জন্ম থেকেই দুই হাত অচল হওয়ার সীমাবদ্ধতা কলি রানীর স্বপ্নের পথে কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। শ্রমিক বিক্ষোভ / গাজীপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন, আশুলিয়ায় আটক ২। পোশাক খাতে অস্থিরতায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত মালিক-শ্রমিক দায়ী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওর বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো আরও ভালোভাবে পাশে দাঁড়াতে পারতেন।
ছোটবেলা থেকেই পায়ের ওপর ভরসা রেখে সে কেবল লেখালেখিই নয়, ছবি আঁকা, কম্পিউটার চালানো কিংবা মোবাইল ব্যবহারের মতো কাজগুলোতে দক্ষতা অর্জন করেছে। এই অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরেই এবার এইচএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের দেখা পেয়েছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তাপাড়ের গদাই গ্রামের এই তরুণী। এক পঞ্জিকাবর্ষে ভারতের ৪০০ ছক্কা, কে কতটি হাঁকিয়েছেন। দুই পা দিয়েই লিখছেন, ছবি আঁকছেন, চালাচ্ছেন কম্পিউটার-মোবাইলও। পা দিয়ে ছবি এঁকেও পেয়েছেন একাধিক সম্মাননা।
কাউনিয়া মহিলা কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কলি ৩.৫০ জিপিএ অর্জন করেছে। তার এই লড়াই কেবল বইয়ের পাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং প্রতিকূলতাকে জয় করার গল্প হিসেবে স্থানীয়দের কাছে সে ‘হার না মানা তরুণী’ হিসেবে পরিচিত। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে সে এগিয়ে চলেছে অদম্য আত্মবিশ্বাসে।
কলির সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় কৃষক বাবা মনোরঞ্জন রায়কে হারিয়ে ছয় ভাই-বোনের সংসার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন মা রুপালী রানী। পরিবারের একমাত্র সম্বল সামান্য কৃষিজমিটুকুও তিস্তার ভাঙনে তলিয়ে যাওয়ায় অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এই অভাবের মধ্যেও মেয়ের অদম্য স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তার মা। কৃষক মনোরঞ্জন রায়ের মৃত্যুর পর ছয় ভাই-বোনের সংসারে নেমে আসে অনিশ্চয়তা। তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে সেই জমিরও বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তারপরও মেয়ের স্বপ্ন পূরণে যতটা পারি চেষ্টা করে যাচ্ছি।’। এখন যা আছে, তা চাষ করেই কোনোভাবে সংসার চলছে।
মা রুপালী রানী জানান, ছোটবেলা থেকেই পা দিয়ে কাজ করার বিষয়টি কলিকে রপ্ত করানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মেয়ে কখনোই নিজের ভাগ্য নিয়ে আফসোস করেনি। সে নিজের খাওয়া-দাওয়া, চুল আঁচড়ানোসহ প্রায় সব কাজই পা দিয়ে করতে পারে। শুধু পোশাক পরার ক্ষেত্রে আমার সহায়তা প্রয়োজন হয়। তার বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারলে আমার কষ্ট সার্থক হবে।’ এক্সপ্লেইনার / মজুরি বোর্ড কীভাবে কাজ করে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কে নেয়। সংসারের সবচেয়ে ছোট সন্তান কলিকে নিয়ে মা রুপালী রানীর সংগ্রাম তখন আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
কলির বড় ভাই মন্টু রায় জানান, ছোটবেলায় ডান পা দিয়ে অনুশীলনের মাধ্যমে সে দ্রুত লেখার দক্ষতা অর্জন করেছে। তিস্তার ভাঙনে জমি হারানোর পর পারিবারিক আর্থিক সংকট তীব্র হলেও তারা বোনের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ‘তিস্তার ভাঙনে আমাদের অনেক জমি নদীতে চলে গেছে।
কলি রানীর নিজের ভাষায়, ‘মা আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমার দুই পা-ই আমার হাত এবং এই শক্তির ওপর ভর করেই আমি সব বাধা অতিক্রম করতে চাই।’ পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীত ও চিত্রাঙ্কনেও তার বিশেষ প্রতিভা রয়েছে, যা তাকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বেশ কয়েকটি পুরস্কার এনে দিয়েছে। ভাওয়াইয়া ও দেশাত্মবোধক গান গেয়ে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ডজনখানেক পুরস্কারও জিতেছেন কলি।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম জানান, কলি শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাতেই নয়, কম্পিউটার ও সৃজনশীল কাজেও নিজেকে দক্ষ করে তুলেছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারে না, কলি তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার হয়ে প্রশাসনে যোগ দিয়ে মানুষের সেবা করার অদম্য স্বপ্ন দেখছে কলি। তার এই সাফল্যের পেছনে মা, ভাই, শিক্ষক ও সহপাঠীদের অনুপ্রেরণাকে সে বড় শক্তি হিসেবে দেখছে। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে সে এখন তার লক্ষ্যে অটল। পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পাস করলেন কলি, হতে চান বিসিএস ক্যাডার। ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর।
রিপোর্টার নাম: 























