমবিজেডের পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুকে দেওয়া একটি সতর্কবার্তাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক বিতর্কের আবহেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। সেই বিতর্কের মূল বিষয় ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতার—যিনি এমবিজেড নামে পরিচিত—তরফ থেকে নেতানিয়াহুকে দেওয়া একটি কথিত সতর্কবার্তা।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ দাবি করেছিল, হামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ আগেই ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর বড় ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন এমবিজেড। তবে সেই তথ্য ইসরায়েলি সামরিক বা গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে পৌঁছানো হয়নি। নেতানিয়াহু এই দাবি অস্বীকার করে পত্রিকাটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি একটি কঠিন পুনর্নির্বাচনী প্রচারণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে বিরোধীরা তাকেই দায়ী করছেন। একই সময়ে তিনি কঠিন পুনর্নির্বাচন প্রচারণার মুখোমুখি হয়েছেন।

আমিরাত কর্তৃপক্ষ হারেৎজের সংবাদের ওপর মন্তব্য না করলেও জানিয়েছে যে, ২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম চালু রয়েছে। এর আগে গত ২৬ মার্চ আবুধাবির আল-আইন শহরে নেতানিয়াহু ও এমবিজেডের গোপন বৈঠকের কথা মে মাসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশ করেছিল। তবে সেই বৈঠকের বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ থাকলেও নেতানিয়াহু তা ফাঁস করে দেওয়ায় আমিরাতের কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হন এবং কূটনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। বৈঠকটির বিষয়ে অবগত একটি সূত্র সে সময় জানিয়েছিল, ২৬ মার্চ আবুধাবির ওমান সীমান্তবর্তী মরূদ্যান শহর আল-আইনে নেতানিয়াহু ও এমবিজেড বৈঠক করেছিলেন।

চ্যানেল-১২-এর তথ্যানুসারে, আগামী মাসের নেসেট নির্বাচনে নেতানিয়াহুর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত পরদিনই আমিরাত সফর করে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারতেন। অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এই চাপ থেকেই নেতানিয়াহু আগের গোপন সফরের খবর প্রকাশ করেছিলেন। বর্তমানে ইরানের সাথে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংগে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে আমিরাত, যা তাদের আঞ্চলিক রাজনীতি ও ওয়াশিংটনের সাথে সংযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জনপ্রিয়

জাতিসংঘ সফর নিয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নেতানিয়াহুর গোপন আমিরাত সফর ও প্রেসিডেন্ট এমবিজেডের সঙ্গে বৈঠক

আপডেট : ০৭:১৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহের সোমবারে সংক্ষিপ্ত ও গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। সেখানে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের (এমবিজেড) সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। চ্যানেল-১২ ও রয়টার্স সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এ আলোচনার বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বা ইসরায়েলে অবস্থিত আমিরাতের দূতাবাস কোনো মন্তব্য করতে সম্মত হয়নি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল–১২ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এর আগে আমিরাতের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, সংযুক্ত আরব আমিরাত সংশ্লিষ্ট ‘উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর’ মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, তবে তা ‘জাতীয় নেতাদের পর্যায়ে’ হয় না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার দুপুরের পর নেতানিয়াহু একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে আবুধাবির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তিনি বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে সেখানে পৌঁছান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোট চার ঘণ্টা অবস্থান করেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে এমবিজেডের পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুকে দেওয়া একটি সতর্কবার্তাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক বিতর্কের আবহেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। সেই বিতর্কের মূল বিষয় ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতার—যিনি এমবিজেড নামে পরিচিত—তরফ থেকে নেতানিয়াহুকে দেওয়া একটি কথিত সতর্কবার্তা।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ দাবি করেছিল, হামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ আগেই ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর বড় ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন এমবিজেড। তবে সেই তথ্য ইসরায়েলি সামরিক বা গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে পৌঁছানো হয়নি। নেতানিয়াহু এই দাবি অস্বীকার করে পত্রিকাটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি একটি কঠিন পুনর্নির্বাচনী প্রচারণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে বিরোধীরা তাকেই দায়ী করছেন। একই সময়ে তিনি কঠিন পুনর্নির্বাচন প্রচারণার মুখোমুখি হয়েছেন।

আমিরাত কর্তৃপক্ষ হারেৎজের সংবাদের ওপর মন্তব্য না করলেও জানিয়েছে যে, ২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম চালু রয়েছে। এর আগে গত ২৬ মার্চ আবুধাবির আল-আইন শহরে নেতানিয়াহু ও এমবিজেডের গোপন বৈঠকের কথা মে মাসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশ করেছিল। তবে সেই বৈঠকের বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ থাকলেও নেতানিয়াহু তা ফাঁস করে দেওয়ায় আমিরাতের কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হন এবং কূটনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। বৈঠকটির বিষয়ে অবগত একটি সূত্র সে সময় জানিয়েছিল, ২৬ মার্চ আবুধাবির ওমান সীমান্তবর্তী মরূদ্যান শহর আল-আইনে নেতানিয়াহু ও এমবিজেড বৈঠক করেছিলেন।

চ্যানেল-১২-এর তথ্যানুসারে, আগামী মাসের নেসেট নির্বাচনে নেতানিয়াহুর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত পরদিনই আমিরাত সফর করে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারতেন। অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এই চাপ থেকেই নেতানিয়াহু আগের গোপন সফরের খবর প্রকাশ করেছিলেন। বর্তমানে ইরানের সাথে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংগে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে আমিরাত, যা তাদের আঞ্চলিক রাজনীতি ও ওয়াশিংটনের সাথে সংযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।