Hi

০৩:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০ বছর পূর্তিতে আল জাজিরার আয়োজনে কাতারের আমীর

“গল্পের পথচলা অব্যাহত…” এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক তার যাত্রার ৩০ বছর পূর্ণ করেছে। গত সন্ধ্যায় দোহায় অবস্থিত নেটওয়ার্কটির প্রধান কার্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে এই মাইলফলক উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানী।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর আমীর নেটওয়ার্কটির তিন দশকের অগ্রযাত্রা, ইতিহাস এবং গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক নিয়ে আয়োজিত একটি ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ফাদার আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানীর দৃষ্টিভঙ্গি এবং গণমাধ্যমে আল জাজিরার ভূমিকা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এরপর আমীর নতুন হাই-টেক স্টুডিও এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন নিউজ রুম পরিদর্শন করেন, যেখানে তাঁকে সংবাদ পরিবেশনায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল-থানী, আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান শেখ হামাদ বিন সামের আল-থানী, ডিরেক্টর জেনারেল শেখ নাসের বিন ফয়সাল আল-থানীসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মন্ত্রী, সাংবাদিক এবং কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।

১৯৯৬ সালে ফাদার আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানীর হাত ধরে মাত্র ছয় ঘণ্টার সম্প্রচার নিয়ে যাত্রা শুরু করা আল জাজিরা আজ বিশ্ব গণমাধ্যমের অন্যতম শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ৪৩ কোটি পরিবারে এই গণমাধ্যমটির সম্প্রচার পৌঁছাচ্ছে। বিশ্বের ৭০টিরও বেশি ব্যুরোতে ৯৫টি দেশের প্রায় তিন হাজার কর্মী বর্তমানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চ্যানেলটির অনুসারীর সংখ্যা বর্তমানে ৫ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। ১৯৯৬ সালে ফাদার আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানীর হাত ধরে মাত্র ৬ ঘণ্টার সম্প্রচার দিয়ে শুরু হওয়া আল জাজিরা আজ বিশ্ব গণমাধ্যমের অন্যতম পরাশক্তি। গ্লোবাল নেটওয়ার্ক: বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ৪৩ কোটি (৪৩০ মিলিয়ন) পরিবারে পৌঁছে যায় আল জাজিরা। বিশ্বের ৭০টিরও বেশি ব্যুরোতে ৯৫টি দেশের প্রায় ৩,০০০-এর বেশি কর্মী কাজ করছেন। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিষ্ঠানটির ৫ কোটি ২০ লাখ (৫২ মিলিয়ন) অনুসারী রয়েছে।

দীর্ঘ এই পথচলায় নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০১ সালে কাবুল এবং ২০০৩ সালে বাগদাদে কার্যালয়ে হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও তারা সাহসী সাংবাদিকতা অব্যাহত রেখেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত আল জাজিরার ২৪ জনেরও বেশি সংবাদকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০২২ সালে জেনিনে নিহত শিরিন আবু আকলেহ এবং ২০২৫ সালে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত আনাস আল-শরীফ অন্যতম। এছাড়াও ২০১১ সালের ‘আরব বসন্ত’-এর কভারেজের জন্য চ্যানেলটি মর্যাদাপূর্ণ ‘পীবডি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ আয়োজনে আল জাজিরা তাদের নতুন ডিজিটাল চ্যানেল ‘আল জাজিরা নাও’ (Al Jazeera Now) এবং ৩০টিরও বেশি নতুন অনুষ্ঠান চালুর ঘোষণা দিয়েছে।

জনপ্রিয়

কমলগঞ্জে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রাণ হারালেন যুবক, আটক ১

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

৩০ বছর পূর্তিতে আল জাজিরার আয়োজনে কাতারের আমীর

আপডেট : ০২:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

“গল্পের পথচলা অব্যাহত…” এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক তার যাত্রার ৩০ বছর পূর্ণ করেছে। গত সন্ধ্যায় দোহায় অবস্থিত নেটওয়ার্কটির প্রধান কার্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে এই মাইলফলক উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানী।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর আমীর নেটওয়ার্কটির তিন দশকের অগ্রযাত্রা, ইতিহাস এবং গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক নিয়ে আয়োজিত একটি ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ফাদার আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানীর দৃষ্টিভঙ্গি এবং গণমাধ্যমে আল জাজিরার ভূমিকা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এরপর আমীর নতুন হাই-টেক স্টুডিও এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন নিউজ রুম পরিদর্শন করেন, যেখানে তাঁকে সংবাদ পরিবেশনায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল-থানী, আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান শেখ হামাদ বিন সামের আল-থানী, ডিরেক্টর জেনারেল শেখ নাসের বিন ফয়সাল আল-থানীসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মন্ত্রী, সাংবাদিক এবং কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।

১৯৯৬ সালে ফাদার আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানীর হাত ধরে মাত্র ছয় ঘণ্টার সম্প্রচার নিয়ে যাত্রা শুরু করা আল জাজিরা আজ বিশ্ব গণমাধ্যমের অন্যতম শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ৪৩ কোটি পরিবারে এই গণমাধ্যমটির সম্প্রচার পৌঁছাচ্ছে। বিশ্বের ৭০টিরও বেশি ব্যুরোতে ৯৫টি দেশের প্রায় তিন হাজার কর্মী বর্তমানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চ্যানেলটির অনুসারীর সংখ্যা বর্তমানে ৫ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। ১৯৯৬ সালে ফাদার আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানীর হাত ধরে মাত্র ৬ ঘণ্টার সম্প্রচার দিয়ে শুরু হওয়া আল জাজিরা আজ বিশ্ব গণমাধ্যমের অন্যতম পরাশক্তি। গ্লোবাল নেটওয়ার্ক: বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ৪৩ কোটি (৪৩০ মিলিয়ন) পরিবারে পৌঁছে যায় আল জাজিরা। বিশ্বের ৭০টিরও বেশি ব্যুরোতে ৯৫টি দেশের প্রায় ৩,০০০-এর বেশি কর্মী কাজ করছেন। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিষ্ঠানটির ৫ কোটি ২০ লাখ (৫২ মিলিয়ন) অনুসারী রয়েছে।

দীর্ঘ এই পথচলায় নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০১ সালে কাবুল এবং ২০০৩ সালে বাগদাদে কার্যালয়ে হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও তারা সাহসী সাংবাদিকতা অব্যাহত রেখেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত আল জাজিরার ২৪ জনেরও বেশি সংবাদকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০২২ সালে জেনিনে নিহত শিরিন আবু আকলেহ এবং ২০২৫ সালে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত আনাস আল-শরীফ অন্যতম। এছাড়াও ২০১১ সালের ‘আরব বসন্ত’-এর কভারেজের জন্য চ্যানেলটি মর্যাদাপূর্ণ ‘পীবডি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ আয়োজনে আল জাজিরা তাদের নতুন ডিজিটাল চ্যানেল ‘আল জাজিরা নাও’ (Al Jazeera Now) এবং ৩০টিরও বেশি নতুন অনুষ্ঠান চালুর ঘোষণা দিয়েছে।