Hi

০৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরীয়তপুরে তিন শতাধিক গ্রাহকের সঞ্চয় ও ঋণের টাকা নিয়ে

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৭:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১ জন দেখেছে

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ‘আলো সংস্থা’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) বিরুদ্ধে অধিক পরিমাণ ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা সংগ্রহের পরপরই সংস্থাটির কর্মকর্তারা অফিস বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছেন। সোমবার দুপুরে ডামুড্যা উপজেলার উত্তর ডামুড্যা বকুলতলা এলাকায় সংস্থাটির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে ভুক্তভোগীরা তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাদের দাবি, কনেশ্বর, পূর্ব ডামুড্যা ও ইসলামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয় ও ঋণের নামে কৌশলে টাকা নেওয়া হয়েছে।

প্রতারণার ফাঁদ ও ঋণ পাওয়ার আশায় টাকা জমা

কনেশ্বর ইউনিয়নের ছাতিয়ানি এলাকার বাসিন্দা কাউসার হোসেন জানান, চলতি মাসের প্রথমদিকে আলো সংস্থার ফিল্ড অফিসার নাজমুল হাসান তাদের এলাকায় গিয়ে হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণসহ এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখান। এর অংশ হিসেবে এলাকার নারীদের নিয়ে ১০ সদস্যের একটি দল গঠন করা হয় এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে ভর্তি বাবদ ২৫০ টাকা নেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার সংস্থার ম্যানেজার হাবিব ও ফিল্ড অফিসার নাজমুল হাসান পুনরায় এলাকায় গিয়ে রোববার সঞ্চয়ের টাকা দেওয়ার পর সোমবার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে রোববার নাজমুল হাসান এলে ঋণ পাওয়ার আশায় গ্রাহকরা প্রতি লাখে ১০ হাজার টাকা করে জমা দেন। শুধুমাত্র একটি দল থেকেই ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা সঞ্চয় নেওয়া হয়েছিল। সোমবার সকালে ঋণ নিতে অফিসে গিয়ে গ্রাহকরা কাউকেই খুঁজে পাননি। পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের মাহফুজা বেগম জানান, তিনিও একই প্রলোভনে পড়ে ২০ সদস্যের দল গঠন করে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু সোমবার অফিসে গিয়ে দেখেন সবকিছু বন্ধ। আরেক গ্রাহক মাকসুদা বেগম জানান, তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা সঞ্চয় নেওয়া হলেও সোমবার ঋণের বদলে তিনি তালাবদ্ধ অফিস পেয়েছেন।

অফিস সহায়ক ও স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য

আলো সংস্থায় সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া অফিস সহায়ক মুক্তা আক্তার জানান, রোববার বিকেল ৪টার দিকে অফিসের খাদিজা নামের এক কর্মকর্তা তাকে মুঠোফোনে অফিস বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশে অফিস বন্ধ করে দিলেও সোমবার সকালে গ্রাহকদের ভিড় এবং সংস্থার কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে তিনি নিজেও চরম চাপের মুখে পড়েছেন। ভুক্তভোগীদের সামগ্রিক অভিযোগ অনুযায়ী, তিন শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, যদিও এর সঠিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে একজন ভুক্তভোগী মৌখিকভাবে তাকে অবহিত করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

  • প্রতারক চক্রের মূল লক্ষ্য ছিল হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণের নাম করে এলাকার নিম্ন আয়ের নারীদের আকৃষ্ট করা।
  • প্রতি লাখ ঋণের বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম সঞ্চয় নেওয়ার বিষয়টি ছিল প্রতারণার অন্যতম প্রধান শর্ত।
  • কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
  • পুলিশ প্রশাসন লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় রয়েছে যাতে প্রতারকদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা যায়।
জনপ্রিয়

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর নিধির ঝুলন্ত মৃত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায়

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শরীয়তপুরে তিন শতাধিক গ্রাহকের সঞ্চয় ও ঋণের টাকা নিয়ে

আপডেট : ০৭:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ‘আলো সংস্থা’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) বিরুদ্ধে অধিক পরিমাণ ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা সংগ্রহের পরপরই সংস্থাটির কর্মকর্তারা অফিস বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছেন। সোমবার দুপুরে ডামুড্যা উপজেলার উত্তর ডামুড্যা বকুলতলা এলাকায় সংস্থাটির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে ভুক্তভোগীরা তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাদের দাবি, কনেশ্বর, পূর্ব ডামুড্যা ও ইসলামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয় ও ঋণের নামে কৌশলে টাকা নেওয়া হয়েছে।

প্রতারণার ফাঁদ ও ঋণ পাওয়ার আশায় টাকা জমা

কনেশ্বর ইউনিয়নের ছাতিয়ানি এলাকার বাসিন্দা কাউসার হোসেন জানান, চলতি মাসের প্রথমদিকে আলো সংস্থার ফিল্ড অফিসার নাজমুল হাসান তাদের এলাকায় গিয়ে হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণসহ এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখান। এর অংশ হিসেবে এলাকার নারীদের নিয়ে ১০ সদস্যের একটি দল গঠন করা হয় এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে ভর্তি বাবদ ২৫০ টাকা নেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার সংস্থার ম্যানেজার হাবিব ও ফিল্ড অফিসার নাজমুল হাসান পুনরায় এলাকায় গিয়ে রোববার সঞ্চয়ের টাকা দেওয়ার পর সোমবার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে রোববার নাজমুল হাসান এলে ঋণ পাওয়ার আশায় গ্রাহকরা প্রতি লাখে ১০ হাজার টাকা করে জমা দেন। শুধুমাত্র একটি দল থেকেই ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা সঞ্চয় নেওয়া হয়েছিল। সোমবার সকালে ঋণ নিতে অফিসে গিয়ে গ্রাহকরা কাউকেই খুঁজে পাননি। পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের মাহফুজা বেগম জানান, তিনিও একই প্রলোভনে পড়ে ২০ সদস্যের দল গঠন করে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু সোমবার অফিসে গিয়ে দেখেন সবকিছু বন্ধ। আরেক গ্রাহক মাকসুদা বেগম জানান, তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা সঞ্চয় নেওয়া হলেও সোমবার ঋণের বদলে তিনি তালাবদ্ধ অফিস পেয়েছেন।

অফিস সহায়ক ও স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য

আলো সংস্থায় সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া অফিস সহায়ক মুক্তা আক্তার জানান, রোববার বিকেল ৪টার দিকে অফিসের খাদিজা নামের এক কর্মকর্তা তাকে মুঠোফোনে অফিস বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশে অফিস বন্ধ করে দিলেও সোমবার সকালে গ্রাহকদের ভিড় এবং সংস্থার কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে তিনি নিজেও চরম চাপের মুখে পড়েছেন। ভুক্তভোগীদের সামগ্রিক অভিযোগ অনুযায়ী, তিন শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, যদিও এর সঠিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে একজন ভুক্তভোগী মৌখিকভাবে তাকে অবহিত করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

  • প্রতারক চক্রের মূল লক্ষ্য ছিল হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণের নাম করে এলাকার নিম্ন আয়ের নারীদের আকৃষ্ট করা।
  • প্রতি লাখ ঋণের বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম সঞ্চয় নেওয়ার বিষয়টি ছিল প্রতারণার অন্যতম প্রধান শর্ত।
  • কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
  • পুলিশ প্রশাসন লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় রয়েছে যাতে প্রতারকদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা যায়।