গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনমান নিশ্চিত করতে এবং ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সারাদেশে চিংড়ি ঘের বিষয়ক এক সভা শেষে ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা জানান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও কারখানাগুলোর উৎপাদন সচল রাখা- দুটি বিষয়কেই সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শিল্প খাতে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরির কোনো সুযোগ বা যৌক্তিকতা নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পোশাক খাতের সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার সঙ্গে শ্রমিকদের আসল দাবির কোনো সম্পর্ক নেই। অতীতের সুবিধাভোগী বা স্বার্থান্বেষী কিছু মহল নিজেদের হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে পোশাক শ্রমিকদের উসকে দিচ্ছে। দেশের শিল্প খাতের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করার এই পাঁয়তারা বরদাশত করা হবে না এবং এ ধরনের সব অপতৎপরতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হাতে দমন করবে। তিনি আরও বলেন, অতীতের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কোনো মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে সরকার মনে করছে।
তিনি আরও জানান, তৈরি পোশাক ও বিকেএমইএ-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনের প্রায় সব শীর্ষ নেতা এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে সরকারের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মজুরি বোর্ডের মাধ্যমেই শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা দর-কষাকষির সুযোগ পাবেন এবং একটি কার্যকর মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত হবে। আলোচনার অগ্রগতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সড়কে অবস্থান ও কিছু কারখানা বন্ধের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বন্ধ থাকা পোশাক কারখানাগুলো দ্রুত পুনরায় খুলে দেওয়ার পদক্ষেপ চলছে। তবে কোনো দুষ্কৃতকারী যদি উসকানিমূলক কাজের মাধ্যমে সহিংসতা ছড়ায় বা কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট জানান, আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধানের দরজা সবসময় খোলা রয়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত রুখতে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি ঘোলাটে করার যেকোনো ষড়যন্ত্র ঠেকাতে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। শ্রমিকদের আবেগ ও অসন্তোষকে পুঁজি করে কেউ যাতে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ করেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ এবং জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ সচেষ্ট। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প খাতে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। শিল্পকারখানায় উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশ ধরে রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে যেসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলো পূরণের বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।
রিপোর্টার নাম: 























