Hi

০৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু ইউনিটে যোগ দেওয়ার আগেই প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৬:৫২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২২ জন দেখেছে

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪২তম বিসিএসের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আঁচল রায়। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং সম্প্রতি তাকে রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছিল। ট্র্যাজেডির বিষয় হলো, শিগগিরই তার ডেঙ্গু ইউনিটে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল, কিন্তু সেই সুযোগ পাওয়ার আগেই মরণব্যাধি ডেঙ্গু তার প্রাণ কেড়ে নিল। জানা গেছে, চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি মাঝে মাঝে ডেঙ্গু রোগীদেরও চিকিৎসা দিয়েছেন। ৪২তম বিসিএসের মাধ্যমে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। দায়িত্ব পালনকালে বুকে ব্যথা, হাসপাতালে এএসআইয়ের মৃত্যু।

ডা. আঁচল রায়ের স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস জানান, জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর চার দিন তিনি বাড়িতে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। কিন্তু পঞ্চম দিনে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। এরপর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে প্রথমে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে ভর্তি করা হয়, তবে অবস্থার আরও অবনতি হলে পরবর্তীতে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। ডা. আঁচল সম্প্রতি ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএসের মিড-টার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং যুক্তরাজ্যের এমআরসিপি পার্ট-ওয়ান পরীক্ষাতেও সফল হয়েছিলেন। তার স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (নিপোর্ট) কর্মরত।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ও তার স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করেছেন। বিয়ের মাত্র ১৭ মাস পরেই অকাল মৃত্যুতে তাদের সংসারে শোকের ছায়া নেমেছে। ডা. আঁচলের পৈতৃক বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হলেও তিনি বড় হয়েছেন ঢাকায়। তার সহকর্মী এবং চিকিৎসকদের মধ্যে এই অকাল মৃত্যুতে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

ডা. আঁচলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসককে হারিয়ে স্বাস্থ্য পরিবার শোকাহত। তিনি প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করে তার পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’ পালানোর ঘটনায় ৫ পুলিশ বরখাস্ত। হাসনাতের ‘গণভিক্ষা কর্মসূচি’ নিয়ে হামিমের সমালোচনা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট ৭৩ হাজার ৬৯৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। শুধুমাত্র সেপ্টেম্বর মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৮৪৮ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে মোট ২২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় তিন বছর সম্পর্কের পর তারা বিয়ে করেন।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ নারী। অন্যদিকে, প্রাণহানি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ নারী। ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে থাকলেও প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষাজীবনে পরিচয় থাকলেও স্নাতক শেষ করার পর তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

জনপ্রিয়

জাতিসংঘ সফর নিয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ডেঙ্গু ইউনিটে যোগ দেওয়ার আগেই প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল

আপডেট : ০৬:৫২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪২তম বিসিএসের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আঁচল রায়। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং সম্প্রতি তাকে রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছিল। ট্র্যাজেডির বিষয় হলো, শিগগিরই তার ডেঙ্গু ইউনিটে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল, কিন্তু সেই সুযোগ পাওয়ার আগেই মরণব্যাধি ডেঙ্গু তার প্রাণ কেড়ে নিল। জানা গেছে, চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি মাঝে মাঝে ডেঙ্গু রোগীদেরও চিকিৎসা দিয়েছেন। ৪২তম বিসিএসের মাধ্যমে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। দায়িত্ব পালনকালে বুকে ব্যথা, হাসপাতালে এএসআইয়ের মৃত্যু।

ডা. আঁচল রায়ের স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস জানান, জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর চার দিন তিনি বাড়িতে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। কিন্তু পঞ্চম দিনে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। এরপর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে প্রথমে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে ভর্তি করা হয়, তবে অবস্থার আরও অবনতি হলে পরবর্তীতে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। ডা. আঁচল সম্প্রতি ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএসের মিড-টার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং যুক্তরাজ্যের এমআরসিপি পার্ট-ওয়ান পরীক্ষাতেও সফল হয়েছিলেন। তার স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (নিপোর্ট) কর্মরত।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ও তার স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করেছেন। বিয়ের মাত্র ১৭ মাস পরেই অকাল মৃত্যুতে তাদের সংসারে শোকের ছায়া নেমেছে। ডা. আঁচলের পৈতৃক বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হলেও তিনি বড় হয়েছেন ঢাকায়। তার সহকর্মী এবং চিকিৎসকদের মধ্যে এই অকাল মৃত্যুতে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

ডা. আঁচলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসককে হারিয়ে স্বাস্থ্য পরিবার শোকাহত। তিনি প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করে তার পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’ পালানোর ঘটনায় ৫ পুলিশ বরখাস্ত। হাসনাতের ‘গণভিক্ষা কর্মসূচি’ নিয়ে হামিমের সমালোচনা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট ৭৩ হাজার ৬৯৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। শুধুমাত্র সেপ্টেম্বর মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৮৪৮ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে মোট ২২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় তিন বছর সম্পর্কের পর তারা বিয়ে করেন।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ নারী। অন্যদিকে, প্রাণহানি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ নারী। ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে থাকলেও প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষাজীবনে পরিচয় থাকলেও স্নাতক শেষ করার পর তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।